ঢাকার রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক কাজী আহমেদ জাকিরকে তাঁর কার্যালয়ে ঢুকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। বুধবার সকাল ১১টার দিকে ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনার তদন্তে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে। অভিযোগ উঠেছে চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) কর্মীদের বিরুদ্ধে। আইইডিসিআর পরিচালককে মারধর নিয়ে স্বাস্থ্যখাতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
অধ্যাপক জাকির বলেছেন, তিনি কয়েকজনের সঙ্গে সভা করছিলেন। সে সময় ৮ থেকে ৯ জন তাঁর কক্ষে ঢুকে তাঁকে চেয়ার থেকে টেনে নামিয়ে মারধর করেন। কক্ষে থাকা লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা চলে যান। তাঁর অভিযোগ, ড্যাবের কর্মীরা জটলা তৈরি করে এই হামলা চালিয়েছেন। আইইডিসিআর পরিচালককে মারধরের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
আইইডিসিআর দেশের রোগ নজরদারি ও প্রাদুর্ভাব মোকাবিলার প্রধান সরকারি প্রতিষ্ঠান। সেখানে পরিচালকের কক্ষে ঢুকে এমন ঘটনার অভিযোগ তাই স্বাস্থ্য প্রশাসনের জন্য গুরুতর বিষয়। কয়েকটি প্রতিবেদনে ড্যাবকে বিএনপিঘেঁষা চিকিৎসক সংগঠন বলে বর্ণনা করা হয়েছে। ড্যাবের সভাপতি হারুন আল রশীদ সাংবাদিকদের মোবাইল ফোনে একটি ছবি দেখিয়ে প্রশ্ন তোলেন, আগের সরকারের আমলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে শীর্ষ পদে থাকা একজন কর্মকর্তার সঙ্গে পরিচালক কেন তাঁর কক্ষে বৈঠক করেছেন। পরিচালক এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। কেন তাঁর ওপর হামলা হলো, সে বিষয়েও তিনি কিছু বলেননি।
স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের দপ্তরাদেশে গঠিত কমিটির আহ্বায়ক অতিরিক্ত সচিব (বাজেট) আরিফ আহমেদ। সদস্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. জাহিদ রায়হান। সদস্যসচিব উপসচিব ইমতিয়াজ হোসেন। কমিটিকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে ঘটনার তথ্য উদ্ঘাটন, দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত এবং সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনে তাঁরা অন্য কর্মকর্তাদের সহায়তাও নিতে পারবেন।
ড্যাবের নেতারা ঘটনার কথা অস্বীকার করেননি। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম শাকিল বলেছেন, সংগঠনের কর্মীরা দাপ্তরিক বিষয়ে জানতে ওই কার্যালয়ে গিয়েছিলেন। ঘটনা প্রমাণিত হলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক হারুন আল রশীদ ঘটনা ঘটার কথা নিশ্চিত করে বলেন, পরিচালকেরও কিছু ত্রুটি আছে। এরই মধ্যে ড্যাব তাদের কেন্দ্রীয় কমিটির এক যুগ্ম সম্পাদকের প্রাথমিক সদস্যপদ স্থগিত করেছে। তাঁকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে তিনি একে স্বাস্থ্যসেবার ইতিহাসের কালো অধ্যায় বলেছেন। তিনি নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিচারের দাবি জানান। প্রতিবেদনগুলোতে পুলিশের কোনো ব্যবস্থার কথা উল্লেখ নেই, মামলা হয়েছে কি না তাও জানা যায়নি। সাত কর্মদিবসের মধ্যে কমিটির প্রতিবেদন এলেই বোঝা যাবে, আইইডিসিআর পরিচালককে মারধরের ঘটনায় প্রকৃত দায়ী কারা। ততদিন পর্যন্ত সবার নজর থাকবে তদন্ত কমিটির দিকে।
স্বাস্থ্যখাতের সংগঠনগুলোর মধ্যে মতভেদ থাকা অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু সেই মতভেদ সরকারি প্রতিষ্ঠানের ভেতরে ঢুকে শারীরিক আক্রমণ পর্যন্ত গড়ালে পুরো খাতের কাজের পরিবেশ ঝুঁকিতে পড়ে। বিশেষ করে আইইডিসিআরের মতো প্রতিষ্ঠান জনস্বাস্থ্যের জরুরি তথ্য ও পরামর্শ দেয়। সেখানকার কর্মকর্তারা নির্ভয়ে কাজ করতে না পারলে তার প্রভাব সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবায়ও পড়তে পারে।












