ইউরোপে পেনিসিলিন উৎপাদনের শেষ পূর্ণাঙ্গ কারখানাটি এখন বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে। চীনে একই ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক ও ওষুধ তৈরির কাঁচামাল অনেক কম খরচে উৎপাদিত হওয়ায় ইউরোপের অস্ট্রিয়াভিত্তিক কারখানাটির ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, কারখানাটি বন্ধ হয়ে গেলে জীবনরক্ষাকারী অ্যান্টিবায়োটিকের জন্য ইউরোপকে চীনের ওপর আরও বেশি নির্ভর করতে হতে পারে।
অস্ট্রিয়ার আল্পস পর্বতমালার পাদদেশে কুন্ডল শহরে অবস্থিত কারখানাটি পরিচালনা করে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান স্যান্ডোজ। এটি ইউরোপের একমাত্র কারখানা, যেখানে পেনিসিলিন তৈরির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। গুরুত্বপূর্ণ সক্রিয় ওষুধ উপাদান তৈরি থেকে শুরু করে চূড়ান্ত ওষুধ উৎপাদন—সবই হয় এখানে।
কারখানাটি সম্প্রতি সম্প্রসারণে ২০ কোটি ইউরো বিনিয়োগ করেছে, যার মধ্যে ৫ কোটি ইউরো এসেছে সরকারি সহায়তা থেকে। কিন্তু এত বিনিয়োগের মাত্র তিন বছর পরই প্রতিষ্ঠানটি ইউরোপীয় কমিশনের কাছে চীনের বিরুদ্ধে ভর্তুকি-নির্ভর কম দামের ওষুধের কাঁচামাল বিক্রির অভিযোগ তদন্তের আবেদন জানিয়েছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে চীনা পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের পথ খুলতে পারে।
স্যান্ডোজের বক্তব্য, বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে সরকারি সহায়তা বা তুলনামূলক বেশি দাম নিশ্চিত করা না গেলে ইউরোপে পেনিসিলিন উৎপাদন বাণিজ্যিকভাবে টেকসই রাখা কঠিন। প্রতিষ্ঠানটির আশঙ্কা, কারখানাটি বন্ধ হয়ে গেলে ইউরোপের পেনিসিলিন সরবরাহ প্রায় পুরোপুরি চীনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বে।
পেনিসিলিনের বাজারে চীনের আধিপত্য
প্রায় এক শতাব্দী আগে লন্ডনে আলেকজান্ডার ফ্লেমিংয়ের আবিষ্কৃত পেনিসিলিন এখনো গুরুতর ও প্রাণঘাতী সংক্রমণের চিকিৎসায় ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ অ্যান্টিবায়োটিক। ইউরোপে প্রতি বছর প্রায় ১৫০ কোটি দৈনিক ডোজের সমপরিমাণ ওষুধ তৈরিতে ব্যবহৃত উপাদানের উৎপাদন ও সরবরাহে চীনের প্রভাব অত্যন্ত বেশি।
ইউরোপীয় পরিসংখ্যান সংস্থা ইউরোস্ট্যাটের তথ্য অনুযায়ী, পেনিসিলিন ও এর বিভিন্ন উপাদান আমদানিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের চীনের ওপর নির্ভরতা দ্রুত বেড়েছে। ২০১৯ সালে এসব পণ্যের আমদানিতে চীনের অংশ ছিল ৪৪ শতাংশ। গত বছর তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৬ শতাংশে। মূলত বিপুল পরিমাণে আমদানি করা সক্রিয় ওষুধ উপাদানের হিসাবেই এই পরিসংখ্যান তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে, একই ধরনের পণ্য রপ্তানিতে ইউরোপের অবস্থান অনেক দুর্বল হয়েছে। ২০০০-এর দশকের শুরুর দিকে ইউরোপ যে পরিমাণ পেনিসিলিন ও সংশ্লিষ্ট উপাদান রপ্তানি করত, এখন তা তার মাত্র এক-পঞ্চমাংশের কাছাকাছি।
এই পরিবর্তন শুধু ওষুধশিল্পের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। একসময় বস্ত্র ও সাধারণ পণ্য সংযোজনের জন্য পরিচিত চীন এখন ওষুধ, যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য উন্নত শিল্পপণ্যের বাজারেও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে। ২০২৫ সালে চীনের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পণ্যবাণিজ্য ঘাটতি দৈনিক প্রায় ১০০ কোটি ইউরোতে পৌঁছায়, যা ২০২০ সালের তুলনায় দ্বিগুণ।
ফলে ইউরোপীয় নীতিনির্ধারকেরা এখন শিল্প উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের সরবরাহ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখার উপায় খুঁজছেন।

ওষুধ সরবরাহও হয়ে উঠতে পারে কৌশলগত চাপের হাতিয়ার
স্যান্ডোজের মতে, অ্যান্টিবায়োটিকের মতো অপরিহার্য ওষুধের কাঁচামাল উৎপাদনে একটি দেশের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা ইউরোপের জন্য কৌশলগত ঝুঁকি তৈরি করছে। কূটনৈতিক বিরোধ, বাণিজ্যযুদ্ধ, মহামারি কিংবা সামরিক সংঘাতের সময় সরবরাহ সীমিত হয়ে গেলে ইউরোপের স্বাস্থ্যব্যবস্থা মারাত্মক সমস্যায় পড়তে পারে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি ও নিরাপত্তাবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইনস্টিটিউট ফর সিকিউরিটি স্টাডিজের চীনবিষয়ক বিশ্লেষক টিম রুলিগের মতে, বাজারে চীনের প্রভাব এতটাই বেড়েছে যে, দেশটি চাইলে নিজেদের কৌশলগত স্বার্থ রক্ষায় এই অবস্থানকে কাজে লাগানোর সুযোগ পেতে পারে।
তবে অ্যান্টিবায়োটিকের বাজারে চীনের প্রভাব এবং বিরল খনিজ পরিশোধনের ক্ষেত্রে দেশটির আধিপত্য এক নয়। ওষুধের বাজারে নিজেদের প্রভাবকে চীন এখনো বিরল খনিজের মতো সরাসরি জাতীয় নিরাপত্তার হাতিয়ার হিসেবে উপস্থাপন করে না। এ ধরনের পদক্ষেপ নিলে আন্তর্জাতিক বাজারে চীনের নির্ভরযোগ্য সরবরাহকারী হিসেবে সুনামও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
তবু কোভিড-১৯ মহামারির সময় ওষুধের সক্রিয় উপাদান সরবরাহ নিয়ে চীনের এক অর্থনীতিবিদের মন্তব্য পশ্চিমা দেশগুলোর উদ্বেগ বাড়িয়েছিল। পরে চীনে কর্মরত এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, কিছু বৈঠকে চীনা প্রতিনিধিরা বাণিজ্যিক বিরোধের প্রতিশোধ হিসেবে নির্দিষ্ট কিছু ওষুধের সক্রিয় উপাদান রপ্তানি বন্ধ করার সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক মতপার্থক্য আলোচনা ও পরামর্শের মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব। দেশটি সব ধরনের বাণিজ্য সুরক্ষাবাদের বিরোধিতা করে বলেও জানিয়েছে।
তবে ইউরোপের নীতিবিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, নিজস্ব উৎপাদন সক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়লে মহামারি কিংবা অন্য কোনো বড় স্বাস্থ্যসংকটের সময় প্রয়োজনীয় ওষুধ সংগ্রহ করা কঠিন হতে পারে।
স্লোভেনিয়াভিত্তিক ওষুধ গবেষণা ও উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান লাবেনার ব্যবসা উন্নয়ন বিভাগের প্রধান বোস্তিয়ান চেহের মতে, ইউরোপের নিজস্ব ওষুধ উৎপাদনশিল্প আরও দুর্বল হয়ে পড়লে বড় ধরনের স্বাস্থ্যসংকট মোকাবিলার সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
কোভিড-১৯ মহামারির পর ইউরোপীয় নীতিনির্ধারকেরা এশিয়ার ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রীর ওপর নিজেদের নির্ভরতার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে শুরু করেন। ২০২২ সালে শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার সময় ইউরোপে অ্যামোক্সিসিলিনের সরবরাহেও ঘাটতি দেখা দেয়। অ্যামোক্সিসিলিন পেনিসিলিন-জাতীয় একটি অ্যান্টিবায়োটিক, যা কুন্ডলের কারখানায় উৎপাদিত হয়।
বারবার ওষুধের ঘাটতি দেখা দেওয়ার পর ২০২৩ সালে ইউরোপীয় কমিশন কারখানাটির সম্প্রসারণে ২ কোটি ৮৩ লাখ ইউরো সহায়তা অনুমোদন করে। এর ফলে উৎপাদনক্ষমতা ২০ শতাংশ বাড়ে। কিন্তু উৎপাদনক্ষমতা বাড়লেও বাজারে চীনের কম দামের পণ্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করার সমস্যাটি কাটেনি।
উৎপাদন খরচে পিছিয়ে ইউরোপ
কুন্ডলের কারখানায় পেনিসিলিন উৎপাদনের জন্য বিশেষ প্রক্রিয়ায় সবুজ ছত্রাকের চাষ করা হয়। এরপর বিভিন্ন ধাপে তৈরি হয় অ্যান্টিবায়োটিকের সক্রিয় উপাদান। এই উৎপাদনপ্রক্রিয়া জ্বালানিনির্ভর এবং ব্যয়বহুল।
কারখানাটিতে দুই হাজারের বেশি মানুষ কাজ করেন। সেখানে বড় বড় ধাতব পাত্রে পুষ্টি উপাদান গাঁজন করে পেনিসিলিন তৈরি করা হয়। উৎপাদনের জন্য বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রয়োজন হয়।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নে জ্বালানিনির্ভর শিল্পগুলোর গড় বিদ্যুৎমূল্য চীনের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি ছিল। ফলে ইউরোপের উৎপাদকদের পক্ষে চীনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দামে প্রতিযোগিতা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
কুন্ডল কারখানাটির ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি যে পরিমাণ জ্বালানি ব্যবহার করে, তা ১ লাখ ৩০ হাজারের বেশি মানুষের বাসস্থান ইনসব্রুক শহরের ব্যবহারের কাছাকাছি। অন্যদিকে, ইউরোপে জ্বালানির খরচ বাড়লেও পেনিসিলিনের দাম একই রকম রয়েছে কিংবা কমছে।
এতে উৎপাদন ব্যয় ও বিক্রয়মূল্যের মধ্যে ব্যবধান বাড়ছে। স্যান্ডোজের প্রধান নির্বাহী রিচার্ড সেইনর বলেছেন, প্রতিযোগিতা এবং সরকারি ওষুধ কেনার প্রক্রিয়ার কারণে প্রতিষ্ঠানটি সহজে দাম বাড়াতে পারছে না।
ইউরোপের অনেক সরকার ওষুধ কেনার সময় সর্বনিম্ন দামকে অগ্রাধিকার দেয়। এতে স্বল্পমেয়াদে সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থার ব্যয় কমানো সম্ভব হলেও দীর্ঘমেয়াদে স্থানীয় উৎপাদনকারীরা প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার মতো দাম পান না। স্যান্ডোজের মতে, সরবরাহের বৈচিত্র্য ও স্থানীয় উৎপাদন সক্ষমতা বজায় রাখার বিষয়টিও সরকারি ক্রয়নীতিতে গুরুত্ব পাওয়া উচিত।
চীনের উৎপাদন ব্যয় তুলনামূলক কম হওয়ার পেছনে শ্রমের কম খরচ, ইউরোপের তুলনায় কম পরিবেশগত বিধিনিষেধ, সরকারি ভর্তুকি এবং দীর্ঘমেয়াদি শিল্প বিনিয়োগের ভূমিকা রয়েছে। পাশাপাশি, ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে পশ্চিমা ওষুধ কোম্পানিগুলোর চীনে উৎপাদনে বিনিয়োগও দেশটির অবস্থান শক্তিশালী করেছে।
চীনের বিরুদ্ধে তদন্তের প্রস্তুতি
চীনের কম দামের ওষুধের কাঁচামাল ইউরোপের বাজারে অন্যায্য প্রতিযোগিতা তৈরি করছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে চায় স্যান্ডোজ। প্রতিষ্ঠানটি মার্চ মাসে ইউরোপীয় কমিশনের কাছে অভিযোগ দায়ের করে। অভিযোগের মূল বিষয় হলো, চীনে উৎপাদিত অ্যামোক্সিসিলিনের সক্রিয় উপাদান উৎপাদন খরচের চেয়েও কম দামে ইউরোপে বিক্রি করা হচ্ছে কি না এবং এর পেছনে সরকারি ভর্তুকি রয়েছে কি না।
এ ধরনের অভিযোগের ভিত্তিতে কোনো পণ্য উৎপাদন ব্যয়ের নিচে বিক্রি করে প্রতিযোগীদের ক্ষতিগ্রস্ত করা হচ্ছে প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অ্যান্টি-ডাম্পিং ব্যবস্থা নিতে পারে। এর মধ্যে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের বিষয়টিও রয়েছে।
ইউরোপীয় কমিশন শিগগিরই তদন্ত শুরু করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে অভিযোগের চাপ জমে থাকায় তদন্ত শুরুর নির্দিষ্ট সময় এখনো পরিষ্কার নয়। ইউরোপীয় বাণিজ্যবিষয়ক বিশেষজ্ঞ, কর্মকর্তা ও চীনবিষয়ক বিশ্লেষকদের ধারণা, ইউরোপের চীনবিষয়ক বাণিজ্যনীতিতে কঠোরতা বাড়তে থাকায় শেষ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের সম্ভাবনাও রয়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের চলমান ২৩টি অ্যান্টি-ডাম্পিং ও ভর্তুকিবিরোধী তদন্তের মধ্যে মাত্র তিনটি ছাড়া বাকি সব কটিতে চীন এককভাবে অথবা যৌথভাবে লক্ষ্যবস্তু। তবে পেনিসিলিনের ক্ষেত্রে তদন্তের ফল কী হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন সব ক্ষেত্রে শুল্ক আরোপের পথ বেছে নিচ্ছে না। সম্প্রতি ইউরোপীয় বাণিজ্য কমিশনার মারোস সেফচোভিচ চীনের সঙ্গে হাইব্রিড গাড়ি রপ্তানি কমানোর বিষয়ে একটি সমঝোতার কথা জানান। এর উদ্দেশ্য ছিল শুল্ক আরোপ না করেই ইউরোপের গাড়িশিল্পের স্বার্থ রক্ষা করা।
চীনও বলছে, তাদের শিল্পে সরকারি সহায়তা বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার নিয়মের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। বেইজিংয়ের অভিযোগ, অন্য দেশগুলোর সুরক্ষাবাদী নীতি বিশ্বব্যাপী সরবরাহব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
সস্তা ওষুধের সুবিধা, নাকি দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি?
চীনের কম দামের অ্যান্টিবায়োটিক ইউরোপের সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে সুবিধাজনক। কম দামে ওষুধ কেনা গেলে সরকারের ব্যয় কমে এবং রোগীদের জন্য চিকিৎসা সহজলভ্য রাখা যায়। কিন্তু এই সুবিধার বিপরীতে স্থানীয় উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে।
ইউরোপ যদি নিজস্ব পেনিসিলিন উৎপাদন সক্ষমতা হারায়, তাহলে ভবিষ্যতে সরবরাহের ক্ষেত্রে বিকল্প উৎস খুঁজে পাওয়া কঠিন হতে পারে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের বিঘ্ন, মহামারি কিংবা রাজনৈতিক বিরোধ দেখা দিলে এই নির্ভরতা আরও বড় সমস্যা হয়ে উঠতে পারে।
স্যান্ডোজের প্রধান নির্বাহী রিচার্ড সেইনরের মতে, জীবনরক্ষাকারী ওষুধকে এমনভাবে মূল্যায়ন করা উচিত নয়, যাতে তা দৈনন্দিন ভোগ্যপণ্যের চেয়েও সস্তা হয়ে যায়, অথচ উৎপাদন টিকিয়ে রাখার খরচই উঠে না আসে।
তার বক্তব্য, সুইজারল্যান্ডে এক প্যাকেট অ্যান্টিবায়োটিকের দাম রিকোলা ক্যান্ডির প্যাকেটের চেয়েও কম, আর যুক্তরাজ্যে তা মার্স চকলেটের চেয়েও সস্তা হতে পারে। মানুষ প্রয়োজনীয় ওষুধকে প্রায়ই স্বাভাবিকভাবে সহজলভ্য ধরে নেয়; কিন্তু সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে এর গুরুত্ব তখনই প্রকট হয়ে ওঠে।
ইউরোপের সামনে এখন তাই দুটি চ্যালেঞ্জ—একদিকে সাশ্রয়ী মূল্যে ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা, অন্যদিকে ভবিষ্যৎ সংকট মোকাবিলার জন্য নিজস্ব উৎপাদন সক্ষমতা ধরে রাখা। কুন্ডলের কারখানার ভবিষ্যৎ এই দুই লক্ষ্যের মধ্যে ভারসাম্য তৈরির পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে।












