বিদেশে থাকা বাংলাদেশিরা অক্টোবরের প্রথম ১২ দিনে দেশে পাঠিয়েছেন ১২৯ কোটি ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্যে এই হিসাব উঠে এসেছে। গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ১১৮ কোটি ডলার। অর্থাৎ এবার অক্টোবরে প্রবাসী আয় আগের বছরের তুলনায় ৯ দশমিক ২ শতাংশ বেশি এসেছে। মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা চললেও প্রবাসীদের টাকা পাঠানো কমেনি। মাসের শুরুতেই এমন গতি দেশের অর্থনীতির জন্য ভালো খবর।
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত মোট প্রবাসী আয় দাঁড়িয়েছে ৯৮৮ কোটি ডলারে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এসেছিল ৮৭৭ কোটি ডলার। সেই হিসাবে প্রবৃদ্ধি ১২ দশমিক ৭ শতাংশ। মাসওয়ারি হিসাবে জুলাইয়ে এসেছিল প্রায় ২৮৬ কোটি ডলার। আগস্টে আসে প্রায় ২৯৭ কোটি ডলার, যা এই অর্থবছরে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। সেপ্টেম্বরে এসেছে প্রায় ২৭৭ কোটি ডলার। তিন মাসের এই ধারাবাহিকতার পর অক্টোবরে প্রবাসী আয় ভালোভাবেই শুরু হয়েছে।
প্রবাসী আয় দেশের ডলারের সবচেয়ে বড় উৎসগুলোর একটি। আমদানির বিল মেটানো, বৈদেশিক মুদ্রার মজুত ধরে রাখা আর টাকার মান স্থিতিশীল রাখায় এর ভূমিকা অনেক বড়। রপ্তানির মতো এখানে কাঁচামাল আমদানির খরচ নেই। তাই প্রবাসীদের পাঠানো প্রায় পুরো ডলারই দেশে থেকে যায়। গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে প্রায় ৩ হাজার ৫৫৯ কোটি ডলার প্রবাসী আয় এসেছিল। তার আগের অর্থবছরে এসেছিল প্রায় ৩ হাজার ৩৩ কোটি ডলার। প্রতি মাসে নিয়মিত টাকা আসায় ব্যাংকগুলোর হাতে ডলারের জোগানও ভালো থাকে। তাই অক্টোবরে প্রবাসী আয় কেমন আসে, তা পুরো অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
প্রবাসীদের বড় অংশ কাজ করেন সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, ওমান ও কুয়েতের মতো উপসাগরীয় দেশে। মালয়েশিয়া, ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকেও উল্লেখযোগ্য অর্থ আসে। সম্প্রতি সৌদি আরবে বিমানবন্দরে হামলা ও ফ্লাইট বাতিলের কারণে অনেক কর্মী ভোগান্তিতে পড়েছেন। কেউ ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরতে পারছেন না। কেউ আবার দেশে আসার টিকিট নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন। এমন সময়েও পরিবারের কাছে টাকা পাঠানো চালু রেখেছেন তাঁরা। গ্রামের অনেক পরিবারের সংসার, সন্তানের পড়াশোনা আর চিকিৎসার খরচ চলে এই টাকায়। প্রবাসীদের পরিবারগুলোও এখন মাসের শুরুতে টাকার অপেক্ষায় থাকে। বাজারে জিনিসপত্রের দাম বেশি হওয়ায় এই টাকার গুরুত্ব আরও বেড়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতি সপ্তাহে প্রবাসী আয়ের হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করে। মাস শেষে অক্টোবরের পূর্ণ হিসাব জানা যাবে। ব্যাংক ও বৈধ মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে টাকা পাঠালে তা নিরাপদে পৌঁছায়। দেশের সরকারি হিসাবেও সেই অর্থ যোগ হয়। হুন্ডির মতো অবৈধ পথে পাঠানো টাকা এই হিসাবে আসে না, আর তাতে ঝুঁকিও বেশি। তাই প্রবাসীদের প্রতি বৈধ পথে টাকা পাঠানোর আহ্বান বারবার জানানো হয়। যাঁরা দূর দেশে কঠিন সময় পার করছেন, তাঁদের পাঠানো প্রতিটি ডলারই এখন দেশের বড় ভরসা। অক্টোবরে প্রবাসী আয় শেষ পর্যন্ত কত দাঁড়ায়, সেদিকে এখন নজর থাকবে ব্যাংকার ও নীতিনির্ধারকদের। কারণ মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি সামনের মাসগুলোতে এই প্রবাহে প্রভাব ফেলতে পারে।












