ভারতের কর্ণাটকের বল্লারি সিটি বিধানসভা এলাকায় ভোটার তালিকা থেকে ৭ হাজার ৫৬১ জনের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা করার অভিযোগে বিজেপির এক বুথ-স্তরের এজেন্টের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত টি. শ্রীনিবাস মোথকুর বল্লারি সিটি করপোরেশনের বিরোধীদলীয় নেতাও।
বল্লারির ব্রুসপেট থানায় গত ১ অক্টোবর এ ঘটনায় প্রথম তথ্য প্রতিবেদন বা এফআইআর করা হয়। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা, ২০২৩-এর ৩৫৩ ধারায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। এই ধারাটি জনমনে বিভ্রান্তি বা জনস্বার্থে ক্ষতিকর পরিস্থিতি তৈরিতে সহায়ক বক্তব্যের সঙ্গে সম্পর্কিত।
মোথকুর বিজেপির বুথ-স্তরের এজেন্ট হিসেবে ৭ হাজার ৫৬১ জন ভোটারের নাম নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন। তার দাবি ছিল, এসব ভোটার অনুপস্থিত, অন্যত্র চলে গেছেন অথবা অন্য জায়গায় ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছেন।

ভোটার তালিকা সংশোধনের জন্য নির্ধারিত ফরম-৭ ব্যবহার করে এসব নাম বাদ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে নির্বাচন কর্মকর্তারা তার দেওয়া তথ্য ও দাবির পক্ষে প্রয়োজনীয় নথি বা অন্য কোনো প্রমাণ পাননি বলে জানান।
বল্লারি সিটি করপোরেশনের নির্বাচন কর্মকর্তারা ২১ সেপ্টেম্বর মোথকুরকে জানান, বুথ-স্তরের এজেন্টরা একসঙ্গে একাধিক আবেদন জমা দিতে পারলেও একটি বুথ-স্তরের কর্মকর্তার কাছে একবারে বা এক দিনে ১০টির বেশি আবেদন জমা দিতে পারবেন না। দাবির ও আপত্তির সময় কোনো এজেন্ট ৩০টির বেশি আবেদন করলে নির্বাচন নিবন্ধন কর্মকর্তা বা সহকারী নির্বাচন নিবন্ধন কর্মকর্তাকে সেগুলো ব্যক্তিগতভাবে যাচাই করতে হবে।
এ ছাড়া, এ ধরনের আবেদনের সঙ্গে একটি তালিকা এবং আবেদনকারী এজেন্ট নিজে সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই করে সেগুলো সঠিক বলে নিশ্চিত হয়েছেন—এমন ঘোষণাও দেওয়ার নিয়ম রয়েছে।
নির্বাচন কর্মকর্তাদের জবাবের পরও মোথকুর পরদিন, ২২ সেপ্টেম্বর, আবার চিঠি দেন। তিনি জানান, বল্লারি সিটি বিধানসভা কেন্দ্রের খসড়া ভোটার তালিকায় থাকা ৭ হাজার ৫৬১ জনের বিরুদ্ধে তিনি আপত্তি জানাতে প্রস্তুত। চিঠির সঙ্গে তিনি ভোটারদের নামের তালিকাও দেন এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করেন।
তবে নির্বাচন কর্তৃপক্ষ আবারও তার দাবি গ্রহণ করেনি। শুধু অভিযোগের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ভোটারদের নিবন্ধন অন্য কোথাও রয়েছে কি না বা তারা সত্যিই এলাকা ছেড়েছেন কি না, তা যাচাই করা সম্ভব নয় বলে জানানো হয়।

এরপর কংগ্রেসের বুথ-স্তরের এজেন্ট গৌতম এস. পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন। তার দাবি, মোথকুরের আপত্তির ভিত্তিতে কিছু ভোটকেন্দ্রে নির্বাচন কর্মকর্তারা ভোটারদের নাম পুনরায় যাচাই করেছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, তালিকায় থাকা ভোটারদের বড় অংশ একটি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের।
তবে সংখ্যালঘু ভোটারদের লক্ষ্য করেই নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল—এমন অভিযোগের স্বাধীন প্রমাণ প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।
অভিযোগের বিষয়ে মোথকুর অবশ্য ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বলেন, তিনি ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার আবেদন করেননি; বরং ভোটারদের তথ্য নির্বাচন নিবন্ধন কর্মকর্তার কাছে দিয়ে সেগুলো যাচাই করার অনুরোধ করেছিলেন।
এটি কর্ণাটকে ফরম-৭ অপব্যবহারের অভিযোগে করা ষষ্ঠ এফআইআর। এর আগে করা পাঁচটি মামলার মধ্যে বেলগাভিতে দুটি এবং মহীশূরে একটি মামলায় বিজেপির সদস্যদের অভিযুক্ত করা হয়েছে।
ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে ফরম-৭ গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রক্রিয়া। তাই বিপুলসংখ্যক ভোটারের বিরুদ্ধে একসঙ্গে আপত্তি তোলা হলে সংশ্লিষ্ট তথ্য ও নথি যথাযথভাবে যাচাই করার ওপর নির্বাচন কর্তৃপক্ষ জোর দিচ্ছে।












