হামের উপসর্গ নিয়ে ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত এই হিসাব দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। নতুন সাতটি মৃত্যুকেই সন্দেহভাজন হাম হিসেবে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকায়। এ নিয়ে চলতি প্রাদুর্ভাবে হামের উপসর্গে মৃত্যু দাঁড়াল ১ হাজার ১৭৭ জনে। গত ১৫ মার্চ থেকে এই হিসাব রাখছে অধিদপ্তর।
মোট মৃত্যুর মধ্যে ১ হাজার ৭৩টি সন্দেহভাজন হামের ঘটনা। পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে মৃত্যু ১০৪টি। নতুন কোনো নিশ্চিত মৃত্যু না থাকায় এই সংখ্যা আগের দিনের মতোই আছে। একই ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন রোগী পাওয়া গেছে ১ হাজার ১৯৯ জন। ফলে সন্দেহভাজন রোগীর মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৮ হাজার ৫৭০ জনে। এই সময়ে পরীক্ষায় আরও ১২৮ জনের হাম নিশ্চিত হয়েছে। এতে নিশ্চিত রোগী বেড়ে হয়েছে ২২ হাজার ৮৪০ জন। সন্দেহভাজন মানে উপসর্গ দেখে চিকিৎসকেরা হাম বলে ধরেছেন, তবে পরীক্ষায় তা নিশ্চিত হয়নি। তাই প্রকৃত চিত্র বুঝতে দুই হিসাবই গুরুত্বপূর্ণ।
হাসপাতালের ওপর চাপও কম নয়। ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত ১ লাখ ৮৫ হাজার ৩৯০ জন সন্দেহভাজন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ১ লাখ ৭৭ হাজারের বেশি মানুষ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। অর্থাৎ ভর্তি হওয়া রোগীর বড় অংশই সেরে উঠছে। তবু প্রায় প্রতিদিনই নতুন মৃত্যুর খবর আসছে। মার্চে শুরু হওয়া এই হিসাব এখন সাত মাসে গড়িয়েছে। সবশেষ ২৪ ঘণ্টাতেও নতুন রোগী ছিল হাজারের বেশি। ফলে হাসপাতালের শয্যা, চিকিৎসক আর ওষুধের ওপর চাপ কমছে না। এই পরিস্থিতিতে হামের উপসর্গে মৃত্যু কমানোই এখন স্বাস্থ্য বিভাগের বড় চ্যালেঞ্জ।
হাম খুব ছোঁয়াচে রোগ। হাঁচি ও কাশির মাধ্যমে এটি দ্রুত একজন থেকে আরেকজনে ছড়ায়। শিশুরাই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে। জ্বর, কাশি, সর্দি, চোখ লাল হওয়া আর শরীরে লালচে দানা এর সাধারণ লক্ষণ। সাধারণত জ্বর শুরুর কয়েক দিন পর মুখ থেকে দানা ছড়াতে শুরু করে। অপুষ্ট শিশুর ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ার মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। চিকিৎসকেরা বলছেন, হাম ঠেকানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায় টিকা। এ বছর এপ্রিলে দেশজুড়ে শিশুদের হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি চালানো হয়েছিল। যেসব শিশু কোনো ডোজ পায়নি, তাদের দ্রুত টিকার আওতায় আনা জরুরি। টিকা নেওয়া শিশুর হাম হলেও সাধারণত তা কম জটিল হয়। চিকিৎসকের পরামর্শে ভিটামিন এ খাওয়ানোও জটিলতা কমাতে সাহায্য করে।
সামনে দুর্গাপূজার ছুটি। অনেক পরিবার শিশুদের নিয়ে গ্রামে যাবে, মণ্ডপে মণ্ডপে ভিড়ও বাড়বে। ভিড়ের মধ্যে রোগ ছড়ানোর ঝুঁকি বেশি থাকে। তাই শিশুর জ্বর আর গায়ে দানা দেখা দিলে তাকে ভিড় থেকে দূরে রাখা ভালো। দেরি না করে কাছের সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করা উচিত। ঘরে বসে অপেক্ষা করলে বা নিজে নিজে ওষুধ খাওয়ালে জটিলতা বাড়তে পারে। শ্বাসকষ্ট, খিঁচুনি বা খাওয়া বন্ধ করে দিলে শিশুকে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে। টিকার কার্ড দেখে নিন, কোনো ডোজ বাকি থাকলে দিয়ে নিন। সময়মতো চিকিৎসা আর টিকাই হামের উপসর্গে মৃত্যু ঠেকানোর সবচেয়ে বড় ভরসা।












