ভারতের সঙ্গে আসন্ন কনস্যুলার সংলাপে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিনজনকে ফেরত চাইবে বাংলাদেশ। তালিকায় আরও আছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। আছেন শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার আসামি ফয়সালও। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, এবারের বৈঠকে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ দাবি বিশেষ গুরুত্ব পাবে। দুই দেশের মধ্যে এটি হবে পঞ্চম দফার কনস্যুলার সংলাপ। বৈঠকটি হবে দুই পক্ষের মহাপরিচালক পর্যায়ে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ঢাকা ও দিল্লির মধ্যে এটিই হবে প্রথম আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সংলাপ। বাংলাদেশ প্রস্তাব দিয়েছিল অক্টোবরের শেষ দিকে বৈঠক করার। দুর্গাপূজার কারণে ভারত নভেম্বরের শুরুতে বসতে চেয়েছে। এর আগে চতুর্থ দফার সংলাপ হয়েছিল ২০২৪ সালের মে মাসে, নয়াদিল্লিতে। এর কয়েক মাস পর, ২০২৪ সালের আগস্টে, গণঅভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতা ছেড়ে ভারতে চলে যান শেখ হাসিনা। তখন থেকে তিনি সেখানেই আছেন। দেশে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা চলছে, আর তাঁকে ফেরানোর দাবি রাজনীতির মাঠেও বারবার উঠেছে। ফলে দুই বছরের বেশি সময় পর এই কাঠামোয় আবার এক টেবিলে বসছে দুই দেশ।
প্রত্যর্পণের অনুরোধ অবশ্য নতুন নয়। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে কূটনৈতিক পত্র পাঠিয়ে প্রথম আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানায় ঢাকা। ২০২৫ সালের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রায় দেন। সেই রায়ে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। রায়ের পর ঢাকা আবার প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানায়। তবে এত দিন বিষয়টি মূলত চিঠি আর বিবৃতির মধ্যেই ছিল। এবার দুই দেশের আনুষ্ঠানিক বৈঠকে সরাসরি শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ দাবি তুলছে বাংলাদেশ।
দুই দেশের মধ্যে ২০১৩ সালে একটি প্রত্যর্পণ চুক্তি সই হয়েছিল। ঢাকা এই চুক্তির ভিত্তিতেই অনুরোধ জানিয়ে আসছে। ভারত আগে জানিয়েছিল, তারা অনুরোধটি পরীক্ষা করে দেখছে। এর বাইরে দিল্লি প্রকাশ্যে কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি। কূটনৈতিক বৈঠকে বিষয়টি তোলার অর্থ, ঢাকা এখন লিখিত অনুরোধের বাইরে গিয়ে মুখোমুখি জবাব চাইছে। একই সংলাপে দুই দেশের অন্য দ্বিপক্ষীয় বিষয়গুলোও আলোচনায় আসার কথা। কনস্যুলার সংলাপে সাধারণত দুই দেশের নাগরিকদের ভিসা, যাতায়াত আর বিদেশে আটক নাগরিকদের মতো বিষয় নিয়ে কথা হয়। চিকিৎসা, পড়াশোনা আর ব্যবসার কাজে বহু বাংলাদেশি নিয়মিত ভারতে যান। ফলে এই বৈঠকের ফল সাধারণ মানুষের জীবনেও প্রভাব ফেলে। তাই প্রত্যর্পণ প্রশ্নে শক্ত অবস্থান নিলেও আলোচনার পরিবেশ ধরে রাখতে চাইবে দুই পক্ষই।
বাংলাদেশের মানুষের কাছে এই প্রশ্ন শুধু কূটনীতির নয়। জুলাই আন্দোলনে নিহত ও আহতদের পরিবারগুলো বিচারের পূর্ণতা দেখতে চায়। দণ্ডিত ব্যক্তিরা দেশের বাইরে থাকলে রায় কার্যকর করা কঠিন হয়ে পড়ে। আবার একই সঙ্গে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্ক রাখাও বাংলাদেশের প্রয়োজন। এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রাখাই এখন ঢাকার বড় পরীক্ষা। হাদি হত্যা মামলার আসামিকে ফেরত চাওয়ার মধ্য দিয়েও একই বার্তা দিচ্ছে ঢাকা। এখন নজর থাকবে সংলাপের তারিখ আর দিল্লির জবাবের দিকে। শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ দাবি নিয়ে ভারত কী বলে, তা থেকেই বোঝা যাবে দুই প্রতিবেশীর সম্পর্ক কোন পথে এগোচ্ছে।












