দক্ষিণ এশিয়ায় এক দেশ থেকে আরেক দেশে যাওয়া অনেক সময় গন্তব্যের দূরত্বের চেয়ে বহুগুণ বেশি কঠিন। ইসলামাবাদ থেকে কাঠমান্ডুর সরলরৈখিক দূরত্ব প্রায় দুই ঘণ্টার বিমানযাত্রার সমান। অথচ সরাসরি যোগাযোগ না থাকায় সেই যাত্রায় ১১ থেকে ১৫ ঘণ্টা লেগে যেতে পারে। ঢাকায় বসবাসকারী কারও ইসলামাবাদ যেতে ব্যাংকক হয়ে ঘুরে আসতে হতে পারে। ভৌগোলিকভাবে কাছাকাছি দেশগুলোর মধ্যে এমন যোগাযোগব্যবস্থা শুধু অসুবিধাজনক নয়, এটি একটি অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্ভাবনা নষ্ট হওয়ারও লক্ষণ।
সম্প্রতি পাকিস্তানে বাংলাদেশি তরুণ উদ্যোক্তা, নীতিগবেষক, চিন্তাবিদ ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিদের একটি দলকে আতিথ্য দেওয়ার অভিজ্ঞতা এই সমস্যাটিকে নতুন করে সামনে এনেছে। তাঁদের অনেকে প্রথমবার ইসলামাবাদে গিয়েছিলেন। সফর শেষে তাঁরা আবার যাওয়ার পরিকল্পনা করেছেন। কিন্তু তিন ঘণ্টার কাছাকাছি সময়ের বিমানযাত্রার জন্য তাঁদের দীর্ঘ ও ঘুরপথের যাত্রা করতে হয়েছে। একইভাবে, ইসলামাবাদ থেকে কাঠমান্ডুতে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ পেয়েও দীর্ঘ যাত্রার জটিলতার কারণে সফর বাতিল করতে হয়েছিল।
শ্রীলঙ্কার পর্যটন খাতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনাতেও একই প্রশ্ন উঠে এসেছে: দুই দেশের মধ্যে আরও বেশি সরাসরি বিমান চালানো যায় কীভাবে? এই অভিজ্ঞতাগুলো দক্ষিণ এশিয়ার একটি গভীর সমস্যাকে তুলে ধরে। এখানে দেশগুলো পরস্পরের কাছাকাছি, কিন্তু মানুষ, ব্যবসা ও ধারণার চলাচলের ক্ষেত্রে তারা কার্যত বিচ্ছিন্ন।
সংযোগের অভাব শুধু বাণিজ্যের সমস্যা নয়
দক্ষিণ এশিয়ায় বিশ্বের প্রায় এক-চতুর্থাংশ মানুষের বসবাস। অথচ অঞ্চলটির মোট বাণিজ্যের মাত্র প্রায় ৫ শতাংশ নিজেদের মধ্যে হয়। বিপরীতে, আসিয়ানের সদস্য দেশগুলোর পণ্যবাণিজ্যের প্রায় এক-চতুর্থাংশ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্ধেকেরও বেশি বাণিজ্য অভ্যন্তরীণ বাজারে সম্পন্ন হয়।
এই ব্যবধানের পেছনে রাজনৈতিক বিরোধ, দুর্বল অবকাঠামো, সীমান্তসংক্রান্ত জটিলতা এবং প্রশাসনিক বাধার ভূমিকা রয়েছে। বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য সম্ভাব্য পরিমাণের মাত্র এক-তৃতীয়াংশে সীমাবদ্ধ। এর ফলে বছরে প্রায় ৪৪ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্যিক সুযোগ কাজে লাগানো যাচ্ছে না। বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত ও নেপালের মধ্যে সমন্বিত বিদ্যুৎবাজার গড়ে তোলা গেলে শুধু মূলধনী ব্যয়েই প্রায় ১৭ বিলিয়ন ডলার সাশ্রয় হতে পারে। অন্যদিকে, দক্ষিণ এশিয়ায় একটি পণ্যবাহী কনটেইনার পরিবহনের খরচ উন্নত অর্থনীতির দেশগুলোর তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি।

এসব পরিসংখ্যান সাধারণত বাণিজ্যনীতির আলোচনায় গুরুত্ব পায়। কিন্তু সমস্যার শুরু আরও আগে—মানুষের চলাচলে। বিনিয়োগকারীরা কোনো দেশে বিনিয়োগের আগে সেই দেশ সম্পর্কে জানতে চান, ব্যবসায়ীরা চুক্তির আগে একে অন্যের সঙ্গে দেখা করেন, আর শিক্ষার্থী, পর্যটক ও ধর্মীয় তীর্থযাত্রীরা পারস্পরিক পরিচিতি ও আস্থা তৈরি করেন। এই সম্পর্কগুলোই পরবর্তী সময়ে বাণিজ্যিক চুক্তি ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের ভিত্তি গড়ে দেয়।
প্রতিবেশী দেশে যাওয়া যদি ব্যয়বহুল, সময়সাপেক্ষ ও অনিশ্চিত হয়, তাহলে ব্যবসা-বাণিজ্যও স্বাভাবিকভাবে বিকশিত হতে পারে না। তাই দক্ষিণ এশিয়ার সংযোগ সংকট সমাধানের প্রথম পদক্ষেপ হওয়া উচিত মানুষের যাতায়াত সহজ করা।
সার্কের অচলাবস্থার বাইরে উদ্যোগ
দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সহযোগিতা দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক বিরোধের কারণে বাধাগ্রস্ত। সার্কের সর্বশেষ শীর্ষ সম্মেলন হয়েছিল ২০১৪ সালে। ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে আকাশসীমা ব্যবহার নিয়েও নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত রয়েছে। দুই দেশের বিরোধের দ্রুত সমাধান হবে—এমন প্রত্যাশার বাস্তব ভিত্তি নেই।
কিন্তু একটি কঠিন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অচলাবস্থা যেন পুরো অঞ্চলের সহযোগিতাকে আটকে না রাখে। পাকিস্তান, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, নেপাল ও মালদ্বীপের মধ্যে এমন কোনো গুরুতর বিরোধ নেই, যা ভিসা সহজ করা, সরাসরি বিমান যোগাযোগ বাড়ানো কিংবা ধর্মীয় পর্যটন সম্প্রসারণের পথে অনিবার্য বাধা হয়ে দাঁড়াতে হবে।
এই পাঁচ দেশ চাইলে সার্কের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম পুনরুজ্জীবিত হওয়ার অপেক্ষা না করেই দ্বিপক্ষীয় বা ছোট আঞ্চলিক জোটের মাধ্যমে অগ্রসর হতে পারে। এতে ভারতের সঙ্গে বিরোধের সমাধান কিংবা বৃহত্তর আঞ্চলিক ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করা হবে না। বরং সহযোগিতার যেসব ক্ষেত্র নিয়ে আপাতত সমঝোতা সম্ভব, সেগুলোতে বাস্তব অগ্রগতি অর্জন করা যাবে।
ভিসা নীতির পার্থক্যই এর একটি উদাহরণ। বাংলাদেশিরা নেপালে বিনা মূল্যে আগমনী ভিসা পেতে পারেন, আর শ্রীলঙ্কায় ভ্রমণের জন্য অনলাইনে অনুমোদন নেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। পাকিস্তানও বাংলাদেশিদের ভিসা ফি মওকুফ করেছে এবং আগের কিছু বিধিনিষেধ তুলে নিয়েছে। এটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। কিন্তু ভ্রমণের আগে দূতাবাস বা নির্ধারিত ব্যবস্থার মাধ্যমে ভিসা নেওয়ার বাধ্যবাধকতা অনেকের কাছে এমন একটি প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে, যা আগমনের পর ভিসা পাওয়ার ব্যবস্থায় থাকে না।
ভিসা সহজীকরণ শুধু পর্যটক বাড়ানোর বিষয় নয়। এতে ব্যবসায়িক সফর, বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক বিনিময়, সাংস্কৃতিক যোগাযোগ এবং নতুন অংশীদারত্ব তৈরির সুযোগও বাড়ে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো যদি প্রতিবেশীদের স্বাভাবিক ভ্রমণকারী হিসেবে বিবেচনা করতে শেখে, তাহলে পারস্পরিক সম্পর্কের ভিত্তিও শক্তিশালী হবে।
বিমান যোগাযোগ বাড়ানোই প্রথম পরীক্ষা
২০২৬ সালের জানুয়ারিতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ঢাকা-করাচি সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় চালু করে। ২০১২ সালের পর এই রুটে প্রথমবার সরাসরি বিমান চলাচল শুরু হয় এবং প্রথম ফ্লাইটের সব আসন বিক্রি হয়ে যায়। এটি দুই দেশের মধ্যে যাতায়াতের চাহিদার একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত। তবে একটি রুট চালু হওয়া দিয়ে আঞ্চলিক সংযোগের ঘাটতি দূর করা সম্ভব নয়।
শ্রীলঙ্কা থেকে পাকিস্তানের লাহোর ও করাচিতে বিমান চলাচল থাকলেও সরাসরি যোগাযোগের পরিসর সীমিত। অথচ পাকিস্তানের ট্যাক্সিলা, তখত-ই-বাহি ও সোয়াত অঞ্চলের গান্ধার সভ্যতার প্রত্নস্থলগুলো বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থান। এসব স্থানের কাছাকাছি ইসলামাবাদ ও পেশোয়ারে আরও সরাসরি যোগাযোগ গড়ে উঠলে ধর্মীয় পর্যটন বাড়তে পারে। নেপালের সঙ্গে পাকিস্তানের কোনো সরাসরি বিমান যোগাযোগ না থাকাও একটি বড় সীমাবদ্ধতা।
আকাশসীমা ব্যবহারের বিধিনিষেধের কারণে পাকিস্তানি বিমান সংস্থাগুলোর জন্য ঢাকা বা কাঠমান্ডুতে যাতায়াত কঠিন হতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশ, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার বিমান সংস্থাগুলোকে পাকিস্তানে আরও বেশি ফ্লাইট পরিচালনার সুযোগ দেওয়া সম্ভব। ইসলামাবাদ, লাহোর ও পেশোয়ারে অবতরণের অনুমতি বাড়িয়ে পাকিস্তান উদ্যোগ নিতে পারে। পরবর্তী সময়ে পারস্পরিক সুবিধার ভিত্তিতে সমান সুযোগের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
এখানে মূল বিষয় হলো, সব দেশ একসঙ্গে একই মাত্রায় প্রস্তুত না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা না করা। কোনো একটি দেশ প্রথম পদক্ষেপ নিলে অন্যদের জন্যও সহযোগিতায় এগিয়ে আসার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রণোদনা তৈরি হতে পারে।
তিন ধাপে আঞ্চলিক সংযোগ

প্রথম ধাপে আগামী ১২ মাসের মধ্যে পাঁচ দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসামুক্ত প্রবেশাধিকার অথবা অন্তত আগমনী ভিসার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। পাকিস্তান বৌদ্ধ তীর্থযাত্রী, ভিক্ষু ও ধর্মীয় নেতাদের জন্য আলাদা ভিসা চালু করতে পারে, যেখানে একাধিকবার প্রবেশের সুযোগসহ দীর্ঘমেয়াদি অনুমোদন থাকবে। একই সময়ে পাঁচ দেশের পর্যটন সংস্থাগুলো লুম্বিনী, ক্যান্ডি, অনুরাধাপুর, পাহাড়পুর ও ট্যাক্সিলাকে যুক্ত করে একটি যৌথ বৌদ্ধ পর্যটনপথ প্রচার করতে পারে।
দ্বিতীয় ধাপে, দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে, আঞ্চলিক বিশ্বস্ত-ভ্রমণকারী কার্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। নিরাপত্তা যাচাইয়ের পর কার্ডধারীরা বিমানবন্দরে স্বয়ংক্রিয় প্রবেশপথ ব্যবহার করতে পারবেন, ফলে অভিবাসন কাউন্টারে দীর্ঘ অপেক্ষা কমবে। এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা ফোরামের ব্যবসায়িক ভ্রমণ কার্ডের মতো ব্যবস্থায় আগাম যাচাই করা যাত্রীদের দ্রুত যাতায়াতের সুযোগ দেওয়া হয়। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর বিদ্যমান পরিচয় শনাক্তকরণ ও ডিজিটাল ব্যবস্থা কাজে লাগিয়ে এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়নের ভিত্তি তৈরি করা সম্ভব।
এই পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের বিনিময়, শিক্ষাগত যোগ্যতার পারস্পরিক স্বীকৃতি এবং আন্তদেশীয় ডিজিটাল অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থাও এগিয়ে নেওয়া উচিত। একজন পর্যটক যেন করাচি বা ক্যান্ডিতে নিজের ফোন ব্যবহার করে সহজে অর্থ পরিশোধ করতে পারেন, সেই সুযোগ তৈরি হলে ভ্রমণ আরও সুবিধাজনক হবে।
তৃতীয় ধাপে, পাঁচ বছর বা তার বেশি সময়ের মধ্যে, মানুষের চলাচল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অর্থনৈতিক সংযোগ গভীর করা সম্ভব। এর মধ্যে থাকবে সরাসরি নৌপরিবহন সম্প্রসারণ, শুল্ক প্রক্রিয়ার সমন্বয়, একক ডিজিটাল ব্যবস্থায় আমদানি-রপ্তানির আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা এবং আন্তদেশীয় জ্বালানি বাণিজ্য বৃদ্ধি। ২০২৪ সালে চালু হওয়া করাচি-চট্টগ্রাম নৌপরিবহন সংযোগ এ ধরনের উদ্যোগের একটি উদাহরণ। রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনুকূল হলে আরও বিস্তৃত স্থল ও আকাশ করিডর গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।
এই সহযোগিতাকে পাঁচ দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখারও প্রয়োজন নেই। দক্ষিণ এশিয়ার যেকোনো দেশ, ভারতসহ, অংশ নিতে চাইলে তার জন্য দরজা খোলা থাকা উচিত।
পাকিস্তানের সামনে সুযোগ
এই প্রক্রিয়ায় পাকিস্তানের আগে এগিয়ে আসার বিশেষ কারণ রয়েছে। দেশটির গান্ধার সভ্যতার ঐতিহ্য বৌদ্ধ বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। বিশ্বে প্রায় ৫০ কোটি বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী রয়েছেন। শ্রীলঙ্কায় প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ, নেপালে প্রায় ২৪ লাখ এবং বাংলাদেশে প্রায় ১০ লাখ বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীর বসবাস। নেপাল বুদ্ধের জন্মস্থান, আর শ্রীলঙ্কায় বৌদ্ধ ঐতিহ্য দেশটির সংস্কৃতি ও পর্যটনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
পাকিস্তানের প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানগুলোকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক তীর্থযাত্রার ব্যবস্থা গড়ে উঠলে দেশটি পর্যটন থেকে অর্থনৈতিক সুফল পেতে পারে। একজন পর্যটকের ব্যয় শুধু বড় হোটেল বা পর্যটন প্রতিষ্ঠানের আয় বাড়ায় না; স্থানীয় গাইড, গাড়িচালক, রেস্তোরাঁ, ফল বিক্রেতা, কারুশিল্পী ও ছোট ব্যবসায়ীরাও উপকৃত হন। ফলে ধর্মীয় পর্যটন স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান ও আয় বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করতে পারে।
তবে এই সম্ভাবনা কাজে লাগাতে শুধু ঐতিহাসিক ঐতিহ্য থাকলেই চলবে না। ভিসা, বিমান যোগাযোগ, পর্যটন অবকাঠামো এবং নিরাপদ ভ্রমণের বাস্তব ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিবেশী দেশগুলোর নাগরিকদের যাতায়াত সহজ না হলে সম্ভাব্য পর্যটকের সংখ্যা বাড়বে না।
দক্ষিণ এশিয়াকে আরও সংযুক্ত করতে কোনো নাটকীয় শীর্ষ সম্মেলন বা সব বিরোধের একযোগে সমাধান অপরিহার্য নয়। প্রয়োজন কয়েকটি সরকারের বাস্তবসম্মত উদ্যোগ, বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা এবং প্রতিবেশীদের সম্ভাব্য ঝুঁকি হিসেবে না দেখে স্বাগত অতিথি হিসেবে বিবেচনা করার রাজনৈতিক সদিচ্ছা।
পাকিস্তানে সফর করা বাংলাদেশি প্রতিনিধিরা আবার যাওয়ার আগ্রহ নিয়ে ফিরেছেন। এই আগ্রহকে বাস্তব সম্পর্কের ভিত্তিতে রূপান্তর করা সম্ভব, যদি যাতায়াতের পথ সহজ হয়। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোকে শেষ পর্যন্ত একটি মৌলিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে: তারা কি ভৌগোলিক নৈকট্যকে অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্পর্কের শক্তিতে পরিণত করবে, নাকি রাজনৈতিক অচলাবস্থা ও প্রশাসনিক বাধার কারণে প্রতিবেশী হয়েও দূরেই থেকে যাবে?
লেখক আটলান্টিক কাউন্সিলের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা।













