সচিবালয় আগারগাঁওয়ে সরানোর প্রস্তাব উঠতে যাচ্ছে মন্ত্রিসভার আগামী বৈঠকে। গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের মঙ্গলবার এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের এ কথা জানান। তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে মন্ত্রিসভা। প্রাথমিক যাচাই ও প্রস্তুতির কাজ এরই মধ্যে চলছে। মন্ত্রিসভা অনুমোদন দিলে দ্রুত কাজ শুরু করা যাবে বলে আশা করছে মন্ত্রণালয়। সচিবালয় দেশের প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র। এখানেই বেশির ভাগ মন্ত্রণালয়ের প্রধান দপ্তর। তাই এটি সরানোর সিদ্ধান্ত বড় পরিবর্তন হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
মন্ত্রী জানান, বর্তমান সচিবালয়ে জায়গা ও গাড়ি পার্কিংয়ের বড় সংকট রয়েছে। সব মন্ত্রণালয়ের অফিস এক জায়গায় রাখা যাচ্ছে না। কিছু মন্ত্রণালয়ের দপ্তর তাই সচিবালয়ের বাইরে চলছে। এতে প্রশাসনিক কাজের সমন্বয় কঠিন হয়ে পড়ে। সচিবালয়ের বেশির ভাগ ভবন তৈরি হয়েছিল ষাটের দশকে। পুরোনো এসব ভবনের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন আছে, বিশেষ করে ভূমিকম্পের ঝুঁকি বিবেচনায়। জায়গার অভাবে নতুন অফিস বা সভাকক্ষ তৈরির সুযোগও এখানে সীমিত। ঘিঞ্জি এলাকায় দপ্তর ছড়িয়ে থাকায় এক মন্ত্রণালয় থেকে আরেক মন্ত্রণালয়ে ফাইল চলাচলেও সময় লাগে।
জাকারিয়া তাহের জানান, সচিবালয় নিয়ে আগে থেকেই একটি মাস্টারপ্ল্যান ছিল। এখন সেই আলোচনা নতুন করে এগোচ্ছে আগারগাঁওকে কেন্দ্র করে। সরকার চায় চলতি মেয়াদের মধ্যেই সচিবালয় আগারগাঁওয়ে সরানোর কাজ শেষ করতে। মন্ত্রী বলেছেন, মন্ত্রিসভা সিদ্ধান্ত দিলে এই সরকারের মেয়াদেই কাজ শেষ করার চেষ্টা থাকবে। তবে নতুন ভবনের খরচ, নকশা বা সময়সূচি নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য জানানো হয়নি। অর্থাৎ পরিকল্পনাটি একেবারে নতুন নয়, তবে এবার বাস্তবায়নে জোর দেওয়া হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় থাকা বিষয়টি এবার সিদ্ধান্তের কাছাকাছি পৌঁছেছে।
আগারগাঁও এলাকায় এরই মধ্যে নির্বাচন কমিশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরসহ বেশ কিছু সরকারি দপ্তর রয়েছে। কাছেই শেরেবাংলা নগরে জাতীয় সংসদ ভবন ও পরিকল্পনা কমিশন। মেট্রোরেলের আগারগাঁও স্টেশন এলাকাটিকে শহরের বড় অংশের সঙ্গে যুক্ত করেছে। ফলে প্রশাসনিক কাজ এক এলাকায় আনার সুযোগ তৈরি হতে পারে। অন্যদিকে পল্টন ও আশপাশের সড়কে সচিবালয় ঘিরে যে চাপ থাকে, তা কিছুটা কমতে পারে। পুরোনো ঢাকার দিকে প্রশাসনিক ভবনের চাপ কমলে যানজট সামলানোও কিছুটা সহজ হতে পারে। মেট্রোরেলে সচিবালয় স্টেশন থেকে আগারগাঁও স্টেশনে যাতায়াতও এখন সহজ।
তবে বেশ কিছু প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি। বর্তমান সচিবালয়ের জমি ও ভবন কী কাজে লাগবে, তা জানা যায়নি। হাজারো কর্মকর্তা ও কর্মচারীর যাতায়াত কীভাবে সহজ হবে, সেটিও দেখার বিষয়। সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের সুবিধার কথাও মাথায় রাখতে হবে। সচিবালয় আগারগাঁওয়ে সরানোর সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলে এসব বিষয় সামনে আসবে। আপাতত সবার নজর মন্ত্রিসভার পরের বৈঠকের দিকে। নগর পরিকল্পনাবিদদের মতামত কতটা নেওয়া হবে, তাও এখনো স্পষ্ট নয়। এত বড় প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও মানুষের মত নেওয়া জরুরি হবে। কর্মস্থল বদলালে অনেক কর্মীর বাসা বদলের প্রশ্নও আসবে। তাই স্থানান্তর ধাপে ধাপে হবে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। সব মিলিয়ে সিদ্ধান্তটি ঢাকার প্রশাসনিক মানচিত্র বদলে দিতে পারে।












