দক্ষিণ এশিয়ার প্রবৃদ্ধি ২০২৬ সালে ৬.৯ শতাংশে পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। এটি সংস্থাটির আগের অনুমানের চেয়ে বেশি। শক্ত অভ্যন্তরীণ চাহিদাকে এই গতির বড় কারণ হিসেবে দেখছে তারা। ২০২৭ সালে প্রবৃদ্ধি কিছুটা কমে ৬.৭ শতাংশ হতে পারে। বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও অঞ্চলটির এই গতি নজর কেড়েছে। কিন্তু এই উজ্জ্বল ছবির বড় ব্যতিক্রম বাংলাদেশ।
বিশ্বব্যাংকের হিসাবে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৩.৪ শতাংশ। এপ্রিলের পূর্বাভাস থেকে এটি ১.২ শতাংশ পয়েন্ট কমানো হয়েছে। পরের অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি সামান্য বেড়ে ৩.৯ শতাংশ হতে পারে। চলতি অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতি থাকতে পারে ৮.৬ শতাংশে। অর্থাৎ আয় বাড়ছে ধীরে, কিন্তু জিনিসপত্রের দাম চড়া থাকছে। জ্বালানি সংকট আর দুর্বল ব্যাংক খাতকে বড় বাধা হিসেবে দেখানো হয়েছে। বিশ্বব্যাংক ৬ অক্টোবর এই পূর্বাভাস প্রকাশ করে। এই পূর্বাভাস মাথায় রেখেই এ সপ্তাহে ব্যাংককে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভায় অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ। সেখানে নতুন ঋণ ও সংস্কার নিয়ে আলোচনা চলছে।
এবারের দক্ষিণ এশিয়া প্রতিবেদনের মূল বিষয় এআই। বিশ্বব্যাংক বলছে, অঞ্চলে এআইয়ের ব্যবহার বাড়ছে, তবে উন্নত অর্থনীতির চেয়ে অনেক পিছিয়ে। ভারতে প্রায় ২৩ শতাংশ প্রতিষ্ঠান এআই ব্যবহার করে। যুক্তরাষ্ট্রে এই হার ৪৩ শতাংশ। জটিল কাজে এআই ব্যবহারে এই ব্যবধান আরও বড়। স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও কৃষির মতো খাতে এআই সরকারি সেবা উন্নত করতে পারে বলে মনে করে সংস্থাটি। যেসব জায়গায় দক্ষ জনবলের ঘাটতি, সেখানে এর সুবিধা বেশি। বাংলাদেশেও হাসপাতাল, ব্যাংক ও সরকারি দপ্তরে এআইয়ের ব্যবহার নিয়ে আলোচনা বাড়ছে। তবে দক্ষ জনবল আর অবকাঠামোর ঘাটতি এখানেও বড় বাধা।
দক্ষিণ এশিয়ার প্রবৃদ্ধি নিয়ে ঝুঁকিও আছে। জ্বালানির দাম দীর্ঘদিন বেশি থাকলে মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে, আর্থিক পরিস্থিতিও কঠিন হতে পারে। এল নিনো হলো প্রশান্ত মহাসাগরের পানি অস্বাভাবিক উষ্ণ হওয়ার একটি প্রাকৃতিক ঘটনা। এটি এ অঞ্চলে বৃষ্টির ধরন বদলে দিতে পারে। তীব্র এল নিনো হলে কৃষি উৎপাদন ও খাদ্য নিরাপত্তা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বৈশ্বিক এআই বিনিয়োগ হঠাৎ কমে গেলে আর্থিক চাপ তৈরি হতে পারে। বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট ইয়োহানেস জুট বলেন, কঠিন বৈশ্বিক পরিবেশেও অঞ্চলটি অসাধারণ সহনশীলতা দেখিয়েছে। গ্রুপের এশিয়া বিষয়ক প্রধান অর্থনীতিবিদ ফ্রানজিস্কা ওনসর্গে বলেন, এআই গ্রহণে যে মৌলিক ঘাটতি আছে, সরকারগুলোকে তা দূর করতে হবে।
বাংলাদেশের জন্য বার্তাটি স্পষ্ট এবং কিছুটা অস্বস্তিকর। প্রতিবেশীরা যখন দ্রুত এগোচ্ছে, বাংলাদেশ তখন চার শতাংশের নিচে আটকে আছে। দক্ষিণ এশিয়ার প্রবৃদ্ধি থেকে বাংলাদেশ যত পিছিয়ে থাকবে, কর্মসংস্থান ও আয়ের ওপর চাপ তত বাড়বে। প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক তরুণ শ্রমবাজারে আসছে, তাদের জন্য কাজ তৈরি করাই বড় চ্যালেঞ্জ। জ্বালানি সরবরাহ ঠিক রাখা আর ব্যাংক খাত সংস্কার তাই এখন সবচেয়ে জরুরি কাজ। একই সঙ্গে এআইয়ের সুযোগ কাজে লাগাতে তরুণদের দক্ষতা বাড়ানোর দিকেও নজর দিতে হবে। নইলে অঞ্চলের এই সুসময়ের সুফল বাংলাদেশের হাতে কমই আসবে।












