সারা দেশে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধ রাখার ঘোষণা থেকে সরে এসেছেন খুচরা ও পরিবেশক পর্যায়ের ব্যবসায়ীরা। বৃহস্পতি ও শুক্রবার, অর্থাৎ ১৫ ও ১৬ অক্টোবর তাঁদের দোকান বন্ধ রাখার কথা ছিল। বুধবার এই এলপিজি ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়। ফলে রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার কেনাবেচা আজ ও কাল স্বাভাবিক নিয়মে চলার কথা। ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি মো. সেলিম খান। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন বা বিইআরসির চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠকের পর এ সিদ্ধান্ত আসে।
বৈঠকে ব্যবসায়ীদের জানানো হয়, তাঁদের দাবিগুলো ২৯ অক্টোবর গণশুনানিতে শোনা হবে। সেলিম খান বলেন, এর পরিপ্রেক্ষিতে তাঁরা ধর্মঘট প্রত্যাহার করছেন। গত সোমবার এই দুই দিনের কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছিল সমিতি। তখন থেকেই ভোক্তাদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়ায়। বাজারে আগে থেকেই সরবরাহ নিয়ে চাপ ছিল। তাই দুই দিনের বন্ধ পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করত বলে আশঙ্কা ছিল। দাবি জানাতে গিয়ে সাধারণ ক্রেতাকে জিম্মি করা নিয়ে সমালোচনাও ওঠে। শেষ পর্যন্ত আলোচনার পথেই সমাধান এল।
ধর্মঘট ঘিরে সরকার শুরু থেকেই কড়া অবস্থান নেয়। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির আইনি ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দেন। জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, ধর্মঘট প্রত্যাহার না করলে সরকার আইনি ব্যবস্থা নেবে। দুই মন্ত্রীর বার্তা ছিল একই, দাবি আদায়ে বাজার অস্থির করা মেনে নেওয়া হবে না। আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান চায় সরকার। এই চাপের মধ্যেই বিইআরসির সঙ্গে বৈঠকে বসেন ব্যবসায়ী নেতারা। এরপরই এলপিজি ধর্মঘট প্রত্যাহার করার ঘোষণা আসে।
ব্যবসায়ীদের দাবির তালিকায় কয়েকটি বিষয় আছে। প্রথমত, তাঁরা প্রশাসনিক হয়রানি বন্ধ চান। দ্বিতীয়ত, পরিবেশকদের কমিশনের হার নতুন করে পর্যালোচনা চান। তৃতীয়ত, কোম্পানিগুলোর কাছে অব্যবহৃত পড়ে থাকা বিপুল সিলিন্ডার দেশের সরবরাহ ব্যবস্থায় ছাড়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। দেশে এলপিজি আমদানি করে বেসরকারি কোম্পানি। প্রতি মাসে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে মিলিয়ে দাম ঠিক করে বিইআরসি। কিন্তু খুচরা দোকানে অনেক সময় নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। গণশুনানিতে এসব প্রশ্ন সামনে আসতে পারে।
এলপিজি এখন দেশের লাখো পরিবারের রান্নার বড় ভরসা। বিশেষ করে যেসব এলাকায় পাইপলাইনের গ্যাস নেই, সেখানে সিলিন্ডারই প্রধান উপায়। রেস্তোরাঁ, ছোট খাবারের দোকান আর অনেক যানবাহনও এই গ্যাসে চলে। তাই দুই দিন বিক্রি বন্ধ থাকলে ভোগান্তি শুধু ঘরের ভেতরে সীমাবদ্ধ থাকত না। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটে এলপিজি আমদানিও কঠিন হয়েছে। বেসরকারি আমদানিকারকেরা বিকল্প উৎস খুঁজছেন বলে জানিয়েছে সরকার।
সাধারণ ক্রেতার জন্য এখনকার খবর হলো, দুই দিনের এলপিজি ধর্মঘট প্রত্যাহার হওয়ায় দোকান খোলা থাকার কথা। তবে কোনো এলাকায় সরবরাহে টান থাকলে আতঙ্কে বাড়তি সিলিন্ডার না কেনাই ভালো। নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি চাইলে ক্রেতা ভোক্তা অধিকার কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করতে পারেন। এখন নজর থাকবে ২৯ অক্টোবরের গণশুনানির দিকে। সেখানে দাম, কমিশন ও সরবরাহ নিয়ে যে সিদ্ধান্ত আসবে, তার প্রভাব পড়বে প্রতিটি রান্নাঘরে।












