০৫:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২০৩৫ সালে মহাকাশ স্টেশন, ২০৪০ সালে চাঁদে ভারতীয় নভোচারী পাঠানোর লক্ষ্য স্থানীয় সরকার পুনর্গঠন স্থগিতের সিদ্ধান্তের পক্ষে রেনার, ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতিতে দেরিরও স্বীকারোক্তি ‘কৃষকের বন্ধু’ খেঁকশিয়াল কেন ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ থেকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেন এশিয়ার আর্থিক সংকট ডেকে না আনে থাইল্যান্ডের জ্বালানি নীতিতে এখনই বড় পরিবর্তন দরকার মায়ের পুরোনো জ্যাকেটেই ফিরল নতুন ফ্যাশনের ছাঁট চীনের স্থায়ী উৎপাদন বিপ্লব সৌদি সংযমের সীমা পরীক্ষা করছে হুতিরা ৯/১১-এর পরই শুরু হয়েছিল সেই উপন্যাসের গল্প স্যাক্সনি-আনহাল্টে আফডির বড় জয়, চীনের সঙ্গে জার্মানির নীতিতে কি বদল আসবে?

২০৩৫ সালে মহাকাশ স্টেশন, ২০৪০ সালে চাঁদে ভারতীয় নভোচারী পাঠানোর লক্ষ্য

ভারত ২০৩৫ সালের মধ্যে নিজস্ব মহাকাশ স্টেশন স্থাপন এবং ২০৪০ সালের মধ্যে একজন ভারতীয় নভোচারীকে চাঁদে পাঠানোর উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) প্যারিসে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক মহাকাশ সম্মেলনে ভিডিও বার্তার মাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার সময় এ ঘোষণা দেন।

মোদি বলেন, ভারতের দীর্ঘমেয়াদি মহাকাশ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য শুধু দেশের সক্ষমতা বৃদ্ধি নয়; এর সুফল যেন মানবজাতির বৃহত্তর অংশের কাছে পৌঁছে যায়, সেটিই তাদের প্রধান উদ্দেশ্য।

সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সময় ভারতের মহাকাশ অভিযানের সাম্প্রতিক সাফল্যগুলোর কথাও তুলে ধরেন মোদি। তিনি বলেন, চন্দ্রযান-৩ অভিযানের মাধ্যমে ভারত চাঁদের দক্ষিণ মেরুর কাছাকাছি অবতরণকারী বিশ্বের প্রথম দেশ হয়েছে। একই সঙ্গে সূর্যকে নিয়ে গবেষণার জন্য পাঠানো আদিত্য-এল১ অভিযান সূর্যের বিভিন্ন রহস্য উন্মোচনে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিচ্ছে।

মোদি আরও জানান, গত বছর একজন ভারতীয় নভোচারী আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনেও গিয়েছেন। এসব সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এবার আরও বড় লক্ষ্য নিয়ে এগোতে চায় ভারত।India to own space station by 2035, human moon landing by 2040: ISRO Chief

তিনি বলেন, “সামনের দিকে তাকিয়ে আমাদের লক্ষ্য ২০৩৫ সালের মধ্যে একটি ভারতীয় মহাকাশ স্টেশন প্রতিষ্ঠা করা এবং ২০৪০ সালের মধ্যে একজন ভারতীয়কে চাঁদে পাঠানো। এসব উদ্যোগে আমাদের নীতিটি স্পষ্ট—এর সুফল যেন সমগ্র মানবজাতির কাছে পৌঁছে যায়।”

ভারতের প্রধানমন্ত্রী মহাকাশকে নিরাপদ, সুরক্ষিত, শান্তিপূর্ণ ও টেকসই রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, মহাকাশ ব্যবস্থাপনায় আন্তর্জাতিক আইন, পারস্পরিক আলোচনা এবং বহুপক্ষীয় সহযোগিতাকে ভিত্তি হিসেবে রাখতে হবে।

মোদি সতর্ক করে বলেন, পৃথিবীর কক্ষপথে প্রযুক্তির ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। একই সঙ্গে সেখানে আরও শক্তিশালী প্রযুক্তি এবং আরও বেশি সংখ্যক রাষ্ট্র ও অন্যান্য অংশীজন যুক্ত হচ্ছে। ফলে ভবিষ্যতে মহাকাশ ব্যবহারের ক্ষেত্রে দেশগুলোর সিদ্ধান্ত আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

তার ভাষায়, মহাকাশে সংঘাতের বদলে সহযোগিতা, স্বল্পমেয়াদি লাভের বদলে টেকসই উন্নয়ন এবং কাউকে বাদ দেওয়ার বদলে অন্তর্ভুক্তিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

ভারতের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে আগামী দুই দশকে দেশটির মহাকাশ কর্মসূচি আরও বড় পরিসরে বিস্তৃত হবে। নিজস্ব মহাকাশ স্টেশন স্থাপনের পাশাপাশি চাঁদে মানব পাঠানোর লক্ষ্য ভারতকে মানব মহাকাশ অভিযানের ক্ষেত্রে বিশ্বের শীর্ষ দেশগুলোর কাতারে আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করার সুযোগ দেবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

২০৩৫ সালে মহাকাশ স্টেশন, ২০৪০ সালে চাঁদে ভারতীয় নভোচারী পাঠানোর লক্ষ্য

২০৩৫ সালে মহাকাশ স্টেশন, ২০৪০ সালে চাঁদে ভারতীয় নভোচারী পাঠানোর লক্ষ্য

০৪:৫৬:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভারত ২০৩৫ সালের মধ্যে নিজস্ব মহাকাশ স্টেশন স্থাপন এবং ২০৪০ সালের মধ্যে একজন ভারতীয় নভোচারীকে চাঁদে পাঠানোর উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) প্যারিসে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক মহাকাশ সম্মেলনে ভিডিও বার্তার মাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার সময় এ ঘোষণা দেন।

মোদি বলেন, ভারতের দীর্ঘমেয়াদি মহাকাশ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য শুধু দেশের সক্ষমতা বৃদ্ধি নয়; এর সুফল যেন মানবজাতির বৃহত্তর অংশের কাছে পৌঁছে যায়, সেটিই তাদের প্রধান উদ্দেশ্য।

সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সময় ভারতের মহাকাশ অভিযানের সাম্প্রতিক সাফল্যগুলোর কথাও তুলে ধরেন মোদি। তিনি বলেন, চন্দ্রযান-৩ অভিযানের মাধ্যমে ভারত চাঁদের দক্ষিণ মেরুর কাছাকাছি অবতরণকারী বিশ্বের প্রথম দেশ হয়েছে। একই সঙ্গে সূর্যকে নিয়ে গবেষণার জন্য পাঠানো আদিত্য-এল১ অভিযান সূর্যের বিভিন্ন রহস্য উন্মোচনে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিচ্ছে।

মোদি আরও জানান, গত বছর একজন ভারতীয় নভোচারী আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনেও গিয়েছেন। এসব সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এবার আরও বড় লক্ষ্য নিয়ে এগোতে চায় ভারত।India to own space station by 2035, human moon landing by 2040: ISRO Chief

তিনি বলেন, “সামনের দিকে তাকিয়ে আমাদের লক্ষ্য ২০৩৫ সালের মধ্যে একটি ভারতীয় মহাকাশ স্টেশন প্রতিষ্ঠা করা এবং ২০৪০ সালের মধ্যে একজন ভারতীয়কে চাঁদে পাঠানো। এসব উদ্যোগে আমাদের নীতিটি স্পষ্ট—এর সুফল যেন সমগ্র মানবজাতির কাছে পৌঁছে যায়।”

ভারতের প্রধানমন্ত্রী মহাকাশকে নিরাপদ, সুরক্ষিত, শান্তিপূর্ণ ও টেকসই রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, মহাকাশ ব্যবস্থাপনায় আন্তর্জাতিক আইন, পারস্পরিক আলোচনা এবং বহুপক্ষীয় সহযোগিতাকে ভিত্তি হিসেবে রাখতে হবে।

মোদি সতর্ক করে বলেন, পৃথিবীর কক্ষপথে প্রযুক্তির ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। একই সঙ্গে সেখানে আরও শক্তিশালী প্রযুক্তি এবং আরও বেশি সংখ্যক রাষ্ট্র ও অন্যান্য অংশীজন যুক্ত হচ্ছে। ফলে ভবিষ্যতে মহাকাশ ব্যবহারের ক্ষেত্রে দেশগুলোর সিদ্ধান্ত আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

তার ভাষায়, মহাকাশে সংঘাতের বদলে সহযোগিতা, স্বল্পমেয়াদি লাভের বদলে টেকসই উন্নয়ন এবং কাউকে বাদ দেওয়ার বদলে অন্তর্ভুক্তিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

ভারতের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে আগামী দুই দশকে দেশটির মহাকাশ কর্মসূচি আরও বড় পরিসরে বিস্তৃত হবে। নিজস্ব মহাকাশ স্টেশন স্থাপনের পাশাপাশি চাঁদে মানব পাঠানোর লক্ষ্য ভারতকে মানব মহাকাশ অভিযানের ক্ষেত্রে বিশ্বের শীর্ষ দেশগুলোর কাতারে আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করার সুযোগ দেবে।