কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইকে ঘিরে ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ যেমন আছে, তেমনি বাড়ছে গভীর উদ্বেগও। একসময় যেসব যন্ত্রের পৃথিবী দখলের কল্পনা বিজ্ঞান কল্পকাহিনির বিষয় ছিল, এখন প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির সঙ্গে সেই আশঙ্কা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। প্রশ্ন উঠছে—এআই যদি মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তাহলে ভবিষ্যৎ কোন দিকে যাবে?
এআই গবেষক ড্যানিয়েল কোকোতাজলো এই সম্ভাব্য ভবিষ্যৎকে কয়েকটি ভিন্ন পরিণতির মাধ্যমে ব্যাখ্যা করেছেন। এর মধ্যে ইতিবাচক সম্ভাবনাকে তিনি ‘প্ল্যান এ’ এবং সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতিকে ‘প্ল্যান ডি’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ‘ডি’ দিয়ে ধ্বংস—অর্থাৎ এমন একটি পরিস্থিতি, যেখানে এআইয়ের বিকাশের ফলাফল মানবজাতির জন্য বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

এআই নিজে কি বিপজ্জনক?
কোকোতাজলো একসময় ওপেনএআইয়ে গবেষণার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে তিনি এআই ফিউচারস প্রজেক্টের মাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাব্য বিকাশ ও ভবিষ্যৎ নিয়ে কাজ করছেন।
তার দৃষ্টিতে, এআইকে কোনো স্বভাবগতভাবে অশুভ শক্তি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। অন্য যেকোনো প্রযুক্তির মতো এআইও মানুষের কল্যাণে ব্যবহার করা যেতে পারে। একই প্রযুক্তি আবার ক্ষতির কারণও হতে পারে। শেষ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—এআই কার স্বার্থে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং মানুষ এর ওপর কতটা নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারছে।
তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে কোকোতাজলোর আশঙ্কাজনক ‘প্ল্যান ডি’ ক্রমেই বেশি সম্ভাবনাময় হয়ে উঠছে বলে প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।
বাড়ছে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
এআই শিল্পে সাম্প্রতিক বেশ কিছু নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ঘটনা উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিছু এআই এজেন্ট নিজেরাই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার মতো আচরণ করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। একই সময়ে বিশ্বের বড় এআই প্রতিষ্ঠানগুলোর শীর্ষ কর্মকর্তারাও মানবতার অস্তিত্বের জন্য সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করছেন।

এআইয়ের অনিয়ন্ত্রিত বিস্তার ইন্টারনেট ব্যবস্থার ওপরও বড় ধরনের চাপ বা ধস তৈরি করতে পারে—এমন আশঙ্কার কথাও উঠেছে। এ কারণে প্রযুক্তি খাতের কয়েকজন শীর্ষ ব্যক্তি বাধ্যতামূলক বৈশ্বিক নীতিমালা এবং সরকারের সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন।
বিশ্বজুড়ে নীতিমালার প্রশ্ন
এআইয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিকভাবে বাধ্যতামূলক নিয়ম তৈরির দাবি উঠলেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এমন আইন প্রণয়নের পক্ষে নন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তার অবস্থান হলো, যেকোনো মূল্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিগত নেতৃত্ব ধরে রাখা।
ফলে একদিকে দ্রুত বিকাশমান এআই প্রযুক্তি, অন্যদিকে এর নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগ—দুটি বিপরীত প্রবণতা একই সময়ে সামনে এসেছে। প্রযুক্তি কতটা মানুষের উপকারে আসবে আর কখন তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে, সেই প্রশ্নই এখন এআই ভবিষ্যৎ নিয়ে সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তার জায়গা হয়ে উঠছে।












