পাকিস্তানের সিন্ধু অঞ্চলের ইতিহাস শুধু রাজা-বাদশাহ, যুদ্ধ কিংবা রাজনৈতিক ঘটনাবলির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এই অঞ্চলের মানুষের জীবন, ভালোবাসা, ত্যাগ, বীরত্ব ও দানশীলতার নানা গল্পও শত শত বছর ধরে লোককাহিনি, গান, কবিতা এবং চিত্রকলার মাধ্যমে টিকে আছে। এসব গল্পের অনেকগুলো আবার প্রাচীন সমাধিসৌধের দেয়ালে আঁকা হয়েছে।
সিন্ধুর কালহোরা ও তালপুর আমলের বেশ কিছু সমাধিসৌধে এমন দেয়ালচিত্র দেখা যেত। এসব চিত্রে সাসুই-পুনহুন, সুহনি-মেহার, লীলা-চানেসার, লায়লা-মজনু, মুমল-রানো, উমর-মারভি, নুরি-জাম তামাচি এবং সোরঠ-রাই দিয়াচ ও বিজলের মতো জনপ্রিয় লোককাহিনি তুলে ধরা হয়েছে।
এই কাহিনিগুলো শুধু বিনোদনের জন্য ছিল না। এগুলোর মধ্য দিয়ে সে সময়ের মানুষের মূল্যবোধ, ভালোবাসা, সামাজিক সম্পর্ক, শোক, সাহস ও আত্মত্যাগের ধারণাও ফুটে উঠেছে। কামবার-শাহদাদকোট, দাদু, নওয়াবশাহ ও সাংঘর জেলার বিভিন্ন সমাধিসৌধে এসব লোককাহিনির চিত্র পাওয়া যেত।
হারিয়ে যাওয়া সমাধিসৌধের দেয়ালে লোককাহিনি
সিন্ধুর কালহোরা আমল ছিল ১৭০০ থেকে ১৭৮৩ সাল পর্যন্ত। এরপর ১৭৮৩ থেকে ১৮৪৩ সাল পর্যন্ত ছিল তালপুর আমল। এই দুই সময়ের বিভিন্ন সমাধিসৌধে লোককাহিনির দৃশ্য আঁকার একটি বিশেষ ঐতিহ্য গড়ে ওঠে।
এর মধ্যে জামালি সম্প্রদায়ের সমাধিসৌধগুলো ছিল উল্লেখযোগ্য। এসব সমাধির দেয়ালে শুধু প্রেমের গল্প নয়, যুদ্ধ, সামাজিক জীবন, উৎসব ও দৈনন্দিন জীবনের নানা দৃশ্যও আঁকা হয়েছিল। সমাধিতে শায়িত কয়েকজন ব্যক্তি কালহোরা শাসকদের অধীনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছিলেন বলে ধারণা করা হয়।
এই সমাধিসৌধগুলোর অনেকগুলো এখন আর নেই। ২০১০ সালের ভয়াবহ বন্যায় জামালি সমাধিসৌধগুলোর বেশ কয়েকটি ধসে পড়ে। ফলে দেয়ালে আঁকা বহু গুরুত্বপূর্ণ চিত্রও হারিয়ে যায়।
তবে হারিয়ে যাওয়ার আগে এসব চিত্র নথিবদ্ধ করেছিলেন গবেষক ও লেখকরা। লেখক ২০০২ সালে শাহদাদকোটের সাংবাদিক ও ইতিহাসবিদ প্রয়াত কমরেড ওয়ালি মুহাম্মদ মাংঘানহারের সঙ্গে প্রথম জামালি সমাধিসৌধ পরিদর্শন করেন। পরে ২০০৪, ২০০৫, ২০০৬, ২০০৭ ও ২০০৯ সালেও সেখানে গিয়ে চিত্রগুলো পর্যবেক্ষণ ও নথিবদ্ধ করেন।
২০১০ সালের বন্যার পর সেই পুরোনো ছবি ও মাঠপর্যায়ের নোটই এখন ওই হারিয়ে যাওয়া শিল্প ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে রয়ে গেছে।
গ্রামীণ মানুষের জীবনের গল্পও ছিল দেয়ালচিত্রে
সিন্ধুর গ্রামীণ সমাধিসৌধের দেয়ালচিত্রগুলোকে শুধু ধর্মীয় স্থাপনার অলংকার হিসেবে দেখলে ভুল হবে। এগুলোর মধ্যে সে সময়ের সমাজ ও সংস্কৃতির অনেক তথ্য লুকিয়ে আছে।
আঠারো ও উনিশ শতকের সিন্ধুর গ্রামীণ মানুষ লোককাহিনি শুনতে ও বলতে ভালোবাসত। প্রেম, বিচ্ছেদ, বীরত্ব, আত্মত্যাগ এবং মানুষের নানা আবেগ নিয়ে তৈরি এসব গল্প ছিল তাদের বিনোদনের বড় একটি মাধ্যম।
শিল্পীরা সেই গল্পগুলোই দেয়ালে এঁকে রাখতেন। ফলে একটি লোককাহিনি শুধু মানুষের মুখে মুখে নয়, ছবি হিসেবেও প্রজন্মের পর প্রজন্ম টিকে থাকার সুযোগ পেত।
সেসব দেয়ালচিত্রে বাদ্যযন্ত্র বাজানো, নাচ, বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান, ধর্মীয় ও সামাজিক আচার, যুদ্ধ এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের দৃশ্যও দেখা যেত। দাদুর গারহি ছিল এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ লোকচিত্রের কেন্দ্র, যেখানে কালহোরা আমলের সামাজিক ও রাজনৈতিক জীবনের নানা দৃশ্য শিল্পীরা তুলে ধরেছিলেন।

রাই দিয়াচ ও বিজলের কাহিনি
সিন্ধুর সবচেয়ে পরিচিত লোককাহিনিগুলোর একটি হলো সোরঠ, রাই দিয়াচ ও বিজলের গল্প। এই কাহিনির কেন্দ্রে রয়েছে দানশীলতা, প্রতিশ্রুতি এবং আত্মত্যাগ।
কিংবদন্তি অনুযায়ী, রাই দিয়াচ ছিলেন ঝুনাগড়ের একজন উদার রাজা। কেউ তার কাছে সাহায্য চাইলে তিনি তাকে খালি হাতে ফিরিয়ে দিতেন না। তার কাছে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কাহিনির আরেক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র বিজল। তিনি ছিলেন রাই দিয়াচের বোনের ছেলে। বিজলের জন্মের পর এক সাধু ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে একদিন এই শিশুই রাই দিয়াচের মৃত্যুর কারণ হবে। সেই ভবিষ্যদ্বাণীর কারণে বিজলকে ছোটবেলায় পরিত্যাগ করা হয়।
পরে একজন বংশীবাদক ও তার স্ত্রী বিজলকে লালন-পালন করেন। বড় হয়ে বিজল অসাধারণ একজন সংগীতশিল্পী হয়ে ওঠেন। তার বাজানো সুর এতটাই মুগ্ধকর ছিল যে মানুষ ও প্রাণী পর্যন্ত তার সংগীতে আকৃষ্ট হতো বলে কিংবদন্তিতে বলা হয়েছে।
কাহিনিতে সোরঠের ভূমিকা
এই গল্পের আরেক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র সোরঠ। তিনি রাই দিয়াচের রাজ্যের একজন কুমার রত্ন কুম্ভারের কাছে বেড়ে ওঠেন।
রাজা আনি রাই সোরঠকে বিয়ে করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু রাই দিয়াচ সেই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে সোরঠকে নিজেই বিয়ে করেন।
এতে আনি রাই অপমানিত ও ক্ষুব্ধ হন। তিনি রাই দিয়াচের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এরপর ঘোষণা দেওয়া হয়—যে ব্যক্তি রাই দিয়াচের মাথা এনে দিতে পারবে, তাকে বিপুল সম্পদ পুরস্কার দেওয়া হবে।
এরপর গল্পে প্রবেশ করেন বিজল।
বিজল ঝুনাগড়ে গিয়ে নিজের সংগীত দিয়ে রাই দিয়াচকে মুগ্ধ করেন। রাই দিয়াচ তার সংগীতে এতটাই খুশি হন যে তাকে বলেন, তিনি যা চাইবেন, সেটিই দেওয়া হবে।
বিজল তখন এমন একটি দাবি করেন, যা শুনে সবাই স্তম্ভিত হয়ে যায়। তিনি রাই দিয়াচের মাথা চান।
রাই দিয়াচ চাইলে নিজের কথা ফিরিয়ে নিতে পারতেন। কিন্তু কিংবদন্তি অনুযায়ী, তিনি তা করেননি। নিজের দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষার জন্য তিনি নিজের জীবন উৎসর্গ করেন এবং নিজের মাথা বিজলের হাতে তুলে দেন।
রাই দিয়াচের মৃত্যুর পর সোরঠ গভীর শোকে তার চিতায় প্রবেশ করেন। আর নিজের কাজের পরিণতিতে অনুতপ্ত বিজলও শেষ পর্যন্ত সেই আগুনে ঝাঁপ দেন।
কেন এই গল্প এত গুরুত্বপূর্ণ?
রাই দিয়াচের গল্প সত্যিকার কোনো ঐতিহাসিক ঘটনার ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছিল কি না, তা নিশ্চিত নয়। এটি পুরোপুরি লোককথার জগতের অংশও হতে পারে।
তবে গল্পটির প্রভাব নিয়ে সন্দেহ নেই। সিন্ধুর কবি, লোককথক ও শিল্পীরা বহু বছর ধরে এই কাহিনি নিজেদের মতো করে তুলে ধরেছেন।
গল্পটির সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো প্রতিশ্রুতি ও দানশীলতা। রাই দিয়াচ এমন একজন শাসক হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছেন, যিনি নিজের জীবন দিয়েও দেওয়া কথা রাখেন।
কবিরা তাকে নিয়ে কবিতা লিখেছেন। লোকশিল্পীরা তার গল্পকে দেয়ালচিত্রে রূপ দিয়েছেন। বিজলের বাদ্যযন্ত্র বাজানো, রাই দিয়াচের সংগীত শোনা, সোরঠের শোক এবং শেষ পর্যন্ত রাই দিয়াচের নিজের মাথা তুলে দেওয়ার মতো দৃশ্যগুলো সমাধির দেয়ালে আলাদা আলাদা অংশে আঁকা হয়েছে।
জামালি সমাধিতে জীবন্ত হয়ে উঠেছিল কিংবদন্তি
শাহদাদকোট তালুকায় জামালি সম্প্রদায়ের পাঁচটি সমাধিসৌধ ছিল। এর মধ্যে তিনটিতে মানুষের অবয়বসহ বিভিন্ন চিত্র আঁকা হয়েছিল।
মীর সোবদার জামালির সমাধি শাহদাদকোট থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার দক্ষিণে ছিল। সেখানে মীর সোবদার জামালি ও ভাই খান জামালির দুটি সমাধি ছিল। ধারণা করা হয়, মীর সোবদার কালহোরা শাসকদের অধীনে কাজ করেছিলেন।
আরেকটি সমাধি ছিল শাকাল খান জামালির। এটি শাহদাদকোট থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত ছিল। তৃতীয়টি ছিল রেহান খান জামালির সমাধি, যা শাহদাদকোট থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে একই নামের একটি গ্রামে ছিল।
এই তিনটি সমাধিতেই সোরঠ, রাই দিয়াচ ও বিজলের কাহিনি আঁকা হয়েছিল।
মীর সোবদার জামালির সমাধিতে কাহিনিটি সবচেয়ে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছিল। দক্ষিণ দেয়ালে দেখা যায়, প্রাসাদের বাইরে বসে বিজল সুরান্দো নামের তারবাদ্য বাজাচ্ছেন।
প্রাসাদের ভেতরে ছিলেন রাই দিয়াচ, তার স্ত্রী সোরঠ এবং একজন দাসী।
বিজলের সুর শুনে রাই দিয়াচ তাকে ডেকে পাঠান এবং বলেন, সে যা চাইবে তাই দেওয়া হবে। বিজল তখন তার মাথা দাবি করেন।
এরপর ছবিতে রাই দিয়াচকে নিজের তরবারি দিয়ে মাথা কাটতে এবং তা বিজলের হাতে তুলে দিতে দেখা যায়। রাজাকে খাটের ওপর বসা অবস্থায় দেখানো হয়েছিল। এই উপস্থাপনার মাধ্যমে স্থানীয় জীবনের একটি পরিচিত দৃশ্যও চিত্রে যুক্ত হয়েছিল।
সোরঠের শোকও ফুটে উঠেছিল ছবিতে
রাই দিয়াচের মৃত্যুর পর সোরঠ ও তার দাসীকে শোক করতে দেখা যায়। তারা দুজনই কাঁদছিলেন এবং চুল টানছিলেন।
সিন্ধু সমাজে গভীর শোক প্রকাশের একটি প্রচলিত ভঙ্গি ছিল চুল টানা। তাই সোরঠের এই ভঙ্গি শুধু ব্যক্তিগত দুঃখ নয়, সেই সময়ের সামাজিক সংস্কৃতিরও একটি চিত্র তুলে ধরে।
শিল্পীর আঁকা মানুষের অবয়ব খুব নিখুঁত ছিল না। কিন্তু তার লক্ষ্য ছিল সৌন্দর্যের নিখুঁত ছবি আঁকা নয়, বরং গল্পটি দর্শকের কাছে পরিষ্কার করে তুলে ধরা। ফলে ছবির প্রতিটি চরিত্রের চেয়ে ঘটনাটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল।
একই গল্প, ভিন্নভাবে আঁকা
রেহান খান জামালির সমাধিতে একই গল্প অন্যভাবে তুলে ধরা হয়েছিল।
সেখানে পাঁচজন চরিত্রকে প্রাসাদের বাইরে দেখানো হয়। রাই দিয়াচ নিজের বিচ্ছিন্ন মাথা বিজলের হাতে তুলে দিচ্ছেন। তার অন্য হাতে ছিল একটি ছুরি।
সোরঠ দাঁড়িয়ে ছিলেন রাই দিয়াচের পেছনে। অন্যদিকে বিজলকে রাজার দিকে না তাকিয়ে দুই নারীর সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়।
ধারণা করা হয়, ওই নারীরা সোরঠের দাসী ছিলেন। তারা হয়তো বিজলকে রাই দিয়াচের মাথার বদলে অন্য কিছু নিতে বোঝাচ্ছিলেন। তাদের একজনের হাতে একটি থালা ছিল, যেখানে অর্থ বা সম্পদ রাখা হয়েছিল বলে মনে হয়।
কিন্তু বিজল তাতে রাজি হননি।
এই দৃশ্যের মধ্য দিয়ে শিল্পী মূলত রাই দিয়াচের প্রতিশ্রুতি ও দানশীলতার বিষয়টি তুলে ধরেছেন। অন্য কোনো পুরস্কার গ্রহণ না করে বিজলকে নিজের মাথা দেওয়ার সিদ্ধান্তই হয়ে উঠেছে গল্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।

শাকাল খান জামালির সমাধিতেও একই কাহিনি
শাকাল খান জামালির সমাধিতেও রাই দিয়াচের বিচ্ছিন্ন মাথা তুলে দেওয়ার একটি দৃশ্য ছিল।
এই ছবিতে রাই দিয়াচকে খাটের ওপর বসে বিজলকে নিজের মাথা দিতে দেখা যায়। বিজল প্রাসাদের দরজার কাছে বসে সুরান্দো বাজাচ্ছেন। আর প্রাসাদের ভেতরে সোরঠ ও দাসী রাই দিয়াচের মৃত্যুতে শোক করছেন।
এই ছবিটি মীর সোবদার জামালির সমাধির চিত্রের সঙ্গে অনেকটাই মিল ছিল। তবে এর মান তুলনামূলকভাবে দুর্বল বলে মনে করা হয়। এটি হয়তো এমন একটি সময়ের চিত্র, যখন দেয়ালচিত্রের শিল্পীরা আগের মতো পৃষ্ঠপোষকতা পাচ্ছিলেন না।
হারিয়ে গেলেও গল্পটি রয়ে গেছে
সিন্ধুতে সাম্মা আমল থেকেই চিত্রকলার একটি শক্তিশালী ঐতিহ্য ছিল। কালহোরা আমলে তা আরও বিকশিত হয় এবং তালপুর আমলেও এই ধারা চলতে থাকে।
সে সময়ের শিল্পীরা মানুষের কাছে জনপ্রিয় লোককাহিনিগুলোকে সমাধির দেয়ালে তুলে ধরতেন। ফলে একটি গল্প শুধু কবিতা বা মুখে মুখে বলা কথার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকত না; তা স্থায়ীভাবে একটি ছবির অংশ হয়ে যেত।
জামালি সমাধিগুলোর রাই দিয়াচ ও বিজলের চিত্রগুলো এই দিক থেকে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সিন্ধুর অন্য কোনো চিত্রিত সমাধিতে এই কাহিনি একইভাবে পাওয়া গেছে কি না, তা জানা নেই।
এই চিত্রগুলোর শিল্পীরা মানুষের মুখ বা শরীরের নিখুঁত সৌন্দর্য দেখানোর চেয়ে গল্প বলাকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। রাই দিয়াচ, সোরঠ, বিজল ও অন্য চরিত্রগুলো সহজভাবে আঁকা হলেও গল্পের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো পরিষ্কার ছিল।
অর্থাৎ, এসব দেয়ালচিত্র ছিল এক ধরনের দৃশ্যমান গল্প। একটি দেয়ালেই যেন কবিতা, লোককাহিনি ও ইতিহাস একসঙ্গে কথা বলত।
আজ সেই সমাধিসৌধগুলোর অনেকগুলো নেই। ২০১০ সালের বন্যায় জামালি সমাধিগুলোর গুরুত্বপূর্ণ অংশ ধ্বংস হয়ে গেছে। কিন্তু পুরোনো ছবি, গবেষকদের নোট এবং লিখিত বর্ণনা সেই হারিয়ে যাওয়া শিল্পের স্মৃতি ধরে রেখেছে।
রাই দিয়াচের কাহিনিও তাই শুধু একজন কিংবদন্তি রাজার গল্প নয়। এটি পাকিস্তানের সিন্ধুর লোকসংস্কৃতিতে দানশীলতা, প্রতিশ্রুতি, ভালোবাসা ও আত্মত্যাগের এক শক্তিশালী প্রতীক হয়ে আছে।












