এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় এবার পাসের হার কমে দাঁড়িয়েছে ৫২ দশমিক ১২ শতাংশে। গত বছর এই হার ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ পয়েন্ট। একই সঙ্গে সর্বোচ্চ ফল জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০২৫ সালে ৬৯ হাজার ৯৭ জন জিপিএ-৫ পেলেও এবার পেয়েছে ৪০ হাজার ৮৪ জন। সে হিসাবে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ২৯ হাজার ১৩, যা প্রায় ৪২ শতাংশ।
শনিবার সচিবালয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সম্মেলনকক্ষে সংবাদ সম্মেলনে পরীক্ষার ফল ঘোষণা করেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিনও বক্তব্য দেন।
এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নেয় ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন। অকৃতকার্য হয়েছে ৫ লাখ ৯৪ হাজার ১১৩ জন। অর্থাৎ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের প্রায় অর্ধেকই পাস করতে পারেনি।
২০০৪ সালের পর সর্বনিম্ন পাসের হার
প্রকাশিত ফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০০৪ সালের পর এবারই এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাসের হার সবচেয়ে কম। ২০০৪ সালে পাসের হার ছিল ৪৭ দশমিক ৭৪ শতাংশ।
গত বছরও ফলাফলে বড় ধরনের পতন দেখা গিয়েছিল। সে বছর পাসের হার আগের বছরের তুলনায় ১৯ শতাংশ পয়েন্ট কমে ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশে নেমে আসে। এবারও পাসের হার কমে যাওয়ায় ধারাবাহিকভাবে ফলের অবনতির চিত্র উঠে এসেছে।
জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ২০ হাজার ৩৬৩ জন ছেলে এবং ১৯ হাজার ৭২১ জন মেয়ে। গত বছরের তুলনায় এবার সর্বোচ্চ ফল অর্জনকারীর সংখ্যা প্রায় ৪২ শতাংশ কমেছে।
বোর্ডভিত্তিক ফলাফলে এগিয়ে ঢাকা
বোর্ডভিত্তিক ফলাফলে সবচেয়ে বেশি পাসের হার ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে, ৬১ দশমিক ৮০ শতাংশ। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড, যেখানে পাসের হার ৬১ দশমিক ০৭ শতাংশ।
অন্যান্য বোর্ডের মধ্যে চট্টগ্রামে পাসের হার ৫২ দশমিক ০৭ শতাংশ, ময়মনসিংহে ৫১ দশমিক ৪৪ শতাংশ, সিলেটে ৫০ দশমিক ৯০ শতাংশ এবং কুমিল্লায় ৪৮ দশমিক ০৪ শতাংশ।
রাজশাহী বোর্ডে পাসের হার ৪৫ দশমিক ০৬ শতাংশ, যশোরে ৪৪ দশমিক ৯২ শতাংশ, বরিশালে ৪৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ এবং দিনাজপুরে ৪৫ দশমিক ৯৮ শতাংশ। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৪৯ দশমিক ৪৩ শতাংশ।
যেভাবে জানা যাবে ফল
শিক্ষার্থীরা অনলাইনে সরকারি ফল প্রকাশের ওয়েবসাইট, নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং খুদে বার্তার মাধ্যমে ফল জানতে পারবে। চাইলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকেও ফল সংগ্রহ করা যাবে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজ নিজ শিক্ষা বোর্ড ও প্রতিষ্ঠানের পরিচিতি নম্বর (ইআইআইএন) ব্যবহার করে সরকারি ওয়েবসাইটের ফলাফল বিভাগ থেকে ফল ডাউনলোড ও প্রকাশের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এবার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়েছিল ২ জুলাই। বন্যার কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের কয়েকটি বিষয়ের লিখিত পরীক্ষা নির্ধারিত সময়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে স্থগিত পরীক্ষাগুলো অনুষ্ঠিত হয় এবং ৯ সেপ্টেম্বর ওই বোর্ডের লিখিত পরীক্ষা শেষ হয়।












