২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে বড় আকারের হামলার মধ্য দিয়ে বর্তমান যুদ্ধ শুরু হয়। প্রথম দফার অভিযানে ইরানের সামরিক অবকাঠামো, ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা, নেতৃত্ব ও পারমাণবিক কর্মসূচিকে লক্ষ্য করা হয়। তেহরান বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়ে। কিন্তু রাষ্ট্রীয় কাঠামো টিকে থাকে এবং পাল্টা হামলার সক্ষমতাও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। একই সময়ে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে ইরানের কৌশলগত গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
৭ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। পরে সেই যুদ্ধবিরতি অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য বাড়ানো হয়। ১৭ জুন দুই দেশ একটি অন্তর্বর্তী সমঝোতায় পৌঁছায়, যার লক্ষ্য ছিল যুদ্ধের অবসান এবং বৃহত্তর সমঝোতার জন্য আলোচনা চালিয়ে যাওয়া। কিন্তু সেই সমঝোতাও কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ভেঙে পড়ে। ৭ জুলাই যুক্তরাষ্ট্র আবার ইরানে বড় আকারের হামলা শুরু করে এবং পরদিন ওয়াশিংটন জানায়, আগের সমঝোতা আর কার্যকর নেই।
অর্থাৎ ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া সংঘাতটি সরল ধারাবাহিক যুদ্ধ ছিল না; এর মধ্যে এপ্রিলের যুদ্ধবিরতি, জুনের সমঝোতা এবং জুলাইয়ে পুনরায় বড় আকারের সামরিক অভিযান—সবই ঘটেছে। সেপ্টেম্বরের শেষেও নতুন যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা চলছিল, কিন্তু স্থায়ী সমাধান হয়নি।

সাবেক ব্রিটিশ গোয়েন্দাপ্রধান স্যার অ্যালেক্স ইয়ংগারের মূল্যায়ন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ যতটা সহজ হবে বলে ধারণা করেছিল, বাস্তবে তা হয়নি। তাঁর মতে, যুদ্ধের আগে সামরিক সক্ষমতা ছড়িয়ে দেওয়া এবং অস্ত্র ব্যবহারের কর্তৃত্ব বিকেন্দ্রীকরণের ফলে ব্যাপক বিমান হামলার পরও ইরানের প্রতিরোধক্ষমতা দ্রুত অচল করা যায়নি।
‘দ্রুত পতন’ থেকে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত
চ্যাথাম হাউসের ২০২৬ সালের জুলাইয়ের এক বিশ্লেষণেও একই প্রশ্ন উঠে এসেছে। তখন প্রায় পাঁচ মাস ধরে সংঘাত চলছিল। প্রতিষ্ঠানটির মতে, সামরিক অভিযানের পর যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের প্রাথমিক রাজনৈতিক লক্ষ্যগুলো প্রত্যাশিতভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। যুদ্ধের ফল শুধু কতটি লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস হয়েছে তা দিয়ে নয়, অভিযান যে রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনের জন্য শুরু হয়েছিল, তা অর্জিত হয়েছে কি না—সেটিও বিবেচনায় নিতে হয়।
তবে এর অর্থ এই নয় যে ইরান অক্ষত রয়েছে। দেশটির সামরিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামোতে বড় আঘাত এসেছে, জ্বালানি ও বাণিজ্য প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে এবং দীর্ঘ সংঘাত অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়িয়েছে। সামরিক ক্ষয়ক্ষতি অবশ্য রাষ্ট্রের রাজনৈতিক পতনের সমার্থক নয়।
নেতৃত্বে আঘাত, তবু রাষ্ট্রীয় কাঠামো টিকে আছে
যুদ্ধের প্রথম পর্যায়ে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব ও সামরিক কাঠামোকে লক্ষ্য করা ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কৌশলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এর উদ্দেশ্য ছিল কমান্ড কাঠামো দুর্বল করা এবং দ্রুত রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা তৈরি করা।
কিন্তু পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ দেখিয়েছে, ইরানের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো সম্পূর্ণভাবে অচল হয়নি।
চ্যাথাম হাউসের সেপ্টেম্বরের বিশ্লেষণে মোহসেন মিলানি লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের অর্থনৈতিক দুর্বলতা, বিমান প্রতিরক্ষার ক্ষয় এবং আঞ্চলিক মিত্রদের দুর্বলতা যথাযথভাবে চিহ্নিত করলেও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, অভিজাত রাজনৈতিক কাঠামো এবং বিদেশি হামলার পর জাতীয়তাবাদী প্রতিক্রিয়ার মাত্রাকে কম করে দেখেছিল।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। ইরানের অভ্যন্তরে সরকারবিরোধী অসন্তোষ থাকলেও বিদেশি সামরিক অভিযানের ফলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সরকার পরিবর্তনের পক্ষে জনসমর্থন তৈরি হবে—এমন সরল সমীকরণ বাস্তবে কাজ করেনি।

সামরিক সক্ষমতা: ধ্বংস হয়েছে, কিন্তু পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন নয়
ইরানের প্রতিরোধক্ষমতার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক সামরিক সক্ষমতা।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমানশক্তি ও নির্ভুল আঘাত হানার ক্ষমতার সঙ্গে ইরানের প্রচলিত সামরিক শক্তির তুলনা করা যায় না। কিন্তু অসম যুদ্ধে শক্তির হিসাব শুধু যুদ্ধবিমান বা নৌযানের সংখ্যা দিয়ে নির্ধারিত হয় না।
ছড়িয়ে থাকা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা, বিকল্প কমান্ড কাঠামো এবং দ্রুত আক্রমণের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ব্যবস্থা বড় সামরিক শক্তির জন্য নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
ওয়াশিংটন পোস্টের মার্চের এক বিশ্লেষণে যুদ্ধকে ‘সহনশীলতার পরীক্ষা’ হিসেবে দেখা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, ব্যাপক হামলার পরও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। সংঘাত দীর্ঘ হওয়ায় অর্থনীতি, জ্বালানি, নৌপথ ও রাজনৈতিক সহনশীলতার প্রশ্নও ক্রমে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
অর্থাৎ যুদ্ধের হিসাব বদলে গেছে—‘কে বেশি শক্তিশালী’ থেকে প্রশ্নটি এখন দাঁড়িয়েছে, ‘কে কতদিন চাপ সহ্য করতে পারবে’।
হরমুজ: ইরানের বড় কৌশলগত হাতিয়ার
ইরানের সামরিক সক্ষমতার পাশাপাশি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সম্পদ হরমুজ প্রণালি।
ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী এই সরু সামুদ্রিক পথ দিয়ে পারস্য উপসাগরের তেল ও গ্যাস বিশ্বের বাজারে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের হিসাবে, ২০২৫ সালের প্রথমার্ধে হরমুজ দিয়ে দৈনিক গড়ে প্রায় ২০ দশমিক ৯ মিলিয়ন ব্যারেল তেল পরিবাহিত হয়েছে, যা বৈশ্বিক পেট্রোলিয়াম তরল জ্বালানি ব্যবহারের প্রায় ২০ শতাংশ। প্রণালিটি বন্ধ হলে বিকল্প পাইপলাইন দিয়ে এর সামান্য অংশই সরিয়ে নেওয়া সম্ভব।
আইআইএসএসের জুনের বিশ্লেষণেও হরমুজকে সীমিত বিকল্পসম্পন্ন একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত জলপথ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। স্বাভাবিক সময়ে আন্তর্জাতিকভাবে বাণিজ্য হওয়া তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের এক-তৃতীয়াংশের বেশি এই প্রণালির সঙ্গে যুক্ত।
ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি নৌ বা বিমান শক্তির প্রতিযোগিতায় সমান অবস্থানে নেই। কিন্তু এমন একটি জলপথের পাশে অবস্থান করছে, যার ওপর এশিয়া, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা নির্ভরশীল। এখানেই ভূগোল ইরানকে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সুবিধা দেয়।

যুদ্ধ যখন বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটে পরিণত হয়
হরমুজের গুরুত্ব শুধু সামরিক নয়; এর প্রভাব সরাসরি বিশ্ব অর্থনীতিতে পড়ে।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার ২০২৬ সালের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সংঘাতের সময় হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় থেমে যাওয়ায় বিশ্ব তেলবাজারের ইতিহাসে অন্যতম বড় সরবরাহ বিঘ্ন তৈরি হয়। সাধারণ সময়ে প্রতিদিন প্রায় ১৫ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল এবং ৫ মিলিয়ন ব্যারেল পরিশোধিত পণ্য এই পথ দিয়ে যেত। সরবরাহ কমে যাওয়ায় অপরিশোধিত তেলের দাম ১০০ ডলারের ওপরে উঠে যায় এবং ডিজেল, উড়োজাহাজের জ্বালানি ও এলপিজির বাজারেও চাপ তৈরি হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে হরমুজ দিয়ে তেল প্রবাহ দৈনিক গড়ে ৪ দশমিক ৯ মিলিয়ন ব্যারেলে নেমে আসে। ২০২৫ সালের একই সময়ে এই প্রবাহ ছিল প্রায় ২১ মিলিয়ন ব্যারেল।
ফলে ইরানকে ঘিরে যুদ্ধের প্রভাব দেশটির ভূখণ্ডের বাইরে ছড়িয়ে পড়ে। তেলবাজার, জাহাজ চলাচল, বিমা, পরিবহন ব্যয়, উৎপাদন খরচ এবং বিভিন্ন দেশের মূল্যস্ফীতিতেও এর প্রভাব পড়ে।
‘সামরিক জয়’ আর ‘রাজনৈতিক ফল’ এক নয়
এখানেই সংঘাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত প্রশ্ন।
একটি দেশ বিপুল সংখ্যক সামরিক লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করতে পারে, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল করতে পারে এবং প্রতিপক্ষের সামরিক অবকাঠামোর বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। কিন্তু এসব আঘাত যদি প্রতিপক্ষের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত পরিবর্তন না করে, সরকারকে আলোচনায় না আনে কিংবা কাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক রূপান্তর ঘটাতে না পারে, তাহলে সামরিক সাফল্য ও রাজনৈতিক ফলাফলের মধ্যে ব্যবধান থেকে যায়।
চ্যাথাম হাউসের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ইরানের বড় ধরনের সামরিক ক্ষয়ক্ষতি সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ঘোষিত কিছু বৃহত্তর কৌশলগত লক্ষ্য পূরণ হয়নি।
আইআইএসএসও সতর্ক করেছে, সংঘাতের ফল এমন হতে পারে যেখানে একাধিক পক্ষ নিজেদের বিজয় দাবি করলেও সামগ্রিকভাবে আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো আরও দুর্বল হয়ে পড়ে।
তাই যুদ্ধের ফলাফল শুধু সামরিক ক্ষয়ক্ষতির হিসাব দিয়ে বোঝা যায় না।

অর্থনৈতিক চাপই ইরানের বড় পরীক্ষা
ইরানের স্থিতিস্থাপকতার পাশাপাশি অর্থনৈতিক চাপও গুরুত্বপূর্ণ।
দীর্ঘ যুদ্ধ, নিষেধাজ্ঞা, তেল রপ্তানিতে বাধা, অবকাঠামোগত ক্ষতি, বাণিজ্যিক যোগাযোগের বিঘ্ন এবং অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক দুর্বলতা দীর্ঘমেয়াদে রাষ্ট্রের সক্ষমতাকে সীমিত করতে পারে।
রয়টার্সের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরান সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপের মধ্যেও প্রতিরোধ চালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। একই সঙ্গে দীর্ঘ সংঘাত অর্থনীতি ও অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার ওপর চাপ বাড়াচ্ছে।
তাই ইরানের টিকে থাকার প্রশ্নটি শুধু সামরিক নয়। প্রতিরোধের অর্থনৈতিক মূল্য কতদিন বহন করা সম্ভব, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
জাতীয়তাবাদ বনাম অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ
ইরানের সামাজিক বাস্তবতাও জটিল।
দেশটিতে সরকারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের অসন্তোষ, অর্থনৈতিক সমস্যা ও রাজনৈতিক বিরোধিতা রয়েছে। কিন্তু বিদেশি সামরিক আক্রমণ সেই অসন্তোষকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সরকারবিরোধী বিদ্রোহে রূপ নেবে—এমন ধারণার পক্ষে সরল প্রমাণ নেই।
চ্যাথাম হাউসের বিশ্লেষণে বিদেশি হামলার পর জাতীয়তাবাদী প্রতিক্রিয়াকে ইরানের রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতার একটি কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এর অর্থ এই নয় যে ইরানের সমাজ ঐক্যবদ্ধ বা সরকারের প্রতি সর্বসম্মত সমর্থন রয়েছে। বরং বিদেশি সামরিক হস্তক্ষেপ এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিরোধিতাকে একই সমীকরণে ফেলা বিভ্রান্তিকর হতে পারে।
হরমুজের সংকটের অর্থ বাংলাদেশের মতো দেশের জন্যও কী?
হরমুজে অস্থিরতার প্রভাব সরাসরি বা পরোক্ষভাবে আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ওপর পড়ে।
বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়লে জ্বালানি আমদানির ব্যয় বাড়ে। এর সঙ্গে পরিবহন, বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পের কাঁচামাল এবং খাদ্যপণ্যের সরবরাহ ব্যয়ের ওপরও চাপ তৈরি হতে পারে।
আইইএ বলছে, হরমুজ সংকট শুধু অপরিশোধিত তেলের বাজারে নয়, ডিজেল, জেট ফুয়েল ও এলপিজির মতো পরিশোধিত পণ্যের বাজারেও বড় চাপ সৃষ্টি করেছে।
বাংলাদেশের মতো জ্বালানি ও শিল্পের কাঁচামালের একটি বড় অংশ আমদানির ওপর নির্ভরশীল অর্থনীতির জন্য তাই মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক সংঘাত কেবল পররাষ্ট্রনীতি বা নিরাপত্তার খবর নয়; এটি মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় ও আমদানি ব্যয়ের সঙ্গেও যুক্ত।

সামনে কী?
২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়ে এপ্রিলের যুদ্ধবিরতি ও জুনের সমঝোতার পর ৭ জুলাই পুনরায় বড় আকারের সামরিক অভিযান শুরু হওয়া এই সংঘাতের বড় শিক্ষা হলো, সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব ও রাজনৈতিক ফলাফলের মধ্যে সবসময় সরাসরি সম্পর্ক থাকে না। সেপ্টেম্বরের শেষেও যুদ্ধবিরতি নিয়ে নতুন আলোচনা চলেছে, কিন্তু স্থায়ী সমাধান হয়নি।
ইরান বড় ধরনের সামরিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়েছে। একই সময়ে রাষ্ট্রীয় কাঠামো ধরে রেখেছে, পাল্টা আঘাতের কিছু সক্ষমতা বজায় রেখেছে এবং হরমুজকে এমন এক কৌশলগত চাপের কেন্দ্রে পরিণত করেছে, যার প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের সীমানা ছাড়িয়ে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে পৌঁছেছে।
আইআইএসএসের মূল্যায়নে হরমুজে নৌ চলাচল পুনরায় পুরোপুরি স্বাভাবিক করা সামরিকভাবে অত্যন্ত জটিল। জাতিসংঘও পূর্ণ নৌ চলাচল পুনঃস্থাপন এবং কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে।
ফলে ইরানের স্থিতিস্থাপকতাকে শুধু সামরিক শক্তির গল্প হিসেবে দেখা যায় না। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, বিকেন্দ্রীভূত সামরিক সক্ষমতা, ভূগোল, জ্বালানি বাজার, জাতীয়তাবাদ, অর্থনৈতিক সহনশীলতা এবং দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের রাজনৈতিক খরচ।
যুদ্ধের শুরুতে প্রশ্ন ছিল—ইরান কত দ্রুত দুর্বল হবে। এখন প্রশ্ন হলো, কতটা ক্ষয়ক্ষতির পরও একটি রাষ্ট্র তার রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও প্রতিরোধক্ষমতা ধরে রাখতে পারে এবং সেই প্রতিরোধের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মূল্য কতদূর পর্যন্ত বহন করা সম্ভব?
এই প্রশ্নের উত্তরই শেষ পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কৌশলগত ফলাফল বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।












