ব্যবসায়ীদের অনলাইনে ভ্যাট রিটার্ন জমার সময় ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়িয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বা এনবিআর। এ সিদ্ধান্তে দেশের নিবন্ধিত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো সরাসরি উপকৃত হবে। চলতি বছরের জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর এই তিন কর মেয়াদের রিটার্নের জন্য নতুন সময় প্রযোজ্য হবে। বৃহস্পতিবার এক আদেশে এনবিআর এ সিদ্ধান্ত জানায়। এই সময়ের মধ্যে রিটার্ন দিলে কোনো সুদ বা জরিমানা দিতে হবে না। ফলে যাঁরা এখনো রিটার্ন জমা দেননি, তাঁরা আরও কয়েক দিন হাতে পাচ্ছেন। সিদ্ধান্তটি এসেছে অধ্যাদেশ জারির পরদিন। তাই নতুন নিয়ম বুঝে নিতে ব্যবসায়ীরাও কিছুটা সময় পাচ্ছেন।
কেন হঠাৎ ভ্যাট রিটার্ন জমার সময় বাড়ানো হলো, তার ব্যাখ্যাও দিয়েছে এনবিআর। মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬ জারির ফলে রিটার্ন জমার নিয়মে পরিবর্তন এসেছে। অধ্যাদেশটি ১৪ অক্টোবর গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়েছে। নতুন নিয়মের সঙ্গে মিল রাখতে এনবিআরের অনলাইন ভ্যাট ব্যবস্থা বা ই-ভ্যাট সিস্টেমে কিছু কারিগরি পরিবর্তন দরকার। সেই কাজের জন্যই সময় বাড়ানো হয়েছে। মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২ এর ৬৪ ধারার ২ উপধারার ক্ষমতাবলে জনস্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এ বছরের বাজেটে রিটার্ন জমার নিয়মে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছিল। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে তিন কর মেয়াদ পরপর একবারে রিটার্ন দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়। নতুন অধ্যাদেশে সেই নিয়মে আবার বদল এসেছে। এখন নিবন্ধিত বা তালিকাভুক্ত সাধারণ প্রতিষ্ঠানকে প্রতিটি কর মেয়াদ শেষ হওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে রিটার্ন দিতে হবে। সরকারি, আধা সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক ও বিমা কোম্পানি পাবে ২০ দিন। যাঁরা শূন্য রিটার্ন দেন, তাঁদের জন্যও ২০ দিনের সময় রাখা হয়েছে।
ব্যবসায়ীদের জন্য এই সিদ্ধান্ত স্বস্তির। কারণ নিয়ম বদলের মধ্যে সময়মতো রিটার্ন দিতে না পারলে সুদ ও জরিমানার ঝুঁকি থাকত। হঠাৎ নিয়ম বদলালে হিসাব মেলাতে বাড়তি সময় লাগে। পূজার ছুটির কারণে এবার বাড়তি সময়ের সুবিধা আরও কাজে আসবে। সরকারের জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। এনবিআরের মোট রাজস্বের বড় একটি অংশ আসে ভ্যাট থেকে। তাই সময়মতো রিটার্ন ও ভ্যাট জমা পড়া রাজস্ব আদায়ের জন্য জরুরি। নিয়ম বারবার বদলালে ব্যবসায়ীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। তাই নতুন ব্যবস্থা স্পষ্টভাবে জানানোর দায়িত্বও রাজস্ব বোর্ডের। ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোও সদস্যদের মধ্যে নতুন নিয়মের তথ্য ছড়িয়ে দিতে পারে।
ভ্যাট রিটার্ন জমার সময় বাড়লেও শেষ দিনের অপেক্ষায় না থাকাই ভালো। শেষ মুহূর্তে অনেকে একসঙ্গে ঢুকলে অনলাইন ব্যবস্থায় চাপ বাড়ে। আবার সামনে দুর্গাপূজার লম্বা ছুটি আছে। ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর টানা পাঁচ দিন সরকারি অফিস বন্ধ থাকবে। ফলে ছুটির আগেই কাগজপত্র গুছিয়ে রাখা ব্যবসায়ীদের জন্য বুদ্ধিমানের কাজ হবে। ছুটি শেষে হাতে থাকবে মাত্র এক দিন। কোনো সমস্যা হলে নিজ নিজ ভ্যাট সার্কেল অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাবে। এনবিআরের আদেশেই বলা আছে, বাড়ানো সময়ের মধ্যে রিটার্ন দিলে সুদ বা জরিমানা আরোপ হবে না।












