খুলনাসহ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলায় লোডশেডিং হঠাৎ বেড়ে গেছে। পশ্চিমাঞ্চল বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি বা ওজোপাডিকোর কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকক্ষের হিসাবে বুধবার সন্ধ্যায় এই অঞ্চলে চাহিদা ছিল ৬৯৪ মেগাওয়াট। সরবরাহ মিলেছে ৫৭৮ মেগাওয়াট। ফলে সন্ধ্যার ব্যস্ত সময়ে ঘাটতি দাঁড়ায় ১১৬ মেগাওয়াটে। একই দিন দুপুরেও ঘাটতি ছিল ১০১ মেগাওয়াট। দুপুরে এই অঞ্চলে চাহিদা ছিল ৬৬১ মেগাওয়াট, আর সরবরাহ ছিল ৫৬০ মেগাওয়াট। অর্থাৎ দিনের বেশির ভাগ সময়ই চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ কম মিলছে। ওজোপাডিকো খুলনা ও বরিশাল বিভাগসহ দক্ষিণ-পশ্চিমের এই জেলাগুলোতে বিদ্যুৎ বিতরণ করে।
মাত্র এক দিনের ব্যবধানে পরিস্থিতি অনেকটা খারাপ হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে এই ২১ জেলায় ঘাটতি ছিল মাত্র ৩৬ মেগাওয়াট। সেদিন সন্ধ্যায় তা বেড়ে হয় ৭৯ মেগাওয়াট। বুধবার সন্ধ্যায় খুলনা অঞ্চলে ঘাটতি ছিল ৮১ মেগাওয়াট আর বরিশাল অঞ্চলে ৩৫ মেগাওয়াট। জেলাভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি লোডশেডিং হয়েছে খুলনায়, ২৯ মেগাওয়াট। এরপর বরিশালে ২২, রাজবাড়ীতে ১৩, ফরিদপুরে ১২ আর ঝিনাইদহে ১১ মেগাওয়াট। মাগুরা, নড়াইল, মাদারীপুর, ভোলা ও পটুয়াখালীতেও বিদ্যুৎ কাটা পড়েছে। দুপুরের হিসাবে আবার বরিশাল জেলায় ঘাটতি ছিল সবচেয়ে বেশি, ২৫ মেগাওয়াট। সেই সময় বরিশাল অঞ্চলে চাহিদা ছিল ১৮০ মেগাওয়াট, কিন্তু সরবরাহ মিলেছে ১৩৮ মেগাওয়াট। অথচ মঙ্গলবার দুপুরে বরিশাল অঞ্চল পুরো চাহিদার বিদ্যুৎই পেয়েছিল।
সংখ্যার চেয়ে মানুষের ভোগান্তির ছবিটা আরও কঠিন। খুলনার গোবরচাকার বাসিন্দা বেলাল হোসেন বলেন, আগে এক ঘণ্টা পরপর বিদ্যুৎ যেত। এখন একবার গেলে দেড় ঘণ্টা পর আসে। তাঁর হিসাবে দিনে ১৩ থেকে ১৪ ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। বয়রার বাসিন্দা আম্বিয়া খাতুন জানান, গ্যাসের সংকট আগে থেকেই চলছে। এর মধ্যে ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় ঘরের কাজ সামলানো আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। টুটপাড়ার লতিকা রানী বলেন, জরুরি কাজের সময়ই বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। তাঁর কথায়, হঠাৎ করেই পরিস্থিতি খারাপ হয়ে গেছে। খুলনা অঞ্চলের হিসাবই সবচেয়ে বড়। বুধবার সন্ধ্যায় সেখানে চাহিদা ছিল ৫২৮ মেগাওয়াট, কিন্তু সরবরাহ মিলেছে ৪৪৭ মেগাওয়াট।
২১ জেলায় লোডশেডিং বাড়ার সময়টাও খারাপ। আজ থেকে দুর্গাপূজা শুরু হয়েছে। মণ্ডপের আলো, মাইক আর ঢাকের আয়োজন সবই সন্ধ্যাকেন্দ্রিক। আর হিসাব বলছে, সন্ধ্যাতেই ঘাটতি সবচেয়ে বড়। দুপুরের তুলনায় সন্ধ্যায় এই অঞ্চলে চাহিদা বাড়ে, অথচ সরবরাহ সেই হারে বাড়ছে না। ফলে উৎসবের সন্ধ্যাগুলোতে আঁধারে পড়ার শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। মণ্ডপ ছাড়াও দোকানপাট আর বাজারে এই সময়েই ভিড় সবচেয়ে বেশি থাকে।
খুলনা ও বরিশাল অঞ্চলের বিদ্যুৎ আসে মূলত জাতীয় গ্রিড থেকে। গ্রিড থেকে চাহিদামতো বিদ্যুৎ না মিললে বিতরণ কোম্পানিকে এলাকা ভাগ করে বিদ্যুৎ বন্ধ রাখতে হয়। দেশে গ্যাস ও জ্বালানির টানাটানির প্রভাব তাই সরাসরি পড়ছে এই জেলাগুলোর ঘরে ঘরে। ২১ জেলায় লোডশেডিং কমাতে হলে গ্রিডে সরবরাহ বাড়ানোই প্রধান উপায়। ততদিন অন্তত সন্ধ্যার সময়টায় বিদ্যুৎ যাওয়া-আসা একটা সূচি মেনে হলে মানুষ আগে থেকে দিনের কাজ সাজিয়ে নিতে পারত। পূজার কয়েক দিন সন্ধ্যায় সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে উৎসবের আনন্দও অটুট থাকবে।












