ক্ষমতার বাইরে থেকে সরকারের সমালোচনা করা তুলনামূলক সহজ। কিন্তু সেই ক্ষমতারই অংশ হয়ে গেলে, কিংবা ক্ষমতাকেন্দ্রের কাছাকাছি বসে পরামর্শ দেওয়ার সুযোগ পেলে, সমালোচনামূলক অবস্থান ধরে রাখা অনেক কঠিন হয়ে পড়ে। কারণ, তখন বিশ্লেষণের বিষয়টি আর দূরের কোনো রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান থাকে না; বরং সেই নেতৃত্বই হয়ে ওঠে যার সঙ্গে নিজের পেশাগত সম্পর্ক, প্রবেশাধিকার এবং প্রভাব বিস্তারের সম্ভাবনা জড়িয়ে যায়। একজন বুদ্ধিজীবীর স্বাধীনতার প্রকৃত পরীক্ষা তাই বিরোধিতার ভাষায় নয়, বরং ক্ষমতার সামনে অস্বস্তিকর সত্য বলার সামর্থ্যে।
ইন্দোনেশিয়ায় রকি গেরুংয়ের রাজনৈতিক অবস্থানের পরিবর্তন এই প্রশ্নটিকে নতুন করে সামনে এনেছে। জোকো উইদোদো বা জোকোভির শাসনামলে তিনি ছিলেন সরকারের অন্যতম সোচ্চার সমালোচক। প্রেসিডেন্ট প্রবোও সুবিয়ান্তোর আমলে রাষ্ট্রপতির উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হওয়ার পর তাঁর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সরকারের ভেতরে থেকে তিনি কি আগের মতোই ক্ষমতার সিদ্ধান্ত, যুক্তি ও সীমাবদ্ধতা নিয়ে নিরপেক্ষভাবে কথা বলতে পারবেন? নাকি উপদেষ্টার প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয় ধীরে ধীরে তাঁর সমালোচনামূলক অবস্থানকে সংকুচিত করবে?
প্রশ্নটি কেবল একজন ব্যক্তির রাজনৈতিক যাত্রা নিয়ে নয়। এটি এমন এক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সংকটের সঙ্গেও যুক্ত, যেখানে নির্বাচনী প্রতিযোগিতা থাকলেও ক্ষমতার কার্যকর জবাবদিহি সব সময় নিশ্চিত হয় না।
দলীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতা যখন ক্ষমতা ভাগাভাগিতে রূপ নেয়
ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশে নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা গেলেও সরকার গঠনের পর তাদের অনেকেই বৃহৎ জোটে একত্র হয়। এর ফলে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা থাকলেও ক্ষমতার ওপর কার্যকর নজরদারির পরিসর সংকুচিত হতে পারে। সরকার ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে স্পষ্ট দূরত্ব না থাকলে নীতিগত ব্যর্থতা, ক্ষমতার অপব্যবহার কিংবা রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির সঙ্গে বাস্তবতার ব্যবধান তুলে ধরার দায় আরও বেশি করে পড়ে স্বাধীন বুদ্ধিজীবী, অনুসন্ধানী সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজের ওপর।

জোকোভি তাঁর রাজনৈতিক উত্থানের সময় প্রতিষ্ঠিত অভিজাতদের বাইরে থেকে আসা একজন নেতা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিলেন। তাঁর ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি ও উন্নয়নমূলক উদ্যোগ মধ্যবিত্ত শ্রেণি এবং বুদ্ধিজীবী মহলের একটি অংশের সমর্থন অর্জন করেছিল। কিন্তু জনপ্রিয়তা যত বিস্তৃত হয়, শাসনের সমালোচনা ততই রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল হয়ে ওঠে।
২০১৮ সালে এশিয়া টাইমস-এ জন ম্যাকবেথের এক বিশ্লেষণে জোকোভির শাসনকে ‘ধোঁয়া ও আয়নার’ রূপকের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা হয়েছিল। তাঁর বক্তব্যের তাৎপর্য ছিল, আকর্ষণীয় রাজনৈতিক উপস্থাপনা ও দৃশ্যমান অবকাঠামো প্রকল্প অনেক সময় নীতিগত সীমাবদ্ধতা থেকে জনমনোযোগ সরিয়ে দিতে পারে। এর অর্থ এই নয় যে সরকারের অর্জনগুলো সবই কৃত্রিম। বরং মূল প্রশ্ন হলো, দৃশ্যমান সাফল্য কিংবা জনসমর্থন কি সরকারকে কঠোর মূল্যায়নের বাইরে রাখবে?
রকি গেরুংয়ের সমালোচনামূলক ভূমিকা একসময় এই প্রশ্নগুলোকে জনপরিসরে নিয়ে আসতে সহায়তা করেছিল। তাঁর তীক্ষ্ণ ভাষ্য সরকারি বক্তব্যের প্রচলিত ব্যাখ্যাকে চ্যালেঞ্জ করেছে এবং রাজনৈতিক বিতর্ককে সক্রিয় করেছে। তবে বক্তব্যের ধার এবং বুদ্ধিবৃত্তিক স্বাধীনতা এক বিষয় নয়। একজন সমালোচক কতটা স্বাধীন, তা নির্ধারিত হওয়া উচিত তাঁর যুক্তির প্রমাণ, মূল্যায়নের ধারাবাহিকতা এবং জটিল বাস্তবতা মোকাবিলার সামর্থ্য দিয়ে।
বুদ্ধিজীবীর দায় শুধু মত প্রকাশ নয়
বুদ্ধিজীবীর সামাজিক দায়িত্ব বোঝার ক্ষেত্রে পল বারানের ১৯৬১ সালের প্রবন্ধ ‘দ্য কমিটমেন্ট অব দ্য ইন্টেলেকচুয়াল’ গুরুত্বপূর্ণ একটি তাত্ত্বিক ভিত্তি দেয়। বারান বিশেষায়িত জ্ঞানভিত্তিক কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিদের সঙ্গে সেই বুদ্ধিজীবীদের পার্থক্য করেছিলেন, যাঁরা সমাজের সামগ্রিক কাঠামো, ইতিহাসের গতিপথ এবং ক্ষমতার সম্পর্ককে বিশ্লেষণের কেন্দ্রে রাখেন।
এই দুই পরিচয় পরস্পরবিরোধী নয়। একজন বিশেষজ্ঞও বৃহত্তর সামাজিক প্রশ্নে গুরুত্বপূর্ণ বুদ্ধিবৃত্তিক ভূমিকা রাখতে পারেন। পার্থক্যটি তৈরি হয় তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি ও দায়বদ্ধতায়। তিনি কি কেবল নিজের নির্ধারিত পেশাগত দায়িত্ব পালন করেন, নাকি সেই কাজের সামাজিক পরিণতি, প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থ এবং ক্ষমতার কাঠামো নিয়েও প্রশ্ন তোলেন?
বারানের ধারণায়, প্রকৃত বুদ্ধিবৃত্তিক দায়িত্বের জন্য শুধু জ্ঞান, উচ্চকণ্ঠ বক্তব্য কিংবা নৈতিকতার ঘোষণা যথেষ্ট নয়। প্রভাবশালী স্বার্থ ও প্রতিষ্ঠিত ক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ করার সাহসও থাকতে হয়, এমনকি তার জন্য ব্যক্তিগত বা পেশাগত মূল্য দিতে হলেও।
এই মানদণ্ডে রকি গেরুংকে বিচার করার অর্থ এই নয় যে, তিনি প্রবোও সরকারের কোনো উদ্যোগ সমর্থন করলেই তাঁর স্বাধীনতা হারিয়েছেন। একইভাবে, সরকারের বিরোধিতা করলেই কেউ স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্বাধীন চিন্তাবিদ হয়ে যান না। আসল পরীক্ষা হলো, সরকার পরিবর্তিত হলেও তাঁর মূল্যায়নের মানদণ্ড অপরিবর্তিত থাকে কি না।
নীতির উদ্দেশ্য ভালো হলেই কি সমালোচনা অপ্রয়োজনীয়?

প্রবোও সরকারের বিনা মূল্যে পুষ্টিকর খাবার কর্মসূচির পক্ষে রকি গেরুংয়ের অবস্থান এই বিতর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। তিনি কর্মসূচিটির সাংবিধানিক ভিত্তির কথা তুলে ধরেছেন এবং কাঠামোগত কারণে এর বিরোধিতাকারীদের সমালোচনা করেছেন। এই যুক্তিগুলো নিয়ে বিতর্ক হতে পারে। তবে কোনো কর্মসূচির সাংবিধানিক উদ্দেশ্য উল্লেখ করলেই তার বাস্তবায়নসংক্রান্ত প্রশ্নগুলোর উত্তর পাওয়া যায় না।
একটি জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের লক্ষ্য গ্রহণযোগ্য হলেও তার অর্থায়ন কতটা টেকসই, প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা কতটা কার্যকর, তদারকির ব্যবস্থা কতটা শক্তিশালী এবং বাস্তবে কারা কীভাবে উপকৃত হচ্ছে—এসব প্রশ্নের উত্তর জরুরি। পরিকল্পনার ঘোষিত উদ্দেশ্য ও বাস্তব ফলাফলের মধ্যে ব্যবধান থাকলে তা শনাক্ত করাই স্বাধীন বিশ্লেষণের কাজ।
সরকারের নীতি নিয়ে আলোচনা তাই কেবল পক্ষে বা বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। একটি কর্মসূচি কোন সমস্যার সমাধান করতে চায়, তার পক্ষে কী ধরনের প্রমাণ রয়েছে, বাস্তবায়নে কোথায় ঝুঁকি তৈরি হতে পারে এবং ফলাফল কীভাবে পরিমাপ করা হবে—এসব প্রশ্নের ধারাবাহিক মূল্যায়ন প্রয়োজন।
এখানেই রাজনৈতিক আনুগত্য ও বুদ্ধিবৃত্তিক দায়বদ্ধতার পার্থক্য স্পষ্ট হয়। কোনো নীতির উদ্দেশ্য সমর্থন করেও তার বাস্তবায়নের ত্রুটি তুলে ধরা সম্ভব। বরং জনস্বার্থে কাজ করতে হলে সমর্থনের পাশাপাশি ত্রুটি শনাক্ত করার সক্ষমতাও থাকতে হয়।
জনতুষ্টিবাদী রাজনীতিতে উপদেষ্টার প্রকৃত কাজ
প্রবোওর প্রশাসনের জনতুষ্টিবাদী রাজনৈতিক বৈশিষ্ট্য স্বাধীন পরামর্শের গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দেয়। জনতুষ্টিবাদী রাজনীতি প্রায়ই সরাসরি জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিনিধিত্ব করার দাবি করে। এই অবস্থানে প্রাতিষ্ঠানিক সমালোচনা, বিশেষজ্ঞের সতর্কতা কিংবা একাডেমিক বিশ্লেষণকে কখনো কখনো সাধারণ মানুষের বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন বলে উপস্থাপন করা হয়।
কিন্তু জনমতের প্রতি সংবেদনশীলতা এবং প্রমাণভিত্তিক নীতিনির্ধারণ একে অপরের বিকল্প নয়। জনগণের প্রত্যাশা বুঝতে হয়, একই সঙ্গে নীতির সম্ভাব্য ফলাফল যাচাই করতে হয় তথ্য, স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষ বিশ্লেষণের মাধ্যমে। শুধু বিশেষজ্ঞের মতামত যথেষ্ট নয়; আবার জনপ্রিয় সমর্থনও কোনো নীতির কার্যকারিতা প্রমাণ করে না।
এই পরিস্থিতিতে একজন উপদেষ্টার কাজ সরকারের পছন্দের ব্যাখ্যাকে আরও গ্রহণযোগ্য করে তোলা নয়। বরং যে বাস্তবতা রাজনৈতিক নেতৃত্বের কাছে অস্বস্তিকর, সেটিও স্পষ্টভাবে তুলে ধরা। জনগণের দাবি, প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতা এবং নীতির সম্ভাব্য পরিণতির মধ্যে সম্পর্ক ব্যাখ্যা করাই তাঁর দায়িত্ব।
রাষ্ট্রপতির উপদেষ্টা পরিষদের কার্যকারিতা নির্ভর করে এই ভূমিকা পালনের ওপর। কেবল পরিচিত বা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করলেই কোনো উপদেষ্টা পরিষদ কার্যকর হয় না। তার মূল্য নির্ধারিত হয় পরামর্শ কতটা তথ্যনির্ভর, ভিন্নমত প্রকাশের সুযোগ কতটা বাস্তব এবং সম্ভাব্য নীতিগত সংকট সম্পর্কে নেতৃত্বকে আগেভাগে সতর্ক করা যায় কি না—এসব বিবেচনায়।
রকি গেরুং নিজেই নির্বাহী নেতৃত্বের জন্য বুদ্ধিবৃত্তিক দিকনির্দেশনার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। কিন্তু সেই দিকনির্দেশনা কোন কাজে ব্যবহৃত হবে, সেটিই মূল প্রশ্ন। তা কি সরকারের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা শনাক্ত করে সিদ্ধান্ত সংশোধনে সাহায্য করবে, নাকি আগে নেওয়া সিদ্ধান্তকে ন্যায্যতা দেওয়ার উপায় হয়ে উঠবে? প্রথমটি হলে উপদেষ্টা পরিষদ জবাবদিহি শক্তিশালী করতে পারে। দ্বিতীয়টি হলে সেটি কার্যত সরকারের আনুষ্ঠানিক সমর্থনযন্ত্রে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে।
প্রবোর জনসমর্থনের ওঠানামাও এই প্রশ্নের গুরুত্ব তুলে ধরে। অর্থনৈতিক চাপ কিংবা সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি নিয়ে বিতর্কের সময় নেতৃত্বের প্রয়োজন হয় বাস্তব পরিস্থিতির নির্ভুল মূল্যায়ন। কেবল রাজনৈতিক আশ্বাস বা আদর্শগত ব্যাখ্যা দিয়ে জনঅসন্তোষের কারণ বোঝা যায় না।
স্বাধীনতার প্রমাণ দিতে হয় ক্ষমতার ভেতরেই

রকি গেরুংয়ের বর্তমান অবস্থান তাঁর ব্যক্তিগত বুদ্ধিবৃত্তিক সততার পাশাপাশি উপদেষ্টা পরিষদের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতারও পরীক্ষা। তিনি চাইলে এই অবস্থানকে প্রশাসনিক আত্মতুষ্টি ভাঙতে, নীতিনির্ধারণের প্রচলিত অনুমানগুলো যাচাই করতে এবং সরকারকে কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি করতে ব্যবহার করতে পারেন। কিন্তু অতীতে সরকারের সমালোচক হিসেবে পরিচিতি অর্জন করাই এ কাজের নিশ্চয়তা দেয় না।
এর জন্য প্রয়োজন সব সরকারের ক্ষেত্রে একই মূল্যায়ননীতি প্রয়োগ, তথ্যের ভিত্তিতে যুক্তি উপস্থাপন এবং নিজের অবস্থানের বিরুদ্ধেও প্রমাণ বিবেচনা করার মানসিকতা। ক্ষমতার কাছাকাছি গেলে এই গুণগুলোর প্রয়োজন কমে না; বরং বাড়ে। কারণ, তখন ভিন্নমত প্রকাশের মূল্য কেবল ব্যক্তিগত সমালোচনা সহ্য করা নয়, নিজের প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ক ও প্রভাবের সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি হওয়াও।
শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি তাই রকি গেরুং আগের মতো কঠোর ভাষায় কথা বলছেন কি না, তার চেয়ে বড়। তিনি কি সরকারের সিদ্ধান্তকে একই কঠোরতায় যাচাই করছেন, যেভাবে একসময় জোকোভি প্রশাসনকে যাচাই করতেন? আর রাষ্ট্রপতির উপদেষ্টা পরিষদ কি সত্যিই স্বাধীন পরামর্শের ক্ষেত্র হিসেবে কাজ করতে পারবে, নাকি তা নির্বাহী নেতৃত্বের পূর্বনির্ধারিত সিদ্ধান্তকে অনুমোদন দেওয়ার প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর পাওয়া যাবে না পদমর্যাদা, রাজনৈতিক বক্তব্য কিংবা ব্যক্তিগত আত্মপরিচয় থেকে। উত্তর নির্ভর করবে সরকার কতটা নির্ভরযোগ্য তথ্যের মুখোমুখি হচ্ছে, সমালোচনার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত সংশোধনের সুযোগ থাকছে কি না এবং উপদেষ্টারা প্রয়োজনে নেতৃত্বের বিরুদ্ধেও সত্য তুলে ধরতে পারছেন কি না, তার ওপর।
ক্ষমতার বাইরে থেকে ভিন্নমত প্রকাশ করা স্বাধীনতার একটি রূপ। কিন্তু ক্ষমতার ভেতরে থেকেও সেই স্বাধীনতা ধরে রাখা আরও কঠিন পরীক্ষা। একজন বুদ্ধিজীবীর বিশ্বাসযোগ্যতা শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত হয় তিনি কতটা জোরে কথা বলেন, তা দিয়ে নয়; বরং তাঁর বক্তব্য ক্ষমতাকে বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করাতে কতটা সক্ষম, তা দিয়ে।












