সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের মধ্যে কয়েক বছরের বিরতির পর শুরু হওয়া সংঘাত দ্রুতই বড় আকার নিচ্ছে। শনিবার সৌদি রাজধানী রিয়াদের দক্ষিণে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল কোম্পানি আরামকোর একটি স্থাপনায় হামলা চালানোর দাবি করেছে হুতিরা। একই সময়ে ইয়েমেনের রাজধানী সানায় ব্যাপক সৌদি বিমান হামলার অভিযোগ উঠেছে। দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যেই সৌদি আরব ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূল ও বাব আল-মান্দাব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে পশ্চিমা ও উপসাগরীয় কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে খবর এসেছে।
রিয়াদের দক্ষিণে আরামকোর একটি স্থাপনার কাছে শনিবার আগুন ও ঘন ধোঁয়া দেখা যায়। সেখানে অগ্নিনির্বাপক দলকে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করতে দেখা গেছে। ঘটনাস্থলের আশপাশে অ্যাম্বুলেন্স ও পুলিশের গাড়িও মোতায়েন ছিল। তবে আগুনের সঠিক কারণ সম্পর্কে সৌদি কর্তৃপক্ষ বা আরামকো তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেয়নি। ফলে হুতিদের দাবি অনুযায়ী ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলাতেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়নি।
পরে হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেন, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে রিয়াদের একটি আরামকো স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, হামলায় লক্ষ্যবস্তুতে সরাসরি আঘাত লাগে এবং সেখানে আগুন ধরে যায়। হুতিরা এটিকে ইয়েমেনে সৌদি হামলার জবাব হিসেবে তুলে ধরেছে।
এর বিপরীতে ইয়েমেনে হুতিদের নিয়ন্ত্রিত রাজধানী সানায় সৌদি হামলার খবর পাওয়া গেছে। হুতি-সমর্থিত আল-মাসিরাহ টেলিভিশনের দাবি, শনিবার সৌদি যুদ্ধবিমান সানায় ২৬টি হামলা চালিয়েছে। শহরে থাকা সংবাদকর্মীরাও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা এবং যুদ্ধবিমান থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার কথা জানিয়েছেন। তবে হামলার লক্ষ্যবস্তু, ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের সংখ্যা নিয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
এই পাল্টাপাল্টি হামলা এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন ইয়েমেনের যুদ্ধক্ষেত্রে গত কয়েক সপ্তাহে নাটকীয় পরিবর্তন এসেছে। ২০২২ সালের জাতিসংঘ-সমর্থিত যুদ্ধবিরতির পর দীর্ঘ সময় বড় ধরনের সংঘর্ষ এড়িয়ে চললেও জুলাই থেকে পরিস্থিতি আবার দ্রুত অবনতির দিকে যায়। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি হুতিরা লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী মোখা এবং বাব আল-মান্দাব প্রণালির কৌশলগত কিছু দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবি করে। এর ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
কেন বাব আল-মান্দাব এত গুরুত্বপূর্ণ
বাব আল-মান্দাব প্রণালি ইয়েমেন ও আফ্রিকার জিবুতি-ইরিত্রিয়া উপকূলের মাঝখানে অবস্থিত একটি সরু জলপথ। লোহিত সাগর হয়ে সুয়েজ খাল এবং ভূমধ্যসাগরের সঙ্গে ভারত মহাসাগরীয় বাণিজ্যপথকে যুক্ত করে এই প্রণালি। বিশ্বের জ্বালানি ও পণ্য পরিবহনের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
হুতিদের হাতে এই পথের নিয়ন্ত্রণ শক্তিশালী হলে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি, লোহিত সাগরের বাণিজ্য এবং ইউরোপমুখী জ্বালানি সরবরাহ—সবকিছুর ওপরই তাদের চাপ তৈরির সুযোগ বাড়বে। এ কারণেই রিয়াদ এখন শুধু ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ ভূখণ্ডের লড়াই হিসেবে বিষয়টিকে দেখছে না। বরং এটিকে নিজেদের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত একটি কৌশলগত সংকট হিসেবে বিবেচনা করছে।
বড় পাল্টা অভিযানের প্রস্তুতি
সৌদি আরব ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকার হুতিদের পশ্চিম উপকূল থেকে সরিয়ে বাব আল-মান্দাবের ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ ভাঙতে বড় ধরনের পাল্টা অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে। কয়েকজন পশ্চিমা কূটনীতিক ও উপসাগরীয় কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি নেতৃত্ব মনে করছে বাব আল-মান্দাব হুতিদের নিয়ন্ত্রণে থাকলে তাদের সঙ্গে নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনায় বসা অত্যন্ত কঠিন হবে।
অভিযানের সময় নিয়ে এখনো নিশ্চিত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধারণা, এটি আগামী কয়েক দিনের মধ্যে শুরু হতে পারে, আবার যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর পর্যন্তও পিছিয়ে যেতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রকে এই অভিযানে সরাসরি বিমান হামলায় অংশ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে সৌদি আরব। কিন্তু এখন পর্যন্ত ওয়াশিংটন সেই অনুরোধ গ্রহণ করেনি। এর আগে সেপ্টেম্বরেও সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান হুতিদের বিরুদ্ধে মার্কিন হামলার জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে অনুরোধ করেছিলেন বলে খবর প্রকাশিত হয়েছিল। ট্রাম্প তখন সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপে রাজি হননি।
তবে যুক্তরাষ্ট্র পুরোপুরি নিষ্ক্রিয়ও নেই। সৌদি আরবকে গোয়েন্দা তথ্য ও লক্ষ্য নির্ধারণে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে বলে মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে খবর এসেছে। একই সময়ে সৌদি ও কাতারের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো রক্ষায় অতিরিক্ত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উপস্থিতিও বাড়ানো হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
তাইজ এখন যুদ্ধের কেন্দ্র
ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের তাইজও নতুন সংঘাতের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। শহরটির ভৌগোলিক অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাইজ নিয়ন্ত্রণে এলে উত্তর ও দক্ষিণ ইয়েমেনের মধ্যে যোগাযোগ এবং পশ্চিম উপকূলের বিভিন্ন এলাকার ওপর প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি হবে।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে তাইজ প্রদেশে ব্যাপক বিমান হামলা ও স্থলযুদ্ধ হয়েছে। ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের বাহিনী এক পর্যায়ে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে হুতিদের অবস্থান লক্ষ্য করে ২০টি বিমান হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে। সরকারি বাহিনীর দাবি, এসব হামলায় হুতিদের যোদ্ধা, যানবাহন ও সামরিক সরঞ্জাম লক্ষ্য করা হয়।
এরপর আরও বড় পরিসরে অভিযান চালানোর দাবিও এসেছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাইজ ও তোর আল-বাহা ফ্রন্টে হুতিদের শক্তিবৃদ্ধি ঠেকাতে ৯৭টি লক্ষ্যভিত্তিক সামরিক অভিযান চালানো হয়েছে। ইয়েমেন সরকারের একজন সামরিক মুখপাত্র দাবি করেছেন, এসব অভিযানে শত শত হুতি যোদ্ধা হতাহত হয়েছে এবং বহু সামরিক যান ধ্বংস বা অচল হয়েছে। তবে এসব সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
আরামকোতে বারবার হামলা, বাড়ছে জ্বালানি উদ্বেগ
সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোকে হুতিরা এখন তাদের পাল্টা হামলার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হিসেবে দেখছে। এর আগে ইয়ানবুতেও আরামকোর স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালানোর দাবি করেছিল হুতিরা। সৌদি আরব সে সময় জানায়, ছয়টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বাধা দেওয়া হয়েছে এবং আরামকোর স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
রিয়াদের দক্ষিণে সর্বশেষ আগুনের ঘটনা তাই বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সৌদি আরব বিশ্বের অন্যতম বড় তেল উৎপাদক দেশ এবং আরামকোর স্থাপনাগুলো দেশটির অর্থনীতির কেন্দ্রীয় অবকাঠামোর অংশ। বড় কোনো তেল স্থাপনায় সফল হামলা হলে শুধু সৌদি আরব নয়, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।
তবে এখন পর্যন্ত রিয়াদের সর্বশেষ আগুনে সৌদি তেল উৎপাদন বা রপ্তানি কার্যক্রম কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তার কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
সংঘাতের শুরু কোথা থেকে
ইয়েমেনে চলমান যুদ্ধের শিকড় ২০১৪ সালে, যখন হুতিরা রাজধানী সানা দখল করে এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে দক্ষিণের এডেনে সরে যেতে বাধ্য করে। পরের বছর সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনে সামরিক অভিযান শুরু করে। দীর্ঘ যুদ্ধের পর ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়।
সেই যুদ্ধবিরতি পুরোপুরি রাজনৈতিক শান্তিতে রূপ নেয়নি, কিন্তু বড় আকারের সীমান্ত হামলা ও বিমান হামলা অনেকটাই কমে যায়। কয়েক বছর ধরে পরিস্থিতি তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকার পর জুলাইয়ে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এরপর ধীরে ধীরে তা আবার পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের দিকে এগোতে শুরু করে।
নতুন সংঘাতের সঙ্গে ইরান ও সৌদি আরবের আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিষয়টিও জড়িয়ে আছে। হুতিরা ইরানের সমর্থন পায় বলে সৌদি আরব ও তার মিত্ররা অভিযোগ করে। অন্যদিকে হুতিরা নিজেদের ইয়েমেনের স্বাধীন রাজনৈতিক ও সামরিক শক্তি হিসেবে তুলে ধরে।
মানবিক সংকট আরও গভীর
সামরিক সংঘাত যত বাড়ছে, সবচেয়ে বড় মূল্য দিতে হচ্ছে ইয়েমেনের সাধারণ মানুষকে। দেশটি এমনিতেই বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী মানবিক সংকটগুলোর একটি মোকাবিলা করছে। নতুন লড়াইয়ের কারণে হাজার হাজার পরিবার বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়েছে। সাম্প্রতিক কয়েক মাসে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা এক লাখেরও বেশি বেড়েছে বলে বিভিন্ন মানবিক সংস্থার তথ্য ও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
খাদ্য সংকটও দ্রুত তীব্র হচ্ছে। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির সতর্কতা অনুযায়ী, ইয়েমেনের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ মানুষ তাদের মৌলিক খাদ্য চাহিদা পূরণ করতে পারছে না। যুদ্ধের কারণে খাদ্য সরবরাহ, পরিবহন এবং বাজারব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তাইজ ও পশ্চিম উপকূলের লড়াইয়ে শুধু সামরিক স্থাপনা নয়, মানুষের চলাচলের পথ ও বাণিজ্যিক যোগাযোগও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। স্কুল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, শিশুরা পড়াশোনা ছেড়ে কাজে যেতে বাধ্য হচ্ছে এবং বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলো ক্রমেই অনিশ্চিত জীবনযাপনে ঠেলে যাচ্ছে।
ওয়াশিংটনের সামনে কঠিন সিদ্ধান্ত
ইয়েমেনের পরিস্থিতি এখন যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও নতুন কৌশলগত প্রশ্ন তৈরি করেছে। একদিকে সৌদি আরবের নিরাপত্তা এবং লোহিত সাগরে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল নিরাপদ রাখা ওয়াশিংটনের গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থ। অন্যদিকে ইরানকে ঘিরে বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্য সংকটের মধ্যে ইয়েমেনে সরাসরি সামরিকভাবে জড়িয়ে পড়লে নতুন একটি যুদ্ধক্ষেত্র তৈরি হতে পারে।
এই কারণেই সৌদি আরবের অনুরোধ সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত সরাসরি হুতিদের বিরুদ্ধে বড় আকারের বিমান অভিযান শুরু করেনি। তবে পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যাচ্ছে।
শুক্রবার ক্যাম্প ডেভিডে ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা ইয়েমেন ও ইরান নিয়ে একটি গোপন বৈঠক করেছেন বলে খবর এসেছে। বৈঠকটি আগে থেকে প্রকাশ্যে ঘোষণা করা হয়নি। এতে ইয়েমেনের সম্ভাব্য সামরিক অভিযানসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিস্তৃত নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
সামনে কী
রিয়াদের তেল স্থাপনায় হামলার দাবি এবং সানায় পাল্টা বিমান হামলা দেখিয়ে দিচ্ছে, ২০২২ সালের যুদ্ধবিরতির পর ইয়েমেন যে অস্থির ভারসাম্যের মধ্যে ছিল, তা কার্যত ভেঙে পড়েছে। এখন সংঘাতের কেন্দ্র শুধু ইয়েমেনের ভেতরে সীমাবদ্ধ নেই; সৌদি আরবের তেল অবকাঠামো, লোহিত সাগরের জাহাজ চলাচল এবং বাব আল-মান্দাবের নিয়ন্ত্রণও এর অংশ হয়ে উঠেছে।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, সৌদি আরব শেষ পর্যন্ত কতটা বড় সামরিক অভিযান চালাবে এবং যুক্তরাষ্ট্র সেই অভিযানে কতটা সহায়তা করবে। যদি হুতিরা সৌদি জ্বালানি অবকাঠামো ও লোহিত সাগরের নৌপথে হামলা বাড়ায় এবং রিয়াদ পাল্টা পশ্চিম উপকূলে বড় স্থল ও বিমান অভিযান শুরু করে, তাহলে ইয়েমেনের যুদ্ধ আবারও একটি দীর্ঘস্থায়ী আঞ্চলিক সংঘাতে পরিণত হতে পারে।
আর তার সবচেয়ে বড় ঝুঁকি শুধু যুদ্ধক্ষেত্রে নয়—জ্বালানি বাজার, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং ইতোমধ্যে বিপর্যস্ত ইয়েমেনের কোটি কোটি মানুষের জীবনেও।












