০৭:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মূল্যস্ফীতি ও রাজনৈতিক চাপের মাঝে ফেডের সামনে সুদ বাড়ানোর কঠিন সিদ্ধান্ত স্কুলশিশুরা কেন দিন দিন কম মেধাবী হয়ে উঠছে? ডেমোক্র্যাটদের বিভক্তিই কি তাদের শক্তি? ট্রাম্পের ঐক্যবদ্ধ রিপাবলিকানদের নিয়ে নতুন প্রশ্ন মরিয়ম নওয়াজের সমালোচনার জবাব, ‘আসল বিষয় তার জনপ্রিয়তা’: মারিয়ম আওরঙ্গজেব ইচ্ছামৃত্যু বিল নাকচ করল যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট ২০ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্য টাং চি-হওয়ার করাচিতে ১৪-১৬ সেপ্টেম্বর বৃষ্টি ও বজ্রঝড়ের পূর্বাভাস আদানির বিদ্যুৎ কমার সময়েই তারেকের ভারত সফর বাতিল, কাকতালীয় নাকি অন্য কিছু? ব্রিকসের বিস্তারে গ্লোবাল সাউথে সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনা মেটা স্মার্ট চশমায় প্রকাশ্যে মানুষকে ধারণ: গোপনীয়তা কতটা নিরাপদ?

ফিলিপাইনের ফেরি অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৩৫, নিখোঁজ অর্ধশতাধিক

ফিলিপাইনের এমভি জুন অ্যাস্টার ফেরিতে অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৩৫ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে, নিখোঁজ রয়েছেন আরও পঞ্চাশজনের বেশি যাত্রী। ১৩০ জনেরও বেশি যাত্রী নিয়ে কোরনের উদ্দেশে বিশ ঘণ্টারও বেশি দীর্ঘ যাত্রা শেষ হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে ফেরিতে আগুন লাগে। যাত্রার প্রায় শেষ প্রান্তে পৌঁছে এমন দুর্ঘটনা যাত্রীদের জন্য পালানোর সময়ও প্রায় হাতে রাখেনি।

মেরিটাইম ইন্ডাস্ট্রি অথরিটি জানিয়েছে, বেঁচে যাওয়া যাত্রীদের বরাতে জানা গেছে আগুন লাগার ঠিক আগে জাহাজের ভেতর দুটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, শুরুতে সামান্য ধোঁয়া দেখা গেলেও কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই তা দ্রুত পুরো ফেরিতে ছড়িয়ে পড়ে দাউদাউ আগুনে রূপ নেয়। যাত্রীদের অনেকেই সাঁতরে বা লাইফ জ্যাকেট পরে পানিতে ঝাঁপ দিয়ে প্রাণ বাঁচান বলে জানা গেছে।

শুক্রবার আগুন নেভানোর পর দমকলকর্মীরা জাহাজে প্রবেশ করে মূলত ইকোনমি শ্রেণির যাত্রীদের অংশে বেশি মরদেহ পান। কোরন বন্দরে অস্থায়ী তাঁবু বসিয়ে ফরেনসিক শনাক্তকরণ কার্যক্রম শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। কোস্ট গার্ড কর্মকর্তা জেরোনিমো তুভিয়া বলেন, এই মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি কাজ হলো নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করা এবং আগুন লাগার কারণ নির্ণয় করা। ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের কাজও শুরু হয়েছে স্বজনদের সহায়তায়।

জাহাজের ক্যাপ্টেনের অবস্থান নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে, কর্তৃপক্ষ তাঁর বেঁচে থাকার আভাস দিলেও ৪৩ জনের বেঁচে যাওয়া যাত্রীর তালিকায় তাঁর নাম পাওয়া যায়নি। দ্বীপনির্ভর ফিলিপাইনে ফেরি দুর্ঘটনার এই পুনরাবৃত্তি ফের সামনে এনেছে অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা, যা নিয়ে দেশটির পরিবহন কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিন ধরেই সমালোচনার মুখে রয়েছে। হাজার হাজার দ্বীপ নিয়ে গঠিত এই দেশে ফেরিই এখনো বহু মানুষের যাতায়াতের প্রধান ভরসা, ফলে নৌপথের নিরাপত্তা ঘাটতি বারবার মানুষের প্রাণহানির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। দুর্ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত জাহাজ কোম্পানির বিরুদ্ধে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে।

কোরনের বন্দরে সারি সারি অস্থায়ী তাঁবুর নিচে এখনো অপেক্ষা করছেন স্বজনহারা মানুষ, যাদের কাছে প্রশ্নটা এখন একটাই, প্রিয়জনের নামটা কোন তালিকায় উঠবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মূল্যস্ফীতি ও রাজনৈতিক চাপের মাঝে ফেডের সামনে সুদ বাড়ানোর কঠিন সিদ্ধান্ত

ফিলিপাইনের ফেরি অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৩৫, নিখোঁজ অর্ধশতাধিক

০৫:০৬:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফিলিপাইনের এমভি জুন অ্যাস্টার ফেরিতে অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৩৫ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে, নিখোঁজ রয়েছেন আরও পঞ্চাশজনের বেশি যাত্রী। ১৩০ জনেরও বেশি যাত্রী নিয়ে কোরনের উদ্দেশে বিশ ঘণ্টারও বেশি দীর্ঘ যাত্রা শেষ হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে ফেরিতে আগুন লাগে। যাত্রার প্রায় শেষ প্রান্তে পৌঁছে এমন দুর্ঘটনা যাত্রীদের জন্য পালানোর সময়ও প্রায় হাতে রাখেনি।

মেরিটাইম ইন্ডাস্ট্রি অথরিটি জানিয়েছে, বেঁচে যাওয়া যাত্রীদের বরাতে জানা গেছে আগুন লাগার ঠিক আগে জাহাজের ভেতর দুটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, শুরুতে সামান্য ধোঁয়া দেখা গেলেও কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই তা দ্রুত পুরো ফেরিতে ছড়িয়ে পড়ে দাউদাউ আগুনে রূপ নেয়। যাত্রীদের অনেকেই সাঁতরে বা লাইফ জ্যাকেট পরে পানিতে ঝাঁপ দিয়ে প্রাণ বাঁচান বলে জানা গেছে।

শুক্রবার আগুন নেভানোর পর দমকলকর্মীরা জাহাজে প্রবেশ করে মূলত ইকোনমি শ্রেণির যাত্রীদের অংশে বেশি মরদেহ পান। কোরন বন্দরে অস্থায়ী তাঁবু বসিয়ে ফরেনসিক শনাক্তকরণ কার্যক্রম শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। কোস্ট গার্ড কর্মকর্তা জেরোনিমো তুভিয়া বলেন, এই মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি কাজ হলো নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করা এবং আগুন লাগার কারণ নির্ণয় করা। ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের কাজও শুরু হয়েছে স্বজনদের সহায়তায়।

জাহাজের ক্যাপ্টেনের অবস্থান নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে, কর্তৃপক্ষ তাঁর বেঁচে থাকার আভাস দিলেও ৪৩ জনের বেঁচে যাওয়া যাত্রীর তালিকায় তাঁর নাম পাওয়া যায়নি। দ্বীপনির্ভর ফিলিপাইনে ফেরি দুর্ঘটনার এই পুনরাবৃত্তি ফের সামনে এনেছে অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা, যা নিয়ে দেশটির পরিবহন কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিন ধরেই সমালোচনার মুখে রয়েছে। হাজার হাজার দ্বীপ নিয়ে গঠিত এই দেশে ফেরিই এখনো বহু মানুষের যাতায়াতের প্রধান ভরসা, ফলে নৌপথের নিরাপত্তা ঘাটতি বারবার মানুষের প্রাণহানির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। দুর্ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত জাহাজ কোম্পানির বিরুদ্ধে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে।

কোরনের বন্দরে সারি সারি অস্থায়ী তাঁবুর নিচে এখনো অপেক্ষা করছেন স্বজনহারা মানুষ, যাদের কাছে প্রশ্নটা এখন একটাই, প্রিয়জনের নামটা কোন তালিকায় উঠবে।