যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে আড়াই লাখের বেশি ভিসা বাতিল করা হয়েছে। ভিসার শর্ত ভঙ্গ বা অপরাধে জড়িত বিদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি দপ্তরটির। একই সময়ে ১ অক্টোবর থেকে কার্যকর হয়েছে মার্কিন অভিবাসন নীতির বেশ কিছু বড় পরিবর্তন। নতুন অর্থবছরের শুরুতে এসব পরিবর্তন গ্রিন কার্ড আবেদনকারী ও ভিসাধারীদের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে। দুটি খবর একই দিনে আসায় বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রগামী বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও পরিবারগুলোর জন্যও প্রশ্ন উঠেছে, নতুন নিয়ম তাঁদের ওপর কী প্রভাব ফেলবে।
পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট আড়াই লাখের বেশি ভিসা বাতিল হওয়াকে ঐতিহাসিক মাইলফলক বলে বর্ণনা করেছেন। তাঁর ভাষ্য, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর নেতৃত্বে মার্কিন জনগণকে সুরক্ষা দেওয়ার অঙ্গীকার থেকেই এই কড়াকড়ি। দপ্তরের ঘোষণায় আশ্রয়প্রার্থনা ও সন্তান জন্মদানের উদ্দেশ্যে ভ্রমণের প্রসঙ্গও এসেছে। পর্যটন ও ব্যবসায়িক ভিসার অপব্যবহার নিয়েও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। তবে কোন দেশের কতজনের ভিসা বাতিল হয়েছে, সেই বিস্তারিত হিসাব প্রকাশ করা হয়নি। ফলে কোন দেশের নাগরিকেরা বেশি প্রভাবিত, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
নতুন অভিবাসন নিয়মে দুই ধরনের পরিবর্তন একসঙ্গে এসেছে। একদিকে কিছু বিদেশি নাগরিকের ক্ষেত্রে যাচাই ও আইন প্রয়োগ আরও কঠোর হয়েছে। সরকারি স্বাস্থ্যসেবা নেওয়া কিছু অনাগরিকের সুবিধাতেও পরিবর্তন এসেছে। অন্যদিকে নতুন অর্থবছরের শুরুতে কয়েকটি গ্রিন কার্ড ক্যাটাগরি আবার খুলেছে বা এগিয়েছে। ফলে কারও জন্য পথ কিছুটা সহজ হলেও অনেকের জন্য অনিশ্চয়তা বেড়েছে। আবেদনকারীদের তাই প্রতিটি কাগজপত্র হালনাগাদ রাখা আগের চেয়ে বেশি জরুরি। কড়াকড়ি আর সুযোগ, দুটিই একসঙ্গে চলছে মার্কিন অভিবাসনব্যবস্থায়। নতুন নিয়মের পূর্ণ প্রভাব বুঝতে কয়েক মাস লেগে যেতে পারে।
বাংলাদেশের জন্য এই খবর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি কারণে। প্রতিবছর হাজার হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যান। গত কয়েক বছরে এই সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে। ব্যবসা ও পর্যটনের জন্যও প্রতিবছর বহু বাংলাদেশি মার্কিন ভিসার আবেদন করেন। পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসায়ও বহু বাংলাদেশি অপেক্ষায় আছেন। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের প্রবাসী আয়েরও একটি বড় উৎস। এত বেশি ভিসা বাতিলের প্রেক্ষাপটে শিক্ষার্থীদের ক্লাসে উপস্থিতি, খণ্ডকালীন কাজের সীমা ও ঠিকানা বদলের তথ্য জানানোর মতো নিয়ম মানা আরও জরুরি হয়ে পড়ে। ছোট একটি শর্ত ভঙ্গও এখন বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ভিসার আবেদনে দেওয়া তথ্যের সঙ্গে বাস্তব কাগজপত্রের মিল রাখাও তাই গুরুত্বপূর্ণ। গ্রিন কার্ডের অপেক্ষায় থাকা পরিবারগুলোকেও নতুন নিয়মের খুঁটিনাটি নজরে রাখতে হবে।
পরিসংখ্যানটির তুলনাও লক্ষণীয়। আড়াই লাখের বেশি ভিসা বাতিল মানে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রতিটি দিনে গড়ে কয়েক শ ভিসা বাতিল হয়েছে। যে দিন এই সংখ্যা ঘোষণা হলো, সেদিনই শুরু হলো দেশটির নতুন অর্থবছর এবং নতুন নিয়ম। মার্কিন অভিবাসন নীতির কড়াকড়ির দিকটি তাই আর ঘোষণায় সীমাবদ্ধ নেই। পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখে উচ্চারিত আড়াই লাখ সংখ্যাটিই এখন সেই নীতির সবচেয়ে স্পষ্ট পরিমাপ। নিয়ম মেনে চলা শিক্ষার্থী ও কর্মীদের জন্য পথ বন্ধ হয়নি, তবে ভুলের সুযোগ অনেক কমেছে।












