শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকটকে কেবল দুর্বল নেতৃত্ব, ভুল নীতি কিংবা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ব্যর্থতা দিয়ে ব্যাখ্যা করলে সমস্যার গভীরতা বোঝা যাবে না। একটি দেশের উন্নয়নের জন্য প্রাকৃতিক সম্পদ, ভৌগোলিক সুবিধা, কার্যকর প্রশাসন এবং অর্থনৈতিক সম্ভাবনা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এসব উপাদান থাকা সত্ত্বেও কোনো দেশ কেন তার সামর্থ্য অনুযায়ী এগোতে পারে না, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে সমাজের অভ্যন্তরীণ সম্পর্ক, নাগরিকদের পারস্পরিক আস্থা এবং জাতীয় পরিচয়ের ভিত্তি পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
শ্রীলঙ্কার অভিজ্ঞতা এই প্রশ্নকে বিশেষভাবে সামনে নিয়ে এসেছে। স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও দেশটি এখনো এমন একটি সমন্বিত জাতীয় চেতনা প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি, যার কেন্দ্রে থাকবে সব নাগরিকের সমান অধিকার এবং সামগ্রিক উন্নয়নের অভিন্ন লক্ষ্য। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান দুর্বল হয়েছে, অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় ব্যর্থতা দেখা দিয়েছে, আর রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা অনেক ক্ষেত্রে সমাজের বিদ্যমান বিভাজনকে আরও গভীর করেছে। এসব সমস্যার পেছনে রয়েছে একটি মৌলিক ঘাটতি—ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার মানসিকতার অভাব।
রাষ্ট্র ও জাতি এক বিষয় নয়। রাষ্ট্রের নির্দিষ্ট ভূখণ্ড, জনগোষ্ঠী, সরকার ও সার্বভৌমত্ব থাকে। কিন্তু জাতি গড়ে ওঠে অভিন্ন পরিচয়, স্মৃতি, ঐতিহ্য এবং পারস্পরিক দায়বদ্ধতার ভিত্তিতে। একটি রাষ্ট্র কার্যকরভাবে টিকে থাকতে পারে, অথচ তার নাগরিকদের মধ্যে শক্তিশালী জাতীয় সংহতি অনুপস্থিত থাকতে পারে। শ্রীলঙ্কার সংকট বোঝার ক্ষেত্রে এই পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ।

বিভক্তির দীর্ঘ ইতিহাস
শ্রীলঙ্কার ইতিহাসে বিভিন্ন সময়ে দ্বীপজুড়ে রাজনৈতিক ঐক্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু সেই ঐক্য দীর্ঘস্থায়ী সামাজিক ও রাজনৈতিক মানসিকতায় পরিণত হয়নি। ইতিহাসবিদ কে এম ডি সিলভার শ্রীলঙ্কার ইতিহাসবিষয়ক বিশ্লেষণে রাজবংশ, বহিরাগত আক্রমণ, ধর্মের বিস্তার, ঔপনিবেশিক শাসন ও স্বাধীনতার মতো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলির পাশাপাশি যে ধারাটি বিশেষভাবে লক্ষ করা যায়, তা হলো নিজ নিজ গোষ্ঠীর স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রবণতা।
এই প্রবণতা কেবল জাতিগত বা ধর্মীয় পরিচয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। অঞ্চল, শ্রেণি, সামাজিক অবস্থান এবং রাজনৈতিক আনুগত্যও মানুষের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করেছে। কোনো গোষ্ঠী যখন বৃহত্তর সমাজের কল্যাণের চেয়ে নিজেদের কর্তৃত্ব ও স্বার্থ রক্ষাকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করে, তখন জাতীয় ঐক্যের ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে।
প্রাচীন অনুরাধাপুর রাজ্যের শাসকেরা দ্বীপকে ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করলেও সেই প্রচেষ্টা পুরোপুরি সফল হয়নি। বিভিন্ন জনগোষ্ঠী নিজস্ব পরিচয় ও প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে পৃথক অঞ্চলে বসবাস করত। তাদের স্বায়ত্তশাসন ও স্বার্থের সঙ্গে কেন্দ্রীয় ক্ষমতার সংঘাতও দেখা দিত। পরবর্তী সময়ে আক্রমণ, উত্তরাধিকার নিয়ে বিরোধ, বিভিন্ন গোষ্ঠীর বসতি স্থাপন এবং ঔপনিবেশিক হস্তক্ষেপ এই বিভাজনকে আরও জটিল করে তোলে।
ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধেও সমাজের সব অংশ সমানভাবে একত্র হয়নি। বিদ্যমান ব্যবস্থায় সুবিধাভোগী কিছু গোষ্ঠী পরিবর্তনের প্রয়োজন অনুভব করেনি। স্বাধীনতার পর গণতান্ত্রিক রাজনীতির প্রতিযোগিতা সেই বিভক্তিকে নতুন রূপ দেয়। জাতীয় উন্নয়নের অভিন্ন লক্ষ্য প্রতিষ্ঠার পরিবর্তে বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তি নিজেদের সমর্থকগোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষায় বেশি মনোযোগী হয়ে ওঠে।
অতীতের এই উত্তরাধিকার বর্তমানের সব সমস্যার একমাত্র ব্যাখ্যা নয়। তবে এটি বুঝতে সাহায্য করে কেন কেবল নেতৃত্ব পরিবর্তন কিংবা নতুন অর্থনৈতিক কর্মসূচি গ্রহণ করলেই কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি নিশ্চিত হয় না।
আস্থার সংকট কীভাবে রাষ্ট্রকে দুর্বল করে
সমাজে যখন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, আইনের শাসন এবং ন্যায়বিচারের ওপর মানুষের আস্থা কমে যায়, তখন নাগরিকেরা নিজেদের নিরাপত্তার জন্য পরিবার, পরিচিত মহল, রাজনৈতিক দল কিংবা নিজস্ব সম্প্রদায়ের ওপর নির্ভর করতে শুরু করেন। বৃহত্তর সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার জায়গা দখল করে ব্যক্তিগত ও গোষ্ঠীগত স্বার্থ।
এতে একটি আত্মবিনাশী চক্র তৈরি হয়। মানুষ কর দিতে, নিয়ম মানতে কিংবা সামাজিক দায়িত্ব পালনে অনাগ্রহী হয়ে ওঠে, কারণ তারা মনে করে অন্যরা একই দায়িত্ব পালন করছে না। কেউ যদি বিশ্বাস করে যে সৎভাবে কাজ করলে সে পিছিয়ে পড়বে আর পরিচিতি ও রাজনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে অন্যরা সুবিধা পাবে, তাহলে নিয়ম মেনে চলার প্রণোদনা দুর্বল হয়ে পড়ে।
এই পরিস্থিতিতে স্বজনপ্রীতি ও রাজনৈতিক আনুগত্য রাষ্ট্রীয় সম্পদ বণ্টনের গুরুত্বপূর্ণ নির্ধারক হয়ে ওঠে। চাকরি, ব্যবসার সুযোগ কিংবা ন্যায়বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত সম্পর্কের গুরুত্ব বাড়লে সমান অধিকারের ধারণা কার্যত অর্থহীন হয়ে পড়ে। নাগরিকেরা তখন রাষ্ট্রের সঙ্গে সমান অধিকারভিত্তিক সম্পর্ক গড়ে তোলার পরিবর্তে প্রভাবশালী ব্যক্তির অনুগ্রহ লাভের চেষ্টা করেন।
এই ব্যবস্থার পরিবর্তন শুধু নৈতিকতার আহ্বান দিয়ে সম্ভব নয়। প্রয়োজন এমন প্রতিষ্ঠান, যেখানে আইন সবার জন্য সমানভাবে কার্যকর হবে এবং ব্যক্তিগত স্বার্থের বদলে যোগ্যতা ও ন্যায্যতা গুরুত্ব পাবে। নাগরিকেরা যখন দেখতে পাবেন যে রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ব পালন করলে তারাও ন্যায্য সুযোগ পান, তখনই সামাজিক চুক্তির ভিত্তি শক্তিশালী হবে।

অভিজাতদের স্বার্থ ও সংখ্যাগরিষ্ঠতাবাদী রাজনীতি
স্বাধীনতার পর শ্রীলঙ্কায় একটি নতুন অভিজাত শ্রেণির বিকাশ ঘটেছে। দক্ষ ও দায়িত্বশীল নেতৃত্বের প্রয়োজন অস্বীকার করার সুযোগ নেই। সমস্যা তৈরি হয় যখন রাজনৈতিক ক্ষমতা, সামাজিক মর্যাদা ও অর্থনৈতিক সুবিধা দুর্নীতি, উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া অবস্থান কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক প্রভাবের মাধ্যমে সংরক্ষণ করা হয়।
শ্রীলঙ্কার নির্বাচনী রাজনীতিতে প্রধান দলগুলো বহুবার জাতিগত সংখ্যাগরিষ্ঠের সমর্থন অর্জনের জন্য জাতীয়তাবাদী আবেগকে কাজে লাগিয়েছে। এর ফলে অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় গড়ে তোলার পরিবর্তে সংখ্যাগরিষ্ঠের পরিচয়কে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক সমর্থন সংগঠিত হয়েছে। স্বল্পমেয়াদি নির্বাচনী সুবিধা অর্জনের এই কৌশল সমাজের বিভাজনকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে।
এখানে রাষ্ট্র ও জাতি গঠনের সংকট পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত। দুর্নীতি, আর্থিক অব্যবস্থাপনা এবং প্রাতিষ্ঠানিক অবক্ষয় রাষ্ট্রকে দুর্বল করেছে। অন্যদিকে বিভাজনমূলক জাতীয়তাবাদ একটি অভিন্ন নাগরিক পরিচয় প্রতিষ্ঠার পথে বাধা সৃষ্টি করেছে। ফলে অর্থনৈতিক সুযোগ, সম্পদ ও তথ্যের প্রবেশাধিকার সীমিত থেকেছে, আর সাধারণ মানুষকে নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হওয়ার সুযোগ থেকেও বঞ্চিত করা হয়েছে।
ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয়কে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা এই প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করেছে। ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি মানুষের শ্রদ্ধাকে কাজে লাগিয়ে কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচিকে প্রশ্নের ঊর্ধ্বে তুলে ধরার চেষ্টা করা হলে যুক্তিনির্ভর বিতর্কের পরিসর সংকুচিত হয়। ঐতিহ্য রক্ষার নামে প্রয়োজনীয় সংস্কারের বিরোধিতা করার সুযোগও তৈরি হয়।
পরিবর্তনের সম্ভাবনা তরুণদের মধ্যে
তবে শ্রীলঙ্কার সমাজকে কেবল বিভাজনের ইতিহাস দিয়ে বিচার করলে পরিবর্তনের সম্ভাবনাকে উপেক্ষা করা হবে। জাতীয় সংকটের সময়ে তরুণদের মধ্যে পুরোনো বিভেদ অতিক্রম করে একসঙ্গে কাজ করার প্রবণতা দেখা গেছে। সুনামির পর কিংবা ঘূর্ণিঝড় ডিটওয়াহর ধ্বংসযজ্ঞের সময় মানুষের পারস্পরিক সহযোগিতা সেই সম্ভাবনার উদাহরণ। দুর্নীতি ও অদক্ষ শাসনের বিরুদ্ধে জনঅসন্তোষও বিভিন্ন গোষ্ঠীকে অভিন্ন দাবির কাছে নিয়ে এসেছে।
এই নাগরিক সংহতি পুরোনো সুবিধাভোগী গোষ্ঠীর জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। দীর্ঘদিন ধরে বিচারব্যবস্থা ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ওপর প্রভাব বজায় রেখে যারা নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করেছে, তারা ক্ষমতা ও সুবিধা হারানোর আশঙ্কায় বিভাজনকে উসকে দিতে পারে। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সুবিধা রক্ষার জন্য জাতীয়তাবাদী বক্তব্য ব্যবহার করার প্রবণতাও নতুন নয়।

তবে নাগরিকদেরও নিজেদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে হবে। অন্যায় সহ্য করা, পরিচিতির ভিত্তিতে সুবিধা নেওয়া কিংবা রাজনৈতিক আনুগত্যের কারণে অনিয়মকে সমর্থন করা—এসব আচরণও বৈষম্যমূলক ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখে। কেবল রাজনৈতিক নেতৃত্বকে দায়ী করে ব্যক্তিগত ও সামাজিক দায় এড়িয়ে গেলে পরিবর্তন অসম্পূর্ণ থেকে যাবে।
শিক্ষা ও সংস্কৃতিতে পরিবর্তন জরুরি
জাতীয় পরিচয়ের সংকট কাটাতে শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কারও গুরুত্বপূর্ণ। মুখস্থবিদ্যা, অন্ধ আনুগত্য এবং কর্তৃত্বের প্রতি প্রশ্নহীন শ্রদ্ধাকে পুরস্কৃত করা হলে স্বাধীন চিন্তা ও যুক্তিনির্ভর বিতর্ক বিকশিত হয় না। গঠনমূলক সমালোচনাকে অসম্মান বা বিরোধিতা হিসেবে দেখার প্রবণতা নতুন ধারণা গ্রহণ এবং প্রতিষ্ঠান সংস্কারের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
একই সঙ্গে পরিবার, রাজনৈতিক দল কিংবা সামাজিক পরিচয়ের ভিত্তিতে সুযোগ বণ্টনের সংস্কৃতি ভাঙতে হবে। যোগ্যতা ও সততার পরিবর্তে ব্যক্তিগত যোগাযোগকে প্রাধান্য দেওয়া হলে দক্ষ তরুণেরা হতাশ হন। এর ফলে মেধাবীদের দেশত্যাগের প্রবণতাও বাড়তে পারে।
ইতিহাসের প্রতি গর্ব থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু অতীতের গৌরব যদি বর্তমানের দায়িত্ব পালনের বিকল্প হয়ে ওঠে, তাহলে তা উন্নয়নের অনুপ্রেরণার পরিবর্তে আত্মতুষ্টি তৈরি করতে পারে। ইতিহাস শিক্ষা এমন হওয়া প্রয়োজন, যা শিক্ষার্থীদের তথ্য যাচাই, বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি বোঝা এবং অতীতের ঘটনাকে সমালোচনামূলকভাবে বিশ্লেষণ করতে শেখায়। ইতিহাসের ব্যাখ্যা যদি জাতিগত ও ধর্মীয় বিভাজন বাড়ায়, তাহলে তা জাতীয় সংহতির উদ্দেশ্যকেই ক্ষতিগ্রস্ত করে।
জাতীয় পরিচয় আইন দিয়ে তৈরি হয় না
শ্রীলঙ্কার সামনে এখন মৌলিক প্রশ্ন হলো, দেশটি কি গোষ্ঠীগত আনুগত্যের ভিত্তিতে নেতৃত্ব নির্বাচন করবে, নাকি এমন নীতি ও কর্মসূচিকে অগ্রাধিকার দেবে, যা সমগ্র জনগণের ভবিষ্যৎ উন্নত করতে পারে? সিদ্ধান্ত গ্রহণে কি প্রমাণ ও যুক্তি গুরুত্ব পাবে, নাকি মানুষ পরিচিত রাজনৈতিক বক্তব্য ও সংখ্যাগরিষ্ঠের আবেগ অনুসরণ করবে?
জাতি গঠনের কাজ কোনো আইন প্রণয়ন কিংবা সাংবিধানিক ঘোষণার মাধ্যমে শেষ করা যায় না। এর জন্য প্রয়োজন নাগরিকদের মধ্যে অভিন্ন দায়বদ্ধতা, ন্যায়বিচারের প্রতি আস্থা এবং জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার সামাজিক সংস্কৃতি। জাতিগত, ধর্মীয়, ভাষাগত, রাজনৈতিক, আঞ্চলিক, অর্থনৈতিক ও জাতপাতভিত্তিক বিভাজন অতিক্রম করে সমান নাগরিক অধিকারের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে হবে।
শ্রীলঙ্কার ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে শুধু নতুন নেতৃত্বের ওপর নয়, বরং নাগরিকেরা কতটা পুরোনো রাজনৈতিক অভ্যাস থেকে বেরিয়ে আসতে পারেন, তার ওপরও। দুর্নীতি ও অদক্ষ শাসনের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা যদি সমান অধিকার ও ন্যায়বিচারের প্রতি স্থায়ী অঙ্গীকারে রূপ নেয়, তাহলে তা দীর্ঘদিনের বিভাজন কাটিয়ে ওঠার ভিত্তি তৈরি করতে পারে।
ইতিহাস শ্রীলঙ্কাকে একটি বিভক্ত সমাজের উত্তরাধিকার দিয়েছে। কিন্তু সেই উত্তরাধিকার অপরিবর্তনীয় নিয়তি নয়। অতীতের ভুল স্বীকার করে তার পুনরাবৃত্তি ঠেকানো এবং ব্যক্তিগত ও গোষ্ঠীগত সুবিধার বদলে অভিন্ন জাতীয় স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়ার মধ্য দিয়েই দেশটি অসমাপ্ত জাতি গঠনের কাজ এগিয়ে নিতে পারে।












