ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মালিকদের ধর্মঘট বুধবার দ্বিতীয় দিনে গড়িয়েছে। হাসপাতাল চত্বরে অ্যাম্বুলেন্স রাখার অনুমতির দাবিতে মঙ্গলবার এই কর্মসূচি শুরু হয়। ঢাকা মেডিকেলে অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘট চলায় জরুরি বিভাগ আর বহির্বিভাগের সামনে রোগী ও স্বজনদের অপেক্ষা দীর্ঘ হচ্ছে। কেউ রোগীকে পরীক্ষার জন্য অন্য জায়গায় নিতে চাইছেন। কেউ ছাড়পত্র পাওয়া রোগীকে বাড়ি ফেরাতে চাইছেন। মরদেহ নিয়ে যেতেও স্বজনদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। কিন্তু হাতের কাছে অ্যাম্বুলেন্স মিলছে না।
সাভার থেকে আসা শামীম গাজীর ভাই শাহীন গাজী স্ট্রোক নিয়ে হাসপাতালের নতুন ভবনে ভর্তি আছেন। চিকিৎসকেরা তাঁকে এমআরআই করানোর পরামর্শ দিয়েছেন। পরিবার লালবাগের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে পরীক্ষাটি করাতে চায়। কিন্তু প্রায় ৩০ মিনিট অপেক্ষা করেও তাঁরা কোনো অ্যাম্বুলেন্স পাননি। রেজাউল করিমের অভিজ্ঞতা আরও কঠিন। মঙ্গলবার মাওয়া সড়কে দুর্ঘটনায় তাঁর বোন আহত হন। চিকিৎসার পর চিকিৎসকেরা তাঁকে পঙ্গু হাসপাতাল নামে পরিচিত নিটোরে পাঠানোর পরামর্শ দেন। রেজাউল জানান, দুই থেকে তিন ঘণ্টা চেষ্টা করেও তিনি অ্যাম্বুলেন্স জোগাড় করতে পারেননি। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেও কাজ হয়নি। শেষে জরুরি বিভাগের সামনে থাকা একটি সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের চালক তাঁর বোনকে নিয়ে যেতে রাজি হন।
ঢামেক বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইমন আলী ধর্মঘট চলার কথা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেছেন, বুধবারের মধ্যে দাবি মানা না হলে বৃহস্পতিবার থেকে ঢাকা মহানগর অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতি ধর্মঘটের ডাক দেবে। সেটি হলে ভোগান্তি শুধু ঢাকা মেডিকেলে আটকে থাকবে না। রাজধানীর অন্য সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের রোগীরাও বিপাকে পড়তে পারেন। পার্কিংয়ের দাবি নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক অবস্থান এখনো জানা যায়নি।
ঢাকা মেডিকেল দেশের সবচেয়ে বড় সরকারি হাসপাতালগুলোর একটি। সারা দেশ থেকে গুরুতর অসুস্থ ও আহত মানুষ এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন। এখানকার অনেক রোগীকে পরীক্ষা বা বিশেষায়িত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে নিতে হয়। ছাড়পত্র পাওয়া রোগীকে দূরের জেলায় ফেরাতেও অ্যাম্বুলেন্স লাগে। এসব কাজে অনেক পরিবার বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ওপর নির্ভর করে। ঢাকার বাইরে থেকে আসা পরিবারগুলোর পক্ষে শহরে বিকল্প গাড়ি খুঁজে বের করা আরও কঠিন। অনেকেই এই শহরের পথঘাট ঠিকমতো চেনেন না। তাই ঢাকা মেডিকেলে অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘট মানে সরাসরি রোগীর চিকিৎসায় দেরি। স্ট্রোক বা দুর্ঘটনার রোগীর ক্ষেত্রে কয়েক ঘণ্টার দেরিও বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
এখন নজর বৃহস্পতিবারের দিকে। দাবি নিয়ে সমঝোতা না হলে ধর্মঘট পুরো রাজধানীতে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা আছে। পার্কিংয়ের জায়গা নিয়ে বিরোধ থাকতেই পারে। কিন্তু সেই বিরোধের দাম রোগীরা দিচ্ছেন, যাঁদের এতে কোনো ভূমিকা নেই। যাঁদের রোগী এই মুহূর্তে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি, তাঁরা স্থানান্তর বা ছাড়পত্রের আগে পরিবহনের ব্যবস্থা আগেভাগে ঠিক করে রাখতে পারেন। জরুরি প্রয়োজনে হাসপাতালে থাকা সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের খোঁজ নেওয়া যায়। রেজাউল করিমের পরিবার শেষ পর্যন্ত সেভাবেই সমাধান পেয়েছে। ঢাকা মেডিকেলে অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘট দ্রুত না মিটলে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সেবা বাড়ানোর দাবিও জোরালো হতে পারে।












