ভিয়েতনামের হো চি মিন সিটিতে বিড়াল চুরি ও বিক্রির একটি চক্রের ১২ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চক্রটি মাংসের জন্য প্রায় ২ হাজার ৭০০ বিড়াল চুরি করে বিক্রি করেছে বলে তদন্তকারীদের জানিয়েছে।
পুলিশের দাবি, ৩৯ বছর বয়সী লিউ থান বিনকে এই চক্রের মূল হোতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাকে ও আরও ১১ জনকে চুরির অভিযোগে তদন্ত করা হচ্ছে।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, বিন চুরি করা বিড়াল কিনে শহরের উত্তরাঞ্চলের একটি স্থাপনায় রাখতেন। পরে সেগুলো মাংসের জন্য বিক্রি করা হতো। তার সঙ্গে কাজ করা সরবরাহকারীরা মোটরসাইকেলে করে আবাসিক এলাকায় ঘুরে বিড়াল ধরার জন্য লোক নিয়োগ করেছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযুক্তরা সাধারণত রাত ১১টা থেকে ভোর ৪টার মধ্যে এসব এলাকায় যেতেন। প্রতিরাতে তারা চার থেকে ১০টি পর্যন্ত বিড়াল ধরতেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
৮ জুলাই ওই চক্রের আস্তানায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ৫০টি বিড়াল ও বেশ কিছু ফাঁদ উদ্ধার করে পুলিশ। অভিযুক্তরা জানিয়েছেন, তারা মোট প্রায় ২ হাজার ৭০০ বিড়াল চুরি ও বিক্রি করেছেন। তবে কতদিন ধরে এই কার্যক্রম চলছিল, সে বিষয়ে পুলিশ বিস্তারিত জানায়নি।
উদ্ধার করা বিড়ালের মধ্যে ১৩টিকে তাদের মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। অন্য বিড়ালগুলোকে একটি বেসরকারি প্রাণী অধিকার সংগঠনের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে। মালিকদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
ভিয়েতনামের কিছু অঞ্চলে ঐতিহাসিকভাবে বিড়াল ও কুকুরের মাংস খাওয়ার প্রচলন থাকলেও এর জনপ্রিয়তা কমছে। বিশেষ করে নগরায়ণ ও পোষা প্রাণী পালনের প্রবণতা বাড়ায় তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বিড়াল ও কুকুরকে খাদ্য নয়, বরং সঙ্গী প্রাণী হিসেবে দেখার প্রবণতা বেড়েছে।
দেশটির উত্তরাঞ্চলে, বিশেষ করে বয়স্ক প্রজন্মের মধ্যে বিড়ালের মাংস খাওয়ার প্রচলন তুলনামূলকভাবে বেশি ছিল। কারও কারও মধ্যে বিড়ালের মাংস খেলে সৌভাগ্য আসে—এমন বিশ্বাসও রয়েছে। তবে এই বিশ্বাসের পক্ষে বৈজ্ঞানিক কোনো প্রমাণ নেই।
২০২৪ সালে ভিয়েতনামের কুকুর ও বিড়ালের মাংসের বাণিজ্য বন্ধের দাবিতে আড়াই লাখের বেশি মানুষ একটি আবেদনে স্বাক্ষর করেন। এর আগে ২০২১ সালে দেশটির হোই আন শহর কুকুর ও বিড়ালের মাংস বিক্রি ও খাওয়া বন্ধের উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল।
ভিয়েতনামের আইনে কুকুর ও বিড়াল ব্যক্তিমালিকানাধীন সম্পদ হিসেবে বিবেচিত। ফলে এসব প্রাণী চুরি করা অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে। সাধারণত চুরি করা সম্পদের মূল্য ২০ লাখ ডংয়ের বেশি হলে ফৌজদারি আইনে মামলা হতে পারে।
এর আগে জুন মাসে পৃথক একটি অভিযানে পুলিশ ৪০০টির বেশি বিড়াল উদ্ধার করেছিল। এর মধ্যে অন্তত ৪০টি বিড়ালকে মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। ওই অভিযানে বরফের মধ্যে রাখা বেশ কিছু মৃত বিড়ালও উদ্ধার করা হয়েছিল।












