মহাষষ্ঠীর বোধনের মধ্য দিয়ে আজ শুক্রবার দেশজুড়ে দুর্গোৎসব শুরু হয়েছে। সকালে ঢাকাসহ সারা দেশের মণ্ডপে ষষ্ঠীর পূজা হয়েছে। সন্ধ্যায় দেবীর আমন্ত্রণ ও অধিবাসের আচার পালন করছেন ভক্তরা। বোধন মানে দেবীকে জাগিয়ে তোলার আনুষ্ঠানিক আহ্বান। এর মধ্য দিয়েই পাঁচ দিনের মূল পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এবার দেশের ৩৩ হাজারের বেশি মণ্ডপে পূজা হচ্ছে। হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় এই উৎসব ঘিরে মণ্ডপে মণ্ডপে এখন ঢাকের শব্দ আর আলোর সাজ। শহর থেকে গ্রাম, সব জায়গাতেই প্রস্তুতি শেষ করে অপেক্ষায় ছিলেন আয়োজকেরা। প্রতিমা গড়া, মণ্ডপ সাজানো আর আলোকসজ্জার কাজ চলেছে কয়েক সপ্তাহ ধরে।
উৎসবের সূচি এবার একটু আলাদা। শনিবার ও রোববার দুই দিন ধরে মহাসপ্তমীর পূজা হবে। সোমবার মহাষ্টমী আর মঙ্গলবার মহানবমী। বুধবার ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে উৎসব। পূজা উপলক্ষে সরকার ২০ থেকে ২২ অক্টোবর তিন দিনের ছুটি দিয়েছে। এর পরের শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি। ফলে ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর টানা পাঁচ দিন ছুটি পাচ্ছেন চাকরিজীবীরা। উৎসবের মূল আকর্ষণ থাকে অষ্টমী ও নবমীর দিনে। এই দুই দিনে মণ্ডপে মণ্ডপে ভক্ত আর দর্শনার্থীর ভিড় সবচেয়ে বেশি হয়। দশমীর দিন বিকেলে প্রতিমা নিয়ে শোভাযাত্রা বের হয় নদী ও জলাশয়ের দিকে।
নিরাপত্তায় এবার বড় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আনসার ও ভিডিপির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে জানান, দেশজুড়ে ২ লাখ ১২ হাজারের বেশি সদস্য মণ্ডপে দায়িত্ব পালন করছেন। একই দিন ঢাকার রমনা কালীমন্দিরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা দেখতে যান বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী। তিনি বলেন, বিজিবি যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা সামলাতে প্রস্তুত। সীমান্তঘেঁষা মণ্ডপে আলাদা নজরদারি রাখা হয়েছে। পুলিশসহ অন্য বাহিনীর সদস্যরাও মণ্ডপ ঘিরে কাজ করছেন। ঝুঁকিপূর্ণ মণ্ডপে বেশি সদস্য রাখা হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত সাড়া দিতে আলাদা দলও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
তবে উৎসবের আগে কিছু উদ্বেগও আছে। পূজার আগে কয়েকটি জেলায় প্রতিমা ভাঙচুর ও মন্দিরে হামলার অভিযোগ তুলেছেন পূজা আয়োজকেরা। পূজা উদযাপন পরিষদ ও মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির নেতারা চান, উৎসবের দিনগুলোতে যেন এমন ঘটনা আর না ঘটে। তাঁদের দাবি, শুধু পূজার কয়েক দিন নয়, সারা বছর সংখ্যালঘুদের উপাসনালয় সুরক্ষিত রাখতে হবে। দেশজুড়ে দুর্গোৎসব শুরু হওয়ায় এখন সবার নজর শান্তিপূর্ণ আয়োজনের দিকে। কারণ এই উৎসব শুধু ধর্মীয় আচার নয়, এটি বাংলাদেশের সম্প্রীতির পরিচয়ও বহন করে। প্রতিবছর বহু মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান প্রতিবেশীও মণ্ডপ ঘুরে দেখেন। উৎসবের এই মিলনমেলাই দেশের বহু মানুষের কাছে শরতের সবচেয়ে রঙিন সময়।
ঢাকার ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির আর রমনা কালীমন্দিরসহ বড় মণ্ডপগুলোতে আজ থেকে ভিড় বাড়ার কথা। পরিবার নিয়ে মণ্ডপ ঘুরে দেখা, নতুন জামা আর মিষ্টিমুখ এই কয়েক দিনের চেনা ছবি। দেশজুড়ে দুর্গোৎসব শুরু হওয়ায় বাজার ও যানবাহনেও চাপ বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ছুটির আগে অনেকেই গ্রামের বাড়ির পথে রওনা দেবেন। ভিড়ের মধ্যে সাবধানে চলাফেরা করা এবং যেকোনো সমস্যায় কাছের নিরাপত্তাকর্মীকে জানানোই দর্শনার্থীদের জন্য নিরাপদ।












