মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি আরও বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট তার স্ট্রাইক গ্রুপ নিয়ে অঞ্চলটির দিকে রওনা হয়েছে। সঙ্গে যাচ্ছে মাকিন আইল্যান্ড উভচর দল ও ১৩তম মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিট। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এতে প্রায় ১০ হাজার নাবিক ও মেরিন সেনা যুক্ত হবে। শুধু রুজভেল্টের স্ট্রাইক গ্রুপেই আছেন প্রায় ৬ হাজার নাবিক। ইরানের সঙ্গে আলোচনা থমকে যাওয়ার মধ্যেই এই মোতায়েনের খবর এল।
রুজভেল্ট গত ২৭ সেপ্টেম্বর ক্যালিফোর্নিয়ার সান দিয়েগো থেকে যাত্রা শুরু করে। এটি অঞ্চলটিতে থাকা ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটনের জায়গা নেবে বলে জানা গেছে। ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশও সেখানে অবস্থান করছে। রুজভেল্টের সঙ্গে আছে একটি যুদ্ধবিমান বহর, একটি ডেস্ট্রয়ার স্কোয়াড্রন ও একটি ক্ষেপণাস্ত্রবাহী ক্রুজার। এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, নভেম্বরের শেষ নাগাদ ইরানের চারপাশে তিনটি বিমানবাহী রণতরী ও দুটি উভচর দল থাকতে পারে। তাঁর ভাষায়, এতে নেতাদের হাতে ইরান মোকাবিলার অনেক বিকল্প থাকবে। কূটনৈতিক অঙ্গনেও পরিস্থিতি জটিল। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, সপ্তাহান্তে ইরানি ও কাতারি মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে বৈঠকে অগ্রগতি হয়নি। এরপর সোমবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর নির্দেশে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির প্রতিনিধিদলকে নিউইয়র্ক ছাড়তে বলা হয়।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের প্রস্তাব দেওয়ার খবরও অস্বীকার করেছেন। ফলে ইরানের সঙ্গে আলোচনা কার্যত অচল। ফেব্রুয়ারির ২৮ তারিখে শুরু হওয়া যুদ্ধ এখন অষ্টম মাসে গড়িয়েছে। ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপও বাড়ছে। এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত প্রথম দফা অবরোধের পর জুলাইয়ে আবার মার্কিন নৌ অবরোধ শুরু হয়। এতে দেশটির তেল রপ্তানি কার্যত বন্ধ। ইরানি নেতৃত্ব ভাবছে, দীর্ঘ অবরোধ তাদের অর্থনীতি সইতে পারবে কি না। অন্যদিকে ইরানি সামরিক কমান্ডাররা বড় ধরনের পাল্টা জবাবের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে খবর এসেছে। সেই প্রস্তুতির পরিসর হরমুজ প্রণালি থেকে অঞ্চলের বাইরের মার্কিন স্বার্থ পর্যন্ত বিস্তৃত। ইরানের সঙ্গে আলোচনা আবার শুরু না হলে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বাংলাদেশের জন্য এই সংঘাতের প্রভাব সরাসরি। দেশের জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের বড় অংশ আসে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে। হরমুজ ঘিরে উত্তেজনা বাড়লে আমদানি খরচ ও জাহাজভাড়া দুটিই বাড়ে। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ও কুয়েতে কাজ করেন লাখ লাখ বাংলাদেশি। তাঁদের নিরাপত্তা ও আয়ের সঙ্গে দেশের প্রবাসী আয় সরাসরি যুক্ত। বড় সামরিক অভিযান বা হামলা হলে উপসাগরের আকাশপথ ও বন্দরেও বিঘ্ন ঘটতে পারে। সার ও শিল্পের কাঁচামালের আমদানিও একই পথের ওপর নির্ভরশীল।
মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ডের হিসাবে অবরোধ আবার শুরুর পর থেকে ১২২টি বাণিজ্যিক জাহাজকে গতিপথ বদলাতে বাধ্য করা হয়েছে। তৃতীয় রণতরী পৌঁছালে এই নজরদারি আরও কড়া হবে। এক মার্কিন মুখপাত্র জানিয়েছেন, মার্কিন বাহিনীর পাহারায় কিছু জাহাজ এখনো হরমুজ পার হচ্ছে। ইরানের সঙ্গে আলোচনা থেমে থাকলেও সমুদ্রপথের এই লড়াই থেমে নেই। আলোচনার টেবিল খালি থাকায় সমুদ্রে এখন ১২২টি জাহাজের সেই সংখ্যাই যুদ্ধের গতিপথের সবচেয়ে স্পষ্ট মাপকাঠি।












