পাকিস্তানের কাসুর জেলার বেদিয়ান সেক্টরে আন্তর্জাতিক সীমান্তে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের গুলিতে দুই পাকিস্তানি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরেকজন। শুক্রবারের এ ঘটনায় শনিবার ইসলামাবাদে ভারতের ভারপ্রাপ্ত কূটনৈতিক প্রধানকে তলব করে কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বিএসএফের গুলিতে পাকিস্তানি নিহতের এ ঘটনায় দুই দেশের সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
পাকিস্তান বলছে, বিএসএফ নিরস্ত্র বেসামরিক মানুষের ওপর বিনা উসকানিতে প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগ করেছে। নিহতদের অনুপ্রবেশকারী হিসেবে দেখানোর যেকোনো চেষ্টা দেশটি প্রত্যাখ্যান করেছে। পাকিস্তানের ভাষ্য, তিনজনই লাধার গ্রামের বাসিন্দা। সীমান্ত পিলার থেকে কয়েক পা এগোতেই কোনো সতর্কতা ছাড়া তাদের ওপর গুলি চালানো হয়। নিহত দুজনের নাম আজমত রসুল ও মহসিন জাট বলে জানা গেছে।
পাকিস্তান অবিলম্বে স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা ও আইনি ব্যবস্থা এবং তদন্তের ফল আনুষ্ঠানিকভাবে জানানোর দাবি জানিয়েছে। ঘটনাটিকে জীবনের অধিকারসহ মৌলিক মানবাধিকারের গুরুতর লঙ্ঘন বলেছে দেশটি। ভারতীয় পক্ষের বিবরণে অবশ্য নিহতদের অনুপ্রবেশকারী বলা হচ্ছে। সেই বিবরণ অনুযায়ী, তারা তরণ তারণ সেক্টর দিয়ে ভারতে ঢোকার চেষ্টা করছিলেন।
বাংলাদেশের মানুষের কাছে বিএসএফের গুলির খবর নতুন নয়। বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তেও বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশিদের মৃত্যুর ঘটনা বারবার আলোচনায় আসে। সীমান্তে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার না করার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দাবি ঢাকা দীর্ঘদিন ধরে জানিয়ে আসছে। পাকিস্তান সীমান্তের এ ঘটনা সেই পুরোনো প্রশ্নকেই আবার সামনে আনল।
সিন্ধু পানি চুক্তি ভারত স্থগিত রাখায় দুই দেশের সম্পর্ক এমনিতেই উত্তপ্ত। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ গত সপ্তাহে জাতিসংঘে বলেছেন, পাকিস্তানের পানি সরিয়ে নেওয়া যুদ্ধের শামিল হবে। এর মধ্যে বিএসএফের গুলিতে পাকিস্তানি নিহতের ঘটনা দক্ষিণ এশিয়ার দুই পারমাণবিক শক্তির মধ্যে আস্থার সংকট আরও গভীর করল।











