সরকারি কাজের প্রধান কেন্দ্র বাংলাদেশ সচিবালয় ঢাকার আব্দুল গনি রোড থেকে সরিয়ে শেরেবাংলা নগরে নেওয়ার প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। রোববার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার ২৫তম বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। প্রস্তাবটি এনেছিল গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। নতুন চত্বর গড়ে উঠবে আগারগাঁওয়ের পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে। সরকারের আশা, ২০২৯ সাল নাগাদ শেরেবাংলা নগরে সচিবালয়ের দপ্তরগুলোতে কাজ শুরু হবে। বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, শেরেবাংলা নগরে সচিবালয় হবে প্রায় ৩১ দশমিক ৫৮ একর জমিতে। সেখানে উঠবে ১৪টি ভবন, প্রতিটি ১২ তলা। প্রতিটি ভবনের নিচে থাকবে তিন তলা বেসমেন্ট। সব মিলিয়ে অফিসের জায়গা হবে প্রায় ৩৩ লাখ ১৬ হাজার বর্গফুট। মোট ৩ হাজার ৮০০ গাড়ি রাখার ব্যবস্থা থাকবে, এর মধ্যে ২০০টি থাকবে মাটির ওপরে। চত্বরে থাকবে একটি মসজিদ, ৩৫০ জন করে বসার দুটি বহুমুখী হল, ক্যাফেটেরিয়া ও ডাকঘর। পুরো এলাকার প্রায় ৩০ শতাংশ রাখা হবে গাছপালা আর জলাশয়ের জন্য। যানজট সামলাতে মাটির নিচে সড়ক ও আন্ডারপাস তৈরির কথাও বলা হয়েছে। নকশার মূল ধারণা নেওয়া হয়েছে স্থপতি লুই আই কানের শেরেবাংলা নগর মহাপরিকল্পনা থেকে।
কেন এই স্থানান্তর, তার ব্যাখ্যা দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। বর্তমান সচিবালয় দাঁড়িয়ে আছে ১৭ দশমিক ৫৭ একর জমিতে। সেখানে ভবন আছে ১৩টি, যার আটটিই স্বাধীনতার আগে তৈরি। ১, ২, ৩ ও ৮ নম্বর ভবন তৈরি হয় ১৯৩৭ থেকে ১৯৩৯ সালের মধ্যে। ৫ নম্বর ভবনটি তৈরি হয় ১৯৪৭ সালে। এখানে অফিসের মোট জায়গা প্রায় ১৮ লাখ ৭৬ হাজার বর্গফুট। মন্ত্রণালয়গুলোর বাড়তি চাহিদা মেটাতে আরও ১০ লাখ বর্গফুটের বেশি জায়গা দরকার। জায়গার অভাবে ১৬টি মন্ত্রণালয়ের কাজ এখন মূল চত্বরের বাইরে চলছে। সরকার বলছে, সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগ এক চত্বরে এলে কাজের সমন্বয় সহজ হবে।
প্রকল্পের মোট খরচ এখনো ঠিক হয়নি। খরচের হিসাব তৈরির কাজ চলছে, আর পুরো টাকা দেবে সরকার নিজেই। দেশের অর্থনীতির এই সময়ে এত বড় খরচ কতটা যৌক্তিক, সংবাদ সম্মেলনে সে প্রশ্নও ওঠে। জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, বর্তমান অর্থনৈতিক অগ্রাধিকারের মধ্যেও এই কাজকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পুরোনো সচিবালয়ের ভবনগুলোর কী হবে, তা নিয়েও ভাবনা আছে। পুরান ঢাকার কিছু প্রশাসনিক দপ্তর বা ভাড়া বাড়িতে থাকা অফিস সেখানে নেওয়া হতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
একই বৈঠকে আরও দুটি সিদ্ধান্ত হয়েছে। মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বাংলা নামে “মহিলা” শব্দের বদলে “নারী” বসবে। বিপজ্জনক রাসায়নিক ও কীটনাশক বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণের আন্তর্জাতিক চুক্তি রটারডাম কনভেনশনে যোগ দেওয়ার প্রস্তাবেও সায় দিয়েছে মন্ত্রিসভা। সার্কভুক্ত দেশের মধ্যে এত দিন শুধু বাংলাদেশ ও ভুটান এই চুক্তির বাইরে ছিল। তবে সাধারণ মানুষের চোখ থাকবে শেরেবাংলা নগরে সচিবালয় প্রকল্পের দিকেই। নানা কাজে মানুষকে সচিবালয়ে যেতে হয়, তাই নতুন জায়গায় যাতায়াত কতটা সহজ হয়, সেটাই বড় প্রশ্ন। খরচের হিসাব আর বিস্তারিত নকশা কবে চূড়ান্ত হয়, এখন সেদিকেই নজর।












