দেশে ৩৫ বছর বয়সের পর আইনজীবী হওয়ার পথ বন্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে এ কথা জানান আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, ৩৫ বছর বয়সের পর আইনজীবী হওয়ার পথ বন্ধ করতে উদ্যোগ নিতে বলেছেন তিনি। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে বলেও জানান মন্ত্রী। অর্থাৎ আইনজীবী হওয়ার বয়সসীমা বেঁধে দেওয়ার পথে হাঁটছে সরকার।
অনুষ্ঠানটি ছিল অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় ও জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি বা ইউএনডিপির যৌথ ইন্টার্নশিপ কর্মসূচির। এতে কর্মসূচির দ্বিতীয় ব্যাচের সমাপনী এবং তৃতীয় ব্যাচকে বরণ করা হয়। আইনের শিক্ষার্থীদের সামনে মন্ত্রী এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। একই অনুষ্ঠানে তিনি শিক্ষানবিশদের সুপ্রিম কোর্টে প্রতিদিনের কাজের অভিজ্ঞতা থেকে শেখার পরামর্শ দেন। তবে নতুন নিয়ম কোন আইনে বা কোন বিধির মাধ্যমে কার্যকর হবে, তা তিনি বলেননি। কবে থেকে এটি চালু হবে, সে বিষয়েও কিছু জানানো হয়নি।
এখন দেশে আইনজীবী হতে হলে আইনে স্নাতক ডিগ্রি নিতে হয়। এরপর একজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবীর অধীনে শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজ করে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের তালিকাভুক্তি পরীক্ষায় পাস করতে হয়। এই পরীক্ষায় অংশ নিতে এখন পর্যন্ত বয়সের কোনো ঊর্ধ্বসীমা নেই। ফলে অনেকে চাকরি বা অন্য পেশায় কয়েক বছর কাটিয়ে বেশি বয়সে আইন পেশায় আসেন। কেউ কেউ অবসরের পর আইনে পড়াশোনা করে আদালতে যোগ দেন। নতুন আইনজীবী হওয়ার বয়সসীমা চালু হলে এই পথ কার্যত বন্ধ হয়ে যাবে। আইনজীবীদের তালিকাভুক্তি ও পেশাগত শৃঙ্খলা দেখভাল করে বার কাউন্সিল। এর কাজ চলে বাংলাদেশ লিগ্যাল প্র্যাকটিশনার্স অ্যান্ড বার কাউন্সিল অর্ডার, ১৯৭২ অনুযায়ী। তাই নতুন বয়সসীমা চালু করতে এই আদেশ বা এর অধীনের বিধিতে পরিবর্তন আনার প্রশ্ন আসতে পারে।
সিদ্ধান্তটি তাই অনেক মানুষের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় সরাসরি প্রভাব ফেলবে। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে বহু শিক্ষার্থী আইন পড়ছেন। তাঁদের অনেকে পড়াশোনা শেষ করে তালিকাভুক্তি পরীক্ষার জন্য বছরের পর বছর অপেক্ষা করেন। যাঁরা এখন পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং যাঁদের বয়স ৩৫ এর কাছাকাছি, তাঁদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক। নতুন নিয়ম আগে থেকে প্রস্তুতি নেওয়া প্রার্থীদের জন্যও প্রযোজ্য হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। বয়সসীমা চালুর আগে কোনো অন্তর্বর্তী সুযোগ রাখা হবে কি না, সেটিও জানা যায়নি।
আইন পেশায় মান ও শৃঙ্খলা নিয়ে আলোচনা দীর্ঘদিনের। তবে বয়স বেঁধে দিয়ে সেই লক্ষ্য কতটা পূরণ হবে, তা নিয়ে ভিন্নমতও উঠতে পারে। কেউ বলতে পারেন, পেশায় ঢোকার পরীক্ষা কঠিন করা বা প্রশিক্ষণ বাড়ানোই বেশি কার্যকর। আবার কেউ মনে করতে পারেন, কম বয়সে পেশায় এলে দীর্ঘ সময় ধরে দক্ষতা গড়ে তোলা সহজ হয়। চূড়ান্ত নিয়ম প্রকাশের পর বোঝা যাবে, আইনজীবী হওয়ার বয়সসীমা ঠিক কীভাবে প্রয়োগ হবে। ততদিন আইনের শিক্ষার্থী ও তালিকাভুক্তির প্রার্থীদের নজর থাকবে আইন মন্ত্রণালয় ও বার কাউন্সিলের পরবর্তী ঘোষণার দিকে। সেই ঘোষণাতেই স্পষ্ট হবে, কারা এই নিয়মের আওতায় পড়বেন আর কারা পড়বেন না।












