টাইফুন দুজুয়ানের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার আগেই জাপানের দিকে ধেয়ে আসছে নতুন শক্তিশালী টাইফুন ‘সুরিগায়ে’। বছরের ২৬তম নামযুক্ত ঝড়টি সোমবার ওকিনাওয়া প্রিফেকচার ও আমামি দ্বীপপুঞ্জের কাছে অবস্থান করছিল। পূর্বাভাস অনুযায়ী, এটি উত্তর-পূর্ব দিকে এগিয়ে ইজু দ্বীপপুঞ্জের কাছে পৌঁছানোর পর জাপানের কানতো অঞ্চলের দিকে অগ্রসর হতে পারে।
জাপান আবহাওয়া সংস্থা সুরিগায়েকে ‘অত্যন্ত শক্তিশালী টাইফুন’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর যৌথ টাইফুন সতর্কতা কেন্দ্র রোববার রাতে ঝড়টিকে ‘সুপার টাইফুন’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। গত সপ্তাহে ফিলিপাইনের পূর্বদিকে ঝড়টির সৃষ্টি হয়।
অত্যন্ত শক্তিশালী টাইফুনের সতর্কতা
জাপান আবহাওয়া সংস্থার হিসাবে, অত্যন্ত শক্তিশালী টাইফুনের সর্বোচ্চ বাতাসের গতি ঘণ্টায় ১৫৭ থেকে ১৯৪ কিলোমিটারের মধ্যে হতে পারে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ টাইফুন সতর্কতা কেন্দ্র ঘণ্টায় ২৪১ কিলোমিটারের বেশি গতির বাতাসকে সুপার টাইফুন হিসেবে বিবেচনা করে।
সুরিগায়ের সম্ভাব্য শক্তি গত সপ্তাহে জাপানে আঘাত হানা টাইফুন দুজুয়ানের সর্বোচ্চ শক্তির চেয়েও বেশি। জাপান আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটারের বেশি গতির বাতাস টেলিফোনের খুঁটি ও গাছ উপড়ে ফেলতে এবং ঘরবাড়ি ধ্বংস করতে পারে।
ওকিনাওয়া বর্তমানে সুরিগায়ের পূর্বাভাসিত গতিপথের সরাসরি মধ্যে না থাকলেও সেখানে বড় ঢেউ ও প্রবল বাতাসের বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।
দুজুয়ানের ক্ষত শুকানোর আগেই নতুন ঝড়
পূর্বাভাস অনুযায়ী, সুরিগায়ে শুরুতে পূর্ব-উত্তরপূর্ব দিকে এগিয়ে জাপান থেকে কিছুটা দূরে সরে যেতে পারে। পরে এটি ইজু দ্বীপপুঞ্জের কাছে পৌঁছে টোকাই ও কানতো অঞ্চলের দিকে অগ্রসর হতে পারে। বৃহস্পতিবারের দিকে স্থলভাগে পৌঁছানোর সময় ঝড়টি দুর্বল হয়ে তীব্র ক্রান্তীয় ঝড়ে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে দুর্বল হলেও ঝড়টির বাতাস ক্ষয়ক্ষতি ঘটানোর মতো শক্তিশালী থাকতে পারে। এতে স্বাভাবিকভাবে হাঁটা ও গাড়ি চালানো কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
সুরিগায়ের সম্ভাব্য গতিপথ এমন একটি অঞ্চলের দিকে, যা এখনও টাইফুন দুজুয়ানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠছে। দুজুয়ানে চিবা, মিয়াজাকি ও কানাগাওয়া প্রিফেকচারে অন্তত ১০ জন নিহত হন। ভূমিধসে শত শত বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চিবা প্রিফেকচারে বন্যায় পানির উচ্চতা রেকর্ড ছাড়িয়ে যায় এবং কৃষিখাতেও ব্যাপক ক্ষতি হয়।
ঝড়ের সময় বহু সড়ক ও গণপরিবহন ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যায়। হাজার হাজার পরিবার পানির সরবরাহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। সোমবারও প্রায় ৪৭০টি পরিবার পানির সংকটে ছিল।
বৃষ্টিপাতেও নতুন রেকর্ডের শঙ্কা
জাপানের ভূমি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে পশ্চিম ও পূর্ব জাপানে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি হতে পারে। এতে চলতি মাসে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাতের পরিস্থিতি আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সেপ্টেম্বরে কানতো-কোশিন অঞ্চলে এরই মধ্যে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে। ২১ সেপ্টেম্বর টাইফুন দুজুয়ানের প্রভাবে ২৪ ঘণ্টায়ও রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টি হয়।
টোকিওতেও বৃষ্টির ধারাবাহিকতা নতুন রেকর্ডের দ্বারপ্রান্তে। সোমবার ছিল টানা ৩৩তম বৃষ্টির দিন, যা ২০১৯ সালের গ্রীষ্মে গড়া রেকর্ডের সমান। আগামী কয়েক দিনও টোকিওতে বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। ফলে মঙ্গলবার বৃষ্টির এই ধারাবাহিকতা নতুন রেকর্ড গড়তে পারে।












