প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শনিবার সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তিন মাসব্যাপী জাতীয় ডেঙ্গু প্রতিরোধ অভিযানের উদ্বোধন করেছেন। সকাল সাড়ে ৯টায় শুরু হওয়া কর্মসূচির নাম দেওয়া হয়েছে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন যৌথভাবে আয়োজন করে অনুষ্ঠানটি। দেশ যখন ডেঙ্গুর ভরা মৌসুমের মুখে দাঁড়িয়ে, তখনই এই আয়োজন।
অভিযানের স্লোগান দুটি সহজ ভাষায় রাখা হয়েছে। একটি বলছে নিজের চারপাশ পরিষ্কার রাখুন, সবাই সুস্থ থাকি। অন্যটি বলছে প্রতিদিন জমা পানি সরিয়ে ফেলুন। আয়োজকরা জানান, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রায় ২৫ হাজার স্বেচ্ছাসেবী ও কর্মী উপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে ছিলেন দুই সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মী, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর, গার্লস গাইড, স্কাউট ও বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সদস্যরা এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য ও সচিবরাও যোগ দেন। ৬৪ জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে যুক্ত হন অনলাইনে।

কর্মসূচি চলবে ১২ সেপ্টেম্বর থেকে ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত। এই তিন মাসকে ডেঙ্গুর উচ্চঝুঁকির সময় হিসেবে ধরা হয়েছে। সিটি, বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সমন্বিতভাবে কাজটি বাস্তবায়ন হবে। মহানগর এলাকায় সমন্বয় করবে সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন। জেলা পর্যায়ে দায়িত্ব পড়বে জেলা প্রশাসকদের ওপর। উপজেলায় স্থানীয় কার্যক্রম দেখভাল করবেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের স্বেচ্ছাসেবীরাও যুক্ত থাকবেন পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতার কাজে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হুসাইন, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিব রহমান, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, শিক্ষাসচিব আবদুল খালেক এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম। ইউএনবির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে থাকায় এই অভিযানের সিদ্ধান্ত হয়। সচিবালয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধ নিয়ে সাম্প্রতিক এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পরই কর্মসূচি চূড়ান্ত হয়।

ডেঙ্গু প্রতিরোধ অভিযানের সাফল্য শেষ পর্যন্ত নির্ভর করবে মাঠপর্যায়ের ধারাবাহিকতার ওপর। উদ্বোধনের দিন সংসদ ভবনের প্লাজায় যে ভিড় দেখা গেছে, ডিসেম্বরের শীতে গলির ভেতরের জমা পানির পাশে সেই একই উপস্থিতি থাকবে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















