দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাই ফ্লাইটে প্রধান পাইলটের ওপর হামলাকারী সহকারী পাইলট সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনা করছিলেন বলে জানিয়েছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের অ্যাটর্নি জেনারেল হামাদ সাইফ আল শামসি। শনিবার দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার বরাতে তার এ বক্তব্য প্রকাশ পায়। ফ্লাইদুবাই ককপিট হামলার প্রাথমিক তদন্তে এমন তথ্য মিলেছে বলে জানান তিনি।
অ্যাটর্নি জেনারেলের ভাষ্য, সহকারী পাইলট ককপিটের জরুরি কুড়াল দিয়ে প্রধান পাইলটকে আঘাত করেন এবং বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন। আহত অবস্থাতেও ভারতীয় প্রধান পাইলট স্মিত মাচ্ছার ককপিটের দরজা খুলে দেন। এরপর যাত্রী ও ক্রুরা হামলাকারীকে কাবু করেন। বিমানটি পরে সৌদি আরবে জরুরি অবতরণ করে।
বিভিন্ন প্রতিবেদনে হামলাকারীকে ওমানের নাগরিক হামাম আল-হাম্মামি হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। চরমপন্থী মতাদর্শের আশঙ্কায় ওমান কর্তৃপক্ষ আগেই তাকে বিমান চালাতে নিষেধ করেছিল বলে খবর বেরিয়েছে। একই কারণে গত বছর তাকে ওমানের জাতীয় বিমান সংস্থার চাকরি থেকে সরানো হয়েছিল বলেও দাবি করা হয়েছে। তিনি কিছু সময় সিরিয়ায় কাটিয়েছিলেন বলেও জানা গেছে।
দুবাইয়ের যুবরাজ ও আমিরাতের উপপ্রধানমন্ত্রী শেখ হামদান বিন মোহাম্মদ হাসপাতালে গিয়ে পাইলট স্মিতকে দেখে এসেছেন। তিনি তাকে সাহস ও দায়িত্ববোধের দৃষ্টান্ত বলে প্রশংসা করেছেন। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তাকে সম্মানিত অতিথি হিসেবে ইসরায়েলে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ার করেছেন, এ ঘটনায় ইরানের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে ইরানে কঠোর আঘাত হানা হবে।
দুবাইভিত্তিক ফ্লাইদুবাই ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন রুটে নিয়মিত ফ্লাইট চালায়। উপসাগরীয় দেশগুলোতে কর্মরত লাখো বাংলাদেশির যাতায়াতে এ ধরনের এয়ারলাইনের ভূমিকা বড়। তাই ফ্লাইদুবাই ককপিট হামলার পর পাইলট যাচাই ও ককপিট নিরাপত্তা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তা বাংলাদেশি যাত্রীদের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ।











