দূরত্ব কমিয়ে আনা, মুহূর্তে তথ্য আদান-প্রদান আর বিশ্বের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে পণ্য পৌঁছে দেওয়ার সক্ষমতা দিয়ে আধুনিক প্রযুক্তি বিশ্বকে যেন ছোট করে এনেছে। অর্থ, তথ্য, পণ্য, এমনকি অস্ত্রও এখন আগের চেয়ে অনেক দ্রুত এক দেশ থেকে অন্য দেশে পৌঁছায়। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত এবং পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে বিঘ্ন দেখিয়ে দিয়েছে, প্রযুক্তির যত উন্নতিই হোক, ভূগোলের প্রভাব উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।
বিশ্ব অর্থনীতির বড় অংশ এখনো কিছু নির্দিষ্ট সমুদ্রপথ, বন্দর, খাল ও জ্বালানি পরিবহন করিডরের ওপর নির্ভরশীল। এর একটিতে বাধা পড়লেই প্রভাব ছড়িয়ে পড়তে পারে বহু দেশে। জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, সুদের হার বাড়া, কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হওয়া, কৃষি উৎপাদন নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং বিভিন্ন দেশে জনঅসন্তোষ, সবকিছুর সঙ্গে জড়িয়ে যেতে পারে একটি নৌপথের সংকট।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার মধ্য দিয়ে সাত মাসেরও বেশি আগে শুরু হওয়া মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত সেই বাস্তবতাই সামনে এনেছে। পারস্য উপসাগরের নৌপথে বিঘ্নে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায়।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের জ্যেষ্ঠ ভাইস প্রেসিডেন্ট ও গবেষণা বিভাগের প্রধান শ্যানন ও’নিলের মতে, আধুনিক অর্থনীতি নিয়ে আলোচনায় আমরা প্রায়ই সরবরাহব্যবস্থার মৌলিক বিষয়টি ভুলে যাই। পণ্য উৎপাদন করলেই হয় না, তা এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় পৌঁছানোর ব্যবস্থাও থাকতে হয়। সেই ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হলে প্রযুক্তির অগ্রগতিও অর্থনীতিকে পুরোপুরি রক্ষা করতে পারে না।
মানচিত্রের অবস্থানই হয়ে উঠছে কৌশলগত শক্তি
সামরিক, প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক শক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পাল্লা দিতে পারে না, এমন অনেক দেশ ও সশস্ত্র গোষ্ঠীও শুধু ভৌগোলিক অবস্থানের জোরে আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের কাছে থাকা তাদের এমন কৌশলগত সুবিধা দেয়, যা শুধু সামরিক শক্তি দিয়ে সহজে মোকাবিলা করা যায় না।
এর বড় উদাহরণ হরমুজ প্রণালি। পারস্য উপসাগরে ঢোকা ও বের হওয়ার একমাত্র সমুদ্রপথ এটি। বিশ্বের জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংকীর্ণ পথ হওয়ায় এখানে যেকোনো বিঘ্ন দ্রুত আন্তর্জাতিক বাজারে প্রভাব ফেলে। ইরান এই পথে জাহাজ চলাচলে বাধা দিয়েছে। অন্যদিকে ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠী লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রবেশপথের বাব আল-মান্দাব প্রণালিতে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথে ঝুঁকি তৈরি করেছে।
পারস্য উপসাগর দিয়ে তেল পরিবহন আবার শুরু হলেও তা সম্ভব হয়েছে মূলত সামরিক শক্তির সহায়তায়। মার্কিন নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে তেলবাহী জাহাজ চলাচল দেখিয়ে দেয়, নৌপথ সচল রাখতে প্রযুক্তি ও বাজারের পাশাপাশি সামরিক নিরাপত্তাও কতটা জরুরি। দক্ষিণ চীন সাগর ও সুয়েজ খালের ক্ষেত্রেও একই কথা খাটে। এসব পথ দিয়ে বিপুল পণ্য পরিবহন হয়। কোনো একটিতে দীর্ঘ অচলাবস্থা হলে তার প্রভাব পড়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, উৎপাদন এবং কোটি কোটি মানুষের জীবনযাত্রায়।
জলবায়ু পরিবর্তনও বদলে দিচ্ছে বাণিজ্যের মানচিত্র
শুধু যুদ্ধ নয়, জলবায়ু পরিবর্তনও বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ পরিবহনপথে চাপ তৈরি করছে। শত শত বছর ধরে ব্যবহৃত নৌপথ কোথাও অচল হয়ে পড়ছে, আবার কোথাও নতুন বাণিজ্যপথের সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।
ইউরোপে এবারের গ্রীষ্মে খরায় রাইন ও দানিউব নদীর পানির স্তর নেমে গেছে। এসব নদীপথে পণ্য পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় খরচ বেড়েছে, শিল্প উৎপাদনেও প্রভাব পড়েছে। হাঙ্গেরি ও রোমানিয়ার মতো দেশে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ঠান্ডা রাখতে নদীর পানি ব্যবহার করা হয়। পানির সংকটে সেখানে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
লাতিন আমেরিকার পানামা খালও একই সমস্যায় পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কনটেইনার পরিবহনের প্রায় ৪০ শতাংশ এই খালের সঙ্গে যুক্ত। এল নিনোর প্রভাবে পানির স্তর কমে যাওয়ায় খাল কর্তৃপক্ষ জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ দিয়েছিল। এতে আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থায় নতুন চাপ তৈরি হয়।
অন্যদিকে উত্তর মেরুতে বরফ গলায় নতুন বাণিজ্যপথ খুলছে। উষ্ণ হয়ে ওঠা আর্কটিক সাগর দিয়ে চীনা জাহাজ কোম্পানিগুলো সম্প্রতি নিয়মিত বাণিজ্যিক চলাচল শুরু করেছে। এই পথ বাড়লে ভবিষ্যতে এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে পণ্য পরিবহনের হিসাব বদলে যেতে পারে। তবে এতে শুধু অর্থনৈতিক সুবিধা আসবে না। আর্কটিকে বাণিজ্যিক ও কৌশলগত উপস্থিতি বাড়লে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের প্রতিযোগিতাও তীব্র হতে পারে। গ্রিনল্যান্ডের ওপর নিয়ন্ত্রণ নিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগ্রহও অঞ্চলটির ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব সামনে এনেছে।
বিশ্বায়নের দুর্বলতা কোথায়
বিশ্ব রাজনীতিতে ভূগোলের প্রভাব নতুন কিছু নয়। খ্রিষ্টপূর্ব পঞ্চম শতকে পেলোপনেশীয় যুদ্ধের সময় স্পার্টা দার্দানেলিস প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ কাজে লাগিয়ে এথেন্সের শস্য সরবরাহ বন্ধের চেষ্টা করেছিল। প্রতিপক্ষের সরবরাহব্যবস্থায় আঘাত করে তাকে দুর্বল করার কৌশল তাই বহু পুরোনো।
তবে ১৯৯০-এর দশক থেকে বিশ্বায়নের গতি বাড়ার পর মনে হয়েছিল, প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের বিস্তার ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতার গুরুত্ব অনেকটা কমিয়ে দিয়েছে। অর্থ, তথ্য ও পণ্য সহজে এক দেশ থেকে অন্য দেশে যেতে শুরু করে। গড়ে ওঠে উৎপাদন ও সরবরাহের বিস্তৃত আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক।
কিন্তু এই ব্যবস্থা টিকে থাকতে দরকার ছিল আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, পারস্পরিক আস্থা ও অভিন্ন নিয়মকানুন। সেই কাঠামো এখন ক্রমেই দুর্বল হচ্ছে। প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলতে সংঘাত, নিষেধাজ্ঞা ও জবরদস্তির ব্যবহার বাড়ছে। এমনকি পুরোনো মিত্রদের মধ্যেও আস্থার সংকট দেখা দিচ্ছে।
গত মাসে জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে ভেনেজুয়েলার তেলসম্পদ নিয়ে ট্রাম্প এমন মনোভাব প্রকাশ করেন, যেন বিজয়ীরাই সম্পদের অধিকারী। তাঁর এই অবস্থানকে পারস্পরিক সহযোগিতার বদলে শক্তিশালী পক্ষের একতরফা সুবিধা আদায়ের প্রবণতার উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদিও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর গড়ে ওঠা আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার অবক্ষয়ের জন্য শুধু ট্রাম্পের নীতিকে দায়ী করা যায় না। এর পেছনে আছে আরও গভীর কাঠামোগত পরিবর্তন। যে নেটওয়ার্ক বিশ্ব অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করেছে, সেটিই নতুন ঝুঁকি ও ক্ষমতার অসমতা তৈরি করেছে।
অর্থনৈতিক নির্ভরশীলতাও এখন চাপের অস্ত্র
বিশ্বায়নের তুঙ্গ সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন দুই দেশই অর্থনৈতিক ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণকে কৌশলগত শক্তি হিসেবে ব্যবহার করেছে। বিশ্বের আর্থিক ব্যবস্থায় প্রভাবের কারণে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিপক্ষের সম্পদ জব্দ করতে বা লেনদেন বন্ধ করতে পারে। অন্যদিকে বিরল মৃত্তিকা ধাতু সরবরাহে চীনের অবস্থান দেশটিকে প্রতিদ্বন্দ্বীদের চাপে ফেলার সুযোগ দেয়। আধুনিক প্রযুক্তি, বৈদ্যুতিক গাড়ি ও নানা শিল্পে এসব উপাদান লাগে।
এই বাস্তবতায় তুলনামূলক দুর্বল দেশগুলোও নিজেদের কৌশলগত সুবিধা কাজে লাগানোর পথ খুঁজছে। ইরানের ক্ষেত্রে সেই সুবিধা তার ভৌগোলিক অবস্থান। কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের জ্যেষ্ঠ গবেষক ও সাবেক কূটনীতিক এডওয়ার্ড ফিশম্যানের মতে, ২০০০ ও ২০১০-এর দশকে কঠোর নিষেধাজ্ঞার মুখেও ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধের পর্যায়ে যায়নি। এখন দেখা যাচ্ছে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রভাব খাটাতে ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যকেই সরাসরি অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
ফিশম্যানের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, পারস্পরিক নির্ভরশীলতা বিশ্ব অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখবে, বিশ্বায়নের এই পুরোনো ধারণা থেকে বিশ্ব অনেকটাই সরে এসেছে। ভবিষ্যতেও এই প্রবণতা চলার আশঙ্কা আছে। চাপ তৈরির কৌশল শুধু সহিংসতা বা নৌপথ বন্ধে সীমাবদ্ধ নয়। হরমুজ দিয়ে চলাচলের জন্য জাহাজমালিকদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের চাপও দিয়েছে ইরান। ফিশম্যানের মতে, বাণিজ্য চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং সেখান থেকে অর্থনৈতিক সুবিধা আদায় ইরানের বর্তমান কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
এতে আন্তর্জাতিক জলপথে অবাধ চলাচলের দীর্ঘদিনের ধারণাও প্রশ্নের মুখে পড়ছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে সমুদ্রপথে অবাধ চলাচল নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র বড় ভূমিকা রেখেছে। কিন্তু এই দায়িত্বে ওয়াশিংটনের আগ্রহ কমছে বলে মনে করা হচ্ছে। একই সময়ে অন্য শক্তিগুলোও আন্তর্জাতিক জলপথে নিজেদের দাবি প্রতিষ্ঠায় সক্রিয় হচ্ছে। তাইওয়ানের চারপাশে চীনের নিয়মিত টহল এর আরেকটি উদাহরণ। এতে আঞ্চলিক উত্তেজনার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।
ইউক্রেন ও তাইওয়ান কেন গুরুত্বপূর্ণ
যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিনস বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও ‘দ্য ল্যান্ডস্কেপ অব পাওয়ার: জিওগ্রাফি অ্যান্ড দ্য রাইজ অ্যান্ড ফল অব নেশনস’ বইয়ের লেখক হাল ব্র্যান্ডস মনে করেন, গত কয়েক দশকে ভূগোলের গুরুত্ব কমে গেছে, এমন ধারণা ছিল রাজনৈতিক দূরদর্শিতার অভাবের ফল। তাঁর মতে, প্রায় ৩০ বছর ধরে দুটি ভুল ধারণা প্রভাব বিস্তার করেছে। এক, প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিগুলোর প্রভাব বিস্তারের লড়াইকে অনেকে অতীতের বিষয় ভেবেছিলেন। দুই, প্রযুক্তির কারণে ভূগোলের সীমাবদ্ধতা প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গেছে বলে মনে করা হয়েছিল।
ইউক্রেনের অবস্থান এই ধারণার সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট করে। ইউরেশীয় ভূখণ্ডে ইউক্রেন এমন জায়গায়, যা ইউরোপ ও এশিয়ার শক্তিগুলোর সংযোগস্থল। দেশটির উর্বর কৃষিজমি আছে, কৃষ্ণসাগরে বন্দর আছে। তাই ইউক্রেনকে ঘিরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুধু রাজনৈতিক মতবিরোধ নয়, এর সঙ্গে যুক্ত ভূখণ্ড, বন্দর, কৃষিসম্পদ ও আঞ্চলিক প্রভাবের প্রশ্ন।
তাইওয়ানের ক্ষেত্রেও একই বাস্তবতা। জাপান ও ইন্দোনেশিয়ার মাঝখানে থাকা এই দ্বীপ চীনের উপকূলঘেঁষা দ্বীপমালার কৌশলগত কেন্দ্র। ফলে তাইওয়ান নিয়ে উত্তেজনা শুধু একটি দ্বীপের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের প্রশ্ন নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে আঞ্চলিক সামরিক ভারসাম্য ও গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথের নিয়ন্ত্রণ।
প্রযুক্তির সঙ্গে ভূগোলের সম্পর্ক বদলাবে
প্রযুক্তি, শিল্প ও ভূগোল কখনোই পুরোপুরি আলাদা ছিল না। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর মধ্যপ্রাচ্যে তেল উত্তোলন ও পরিবহনের অবকাঠামো গড়ে ওঠায় হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব বেড়ে যায়। একসময়ের সাধারণ একটি নৌপথ ধীরে ধীরে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনকেন্দ্রে পরিণত হয়।
বর্তমান সংকট নতুন বিকল্পের প্রয়োজনও বাড়াচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদে আরও তেল ও গ্যাস পাইপলাইন, বিকল্প পরিবহন করিডর এবং বাণিজ্যিক অংশীদারত্বের পরিবর্তন বিশ্বের অর্থনৈতিক ও সামরিক মানচিত্র বদলে দিতে পারে। প্রযুক্তির অগ্রগতিও নতুন পথ খুলতে পারে। কিন্তু নতুন অবকাঠামো গড়তে সময় ও অর্থ লাগে। সব পণ্য, জ্বালানি বা কাঁচামাল সহজে বিকল্প পথে সরানোও যায় না। তাই একটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে সংকট দেখা দিলে তার তাৎক্ষণিক ধাক্কা এড়ানো কঠিন।
সব মিলিয়ে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর গড়ে ওঠা আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার দুর্বলতা বিশ্বকে আরও সংঘাত ও প্রতিযোগিতার দিকে ঠেলে দিতে পারে। অর্থনৈতিক নির্ভরশীলতা, সামরিক শক্তি, জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতি মিলিয়ে নতুন করে ঠিক হচ্ছে রাষ্ট্রগুলোর ক্ষমতার হিসাব। হাল ব্র্যান্ডসের বিশ্লেষণের মূল কথা, ভবিষ্যতের সংঘাত কোন পথে যাবে, তা ঠিক করতে বিশ্ব অর্থনীতিতে ভূগোলের প্রভাব আরও বাড়তে পারে। প্রযুক্তি দূরত্ব কমাতে পারে, তথ্যের গতি বাড়াতে পারে, নতুন পরিবহনপথও তৈরি করতে পারে। কিন্তু পণ্যকে গন্তব্যে পৌঁছাতে হয় বাস্তব পথ দিয়েই। আর সেই পথের নিয়ন্ত্রণই আগামী দিনের বিশ্বরাজনীতিতে বড় শক্তি হয়ে উঠতে পারে।












