ব্রিটিশ বিলাসবহুল গাড়ি নির্মাতা জাগুয়ার নিজেদের টিকিয়ে রাখতে বড় ধরনের ঝুঁকি নিয়েছে। একসময় খেলাধুলাপ্রিয় নকশা, শক্তিশালী ইঞ্জিন ও অভিজাত গাড়ির জন্য পরিচিত এই ব্র্যান্ড এখন সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক গাড়িনির্ভর নতুন পরিচয় গড়তে চাইছে। লক্ষ্য আগের চেয়ে আরও ধনী ক্রেতাদের আকৃষ্ট করা। কিন্তু এই পরিবর্তনের সাফল্য নির্ভর করছে এমন এক গাড়ির ওপর, যার দাম হতে পারে ১ লাখ ৩০ হাজার পাউন্ডেরও বেশি। নতুন ক্রেতারা গাড়িটি গ্রহণ না করলে জাগুয়ারের দীর্ঘ ইতিহাসের শেষ অধ্যায়ও লেখা হয়ে যেতে পারে।
৬ অক্টোবর নিউইয়র্কে নতুন বৈদ্যুতিক গাড়ি উন্মোচনের সময় জাগুয়ারের নকশা দলের এক সদস্য প্রশ্ন করেন, ‘আপনি কি আগে কখনো এমন গাড়ি দেখেছেন?’ প্রায় এক হাজার অশ্বশক্তির এই বিলাসবহুল সেডান গাড়িটি জাগুয়ারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার প্রতীক। এর নকশা দীর্ঘ, নিচু ও দৃষ্টিনন্দন। অতীতের জাগুয়ার গাড়ির সঙ্গে সম্পর্ক থাকার কথা বলা হলেও নতুন পরিচয় নির্মাণের ক্ষেত্রে পুরোনো ঐতিহ্যের চেয়ে পরিবর্তনের ওপরই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্রতিষ্ঠানটির পরিকল্পনা শুধু পেট্রোলচালিত গাড়ির বদলে বৈদ্যুতিক গাড়ি তৈরি করা নয়। বরং জাগুয়ারকে এমন একটি ব্র্যান্ডে পরিণত করা, যার গাড়ি আগের তুলনায় আরও বেশি দামি, এক্সক্লুসিভ ও বিলাসবহুল হবে। তবে এই কৌশল সফল হবে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট অনিশ্চয়তা রয়েছে।
কেন জাগুয়ারকে নতুন করে শুরু করতে হচ্ছে?

জাগুয়ারের ভবিষ্যৎ নিয়ে গাড়িশিল্পের কর্মকর্তাদের মধ্যে বহু বছর ধরেই আলোচনা চলছে। জাগুয়ার ল্যান্ড রোভার বা জেএলআর মূলত দুটি পরিচিত ব্র্যান্ডের ব্যবসা পরিচালনা করে। এর মধ্যে রেঞ্জ রোভার দীর্ঘদিন ধরে কোম্পানির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আয়ের উৎসগুলোর একটি। রেঞ্জ রোভারের শীর্ষ মডেলগুলোর দাম এখন ১ লাখ পাউন্ডেরও বেশি।
ভারতের শিল্পগোষ্ঠী টাটার গাড়ি নির্মাণ প্রতিষ্ঠান টাটা মোটরস ২০০৮ সালে ফোর্ডের কাছ থেকে ২৩০ কোটি ডলারে জাগুয়ার ল্যান্ড রোভার কিনে নেয়। কিন্তু জাগুয়ার ব্র্যান্ডটি টাটার জন্য কখনোই উল্লেখযোগ্য মুনাফা অর্জন করতে পেরেছে কি না, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন রয়েছে।
জাগুয়ারের ঐতিহ্য অবশ্য যথেষ্ট সমৃদ্ধ। ১৯৬০-এর দশকে বাজারে আসা ই-টাইপের মতো গাড়ি ব্র্যান্ডটিকে ক্রীড়াধর্মী নকশা ও আকর্ষণীয় গাড়ি নির্মাণের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত করেছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে জাগুয়ারের সেডান গাড়িগুলোই বিক্রির প্রধান অংশ হয়ে ওঠে। ধীরে ধীরে এসব গাড়ির সঙ্গে এমন এক রক্ষণশীল ও বয়স্ক ক্রেতাগোষ্ঠীর ভাবমূর্তি তৈরি হয়, যারা ব্যাংকের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা কিংবা অভিজাত গলফ ক্লাবের সদস্যদের প্রতিনিধিত্ব করেন।
এই ভাবমূর্তি থেকে বেরিয়ে আসাই এখন জাগুয়ারের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।
জার্মান প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে লড়াইয়ে ব্যর্থতা
জাগুয়ারকে নতুনভাবে প্রতিষ্ঠা করতে টাটা বিপুল বিনিয়োগ করেছিল। লক্ষ্য ছিল জার্মানির বিলাসবহুল গাড়ি নির্মাতা বিএমডব্লিউ ও মার্সিডিজ-বেঞ্জের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করা। নকশা, নির্মাণমান ও প্রযুক্তিতে প্রতিদ্বন্দ্বীদের সমপর্যায়ে পৌঁছানোর চেষ্টা করেছিল প্রতিষ্ঠানটি।
কিন্তু সেই প্রচেষ্টা প্রত্যাশিত ফল দেয়নি। গাড়ির মান ভালো হওয়া সত্ত্বেও অনেক ক্রেতা জার্মান ব্র্যান্ডের প্রতি তাদের আনুগত্য ধরে রাখেন।

২০১৮ সালে জাগুয়ারের বিক্রি সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল। ওই বছর প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার গাড়ি বিক্রি করে। একই সময়ে বিএমডব্লিউ ও মার্সিডিজ-বেঞ্জের প্রত্যেকটি ব্র্যান্ডের বিক্রি ছিল ২০ লাখেরও বেশি। এরপর জাগুয়ারের বিক্রি ক্রমাগত কমতে থাকে।
এই ব্যবধান শুধু উৎপাদন বা নকশার মান দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। বিলাসবহুল গাড়ির বাজারে ব্র্যান্ডের পরিচিতি, ক্রেতাদের আস্থা, পুনর্বিক্রয়মূল্য এবং দীর্ঘদিনের অভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ। জাগুয়ার এসব ক্ষেত্রে প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে পাল্লা দিতে পারেনি।
পুরোনো গাড়ি বন্ধ করে বৈদ্যুতিক পথে বড় বিনিয়োগ
২০২১ সালে শুরু হওয়া নতুন পরিকল্পনা জাগুয়ারের জন্য আগের যেকোনো পরিবর্তনের চেয়ে বড়। জেএলআর জাগুয়ারকে সম্পূর্ণ ব্যাটারিচালিত গাড়ির ব্র্যান্ডে রূপান্তর করতে অন্তত ২২৫ কোটি পাউন্ড ব্যয় করেছে।
২০২৪ সালে প্রতিষ্ঠানটি আগের মডেলের গাড়ি উৎপাদন বন্ধ করে দেয়। এর ফলে পুরোনো ক্রেতাদের জন্য পরিচিত গাড়িগুলোর ধারাবাহিকতা থেমে যায়, আর নতুন মডেল বাজারে আসার আগেই প্রতিষ্ঠানটি কার্যত একটি পরিবর্তনকালীন সময়ে প্রবেশ করে।
একই বছরের নভেম্বরে জাগুয়ার নতুন বিপণন প্রচার শুরু করে। সেখানে উজ্জ্বল রঙের ভবিষ্যতমুখী পোশাক পরা বিভিন্ন মডেলকে দেখানো হলেও কোনো গাড়ি ছিল না। প্রচারটি নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়। অনেক গাড়িপ্রেমী ক্ষুব্ধ হন। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও প্রচারটিকে ‘অত্যন্ত প্রগতিশীল’ বলে সমালোচনা করেন।
প্রচারটির সঙ্গে যুক্ত দুটি ধারণাগত গাড়ি—একটি উজ্জ্বল গোলাপি, অন্যটি হালকা নীল—নিয়ে সমালোচকদের মধ্যে মতভেদ দেখা দেয়। কারও কাছে এগুলো ছিল সাহসী ও ব্যতিক্রমী নকশার উদাহরণ, আবার কারও কাছে ছিল অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত।
পুরোনো পরিচিতি থেকে বেরিয়ে আসার অংশ হিসেবে জাগুয়ার নতুন গোলাকার অক্ষরের নকশা গ্রহণ করে এবং গর্জনরত বিড়ালের পরিচিত প্রতীক বাদ দেয়। ব্র্যান্ডটির ঐতিহ্যপন্থী সমর্থকদের অনেকেই এতে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। বিজ্ঞাপন নির্মাণকারী সংস্থাকে পরে সরিয়ে দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানের প্রভাবশালী নকশাপ্রধান জেরি ম্যাকগভার্নও অনির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে প্রতিষ্ঠান ছেড়ে চলে যান।
এসব ঘটনা দেখিয়েছে, জাগুয়ারের পরিবর্তন শুধু নতুন গাড়ি তৈরির প্রকল্প নয়; এটি ব্র্যান্ডটির পরিচয় নিয়ে একটি বড় পরীক্ষা।
নতুন গাড়ির দামই সবচেয়ে বড় বাধা?
নতুন জাগুয়ারের সামনে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—ব্র্যান্ডটির পুরোনো ক্রেতাদের বাইরে গিয়ে পর্যাপ্ত নতুন ক্রেতা পাওয়া যাবে কি না।
নতুন গাড়িটির সম্ভাব্য দাম অন্তত ১ লাখ ৩০ হাজার পাউন্ড। ২০২৪ সালে পুরোনো মডেলের উৎপাদন বন্ধ হওয়ার আগে জাগুয়ারের সবচেয়ে সস্তা গাড়ির দামের তুলনায় এটি প্রায় চার গুণ বেশি। অর্থাৎ, জাগুয়ার এমন এক বাজারে প্রবেশ করতে চাইছে, যেখানে ক্রেতার সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম এবং প্রত্যাশা অনেক বেশি।
গাড়িশিল্প বিশ্লেষক ফেলিপে মুনোজের ধারণা, এই দামে গাড়িটি একটি সীমিত ক্রেতাগোষ্ঠীর মধ্যেই আটকে থাকতে পারে। উচ্চমূল্যের বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারেও চাহিদা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। পোরশে টাইকানের দুর্বল বিক্রি জার্মান গাড়ি নির্মাতাটির সাম্প্রতিক সমস্যার অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
একই সঙ্গে প্রতিযোগিতাও বাড়ছে। দামি বৈদ্যুতিক গাড়ি কিনতে আগ্রহীরা মার্সিডিজের নতুন এএমজি-জিটি কিংবা বেন্টলির প্রথম বৈদ্যুতিক গাড়ি টরকাল বেছে নিতে পারেন। টেসলার নতুন রোডস্টারও ক্রেতাদের আকর্ষণ করতে পারে। গাড়িটি ১৫ অক্টোবর উন্মোচনের কথা রয়েছে এবং এতে রকেটের মতো থ্রাস্টার ব্যবহারের কথাও আলোচনায় এসেছে।

এমন প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হলে জাগুয়ারকে শুধু আকর্ষণীয় নকশা বা শক্তিশালী মোটর দিলেই চলবে না। গাড়িটির প্রযুক্তি, ব্যবহারিক সুবিধা, আরাম, নির্ভরযোগ্যতা ও ব্র্যান্ডের নতুন পরিচয়—সবকিছুতেই ক্রেতাদের আস্থা অর্জন করতে হবে।
রেঞ্জ রোভারের সঙ্গে নিজেরাই প্রতিযোগিতায়
জাগুয়ারের নতুন পরিকল্পনার আরেকটি সমস্যা হলো, একই প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মধ্যে প্রতিযোগিতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা।
জেএলআর একদিকে জাগুয়ারকে উচ্চমূল্যের বৈদ্যুতিক সেডানের বাজারে নিয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে রেঞ্জ রোভারও বৈদ্যুতিক এসইউভির পরিসর বাড়াচ্ছে। রেঞ্জ রোভারের কিছু বৈদ্যুতিক গাড়ির দাম জাগুয়ারের নতুন গাড়ির কাছাকাছি হতে পারে। এর পাশাপাশি রেঞ্জ রোভার একটি ব্যাটারিচালিত সেডান তৈরির পরিকল্পনাও করছে, যা সরাসরি জাগুয়ারের নতুন মডেলের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠতে পারে।
ফলে জেএলআরকে একই সময়ে দুটি প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হচ্ছে। প্রথমত, কীভাবে জাগুয়ারের বিক্রি বাড়ানো যায়? দ্বিতীয়ত, কীভাবে এমনভাবে ব্র্যান্ডগুলোর অবস্থান নির্ধারণ করা যায়, যাতে একটির সাফল্য অন্যটির ব্যবসাকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে?
বিলাসবহুল গাড়ির বাজারে নতুন ক্রেতাগোষ্ঠী তৈরি করা সহজ নয়। তাই প্রতিষ্ঠানটির জন্য শুধু দাম বাড়িয়ে নতুন পরিচয় তৈরি করাই যথেষ্ট হবে না; কোন ক্রেতা কোন ব্র্যান্ডের গাড়ি কিনবেন, সেটিও পরিষ্কার করতে হবে।
জেএলআরের নিজের ব্যবসাও চাপে
জাগুয়ারকে নতুন করে গড়ে তোলার ব্যয় এমন এক সময়ে বাড়ছে, যখন মূল প্রতিষ্ঠান জেএলআর নিজেই আর্থিক ও পরিচালনাগত চাপে রয়েছে।
এক বছর আগে একটি সাইবার হামলার কারণে প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন কার্যক্রম কয়েক সপ্তাহ ধরে ব্যাহত হয়। ২০২৬ সালের মার্চে শেষ হওয়া অর্থবছরে কর-পূর্ব মুনাফা কমে মাত্র ১ কোটি ৪০ লাখ পাউন্ডে দাঁড়ায়। আগের অর্থবছরে এই মুনাফা ছিল ২৫০ কোটি পাউন্ড।
চীনে প্রতিষ্ঠানটির গাড়ির বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে শুল্কের প্রভাবও ব্যবসায় চাপ তৈরি করেছে। যুক্তরাষ্ট্র জেএলআরের সবচেয়ে বড় বাজার; মোট বিক্রির প্রায় ৩০ শতাংশ এই দেশ থেকে আসে।
এই পরিস্থিতিতে খরচ কমাতে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে প্রায় ৪ হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দেয় প্রতিষ্ঠানটি। সংখ্যাটি জেএলআরের মোট কর্মীর প্রায় এক-দশমাংশ।
এমন পরিস্থিতিতে জাগুয়ারের নতুন গাড়িতে বিপুল বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নতুন মডেল সফল না হলে শুধু জাগুয়ার নয়, পুরো প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থার ওপরও চাপ বাড়তে পারে।
বছরে কয়েক দশ হাজার গাড়ি বিক্রিই লক্ষ্য
জাগুয়ারের প্রধান রডন গ্লোভার বলেছেন, বছরে কয়েক দশ হাজার গাড়ি বিক্রি করতে পারলেই সাফল্য পরিমাপ করা হবে। অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানটি আগের মতো বিপুলসংখ্যক গাড়ি বিক্রির বদলে কম সংখ্যক গাড়ি উচ্চমূল্যে বিক্রি করে লাভজনক হতে চায়।
নতুন গাড়ির বৈদ্যুতিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভবিষ্যতে একটি এসইউভি ও একটি কুপে তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে বলেও গুঞ্জন আছে। এমন হলে একটি মডেলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নতুন ক্রেতাদের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তবে সবকিছুই নির্ভর করছে প্রথম নতুন গাড়িটির বাজারে সাড়া পাওয়ার ওপর। পর্যাপ্ত ক্রেতা না মিললে পরবর্তী মডেল তৈরির পরিকল্পনাও বাধাগ্রস্ত হতে পারে। অন্যদিকে নতুন গাড়ি যদি জাগুয়ারকে বিলাসবহুল বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারে শক্ত অবস্থান এনে দিতে পারে, তাহলে ব্র্যান্ডটি আবারও নতুনভাবে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাবে।
জাগুয়ারের সামনে তাই দুটি সম্ভাবনা। একদিকে রয়েছে নতুন প্রযুক্তি, নতুন ক্রেতা ও নতুন পরিচয়ের মাধ্যমে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ। অন্যদিকে রয়েছে বিপুল বিনিয়োগের ঝুঁকি, সীমিত বাজার এবং শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বীদের চাপ।
নতুন গাড়িটি সফল হলে জাগুয়ারের ইতিহাসে এটি হতে পারে নতুন অধ্যায়ের সূচনা। কিন্তু ক্রেতাদের মন জয় করতে ব্যর্থ হলে যে পরিবর্তনকে ব্র্যান্ডটির শেষ সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে, সেটিই হয়তো হয়ে উঠবে তার শেষ অধ্যায়।












