সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে একটি সোফা তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাত বাংলাদেশির মরদেহ দেশে পৌঁছেছে। শনিবার সকাল ৮টা ৫ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-৩৩৬ ফ্লাইটে মরদেহগুলো হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। নিহতদের মধ্যে নওগাঁর পাঁচজন এবং নাটোরের দুজন রয়েছেন।
বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। পরে পরিবারের সদস্যরা মরদেহ নিয়ে নিজ নিজ এলাকায় ফিরবেন।
ডিএনএ পরীক্ষায় শনাক্ত হয় পরিচয়
গত ৯ আগস্ট রিয়াদের একটি সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৬ বাংলাদেশি কর্মী নিহত হন। তাঁদের মধ্যে প্রথম দফায় গত ২৭ আগস্ট নয়জনের মরদেহ দেশে পাঠানো হয়েছিল। বাকি সাতজনের পরিচয় ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে শনাক্ত করা হয়। সেই সাতজনের মরদেহই শনিবার দেশে ফিরেছে।
বৃহস্পতিবার রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের কাউন্সেলর মুহাম্মদ রেজায়ে রাব্বির স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে মরদেহ দেশে পাঠানোর তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, শনিবার সকালে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-৩৩৬ ফ্লাইটে মরদেহগুলো ঢাকায় পৌঁছাবে।
নওগাঁর পাঁচজনের মধ্যে চারজন আত্রাইয়ের
নওগাঁর পাঁচজনের মধ্যে চারজনের বাড়ি আত্রাই উপজেলায়। বাকি একজনের বাড়ি নওগাঁ সদর উপজেলায়। আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান জানিয়েছেন, নিহতদের পরিবারের সঙ্গে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে মরদেহ দেশে আনার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।
ইউএনও জানান, অগ্নিকাণ্ডের পর প্রথমে আত্রাই উপজেলার ১৩ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছিল। পরে তাঁদের মধ্যে ১১ জনের পরিচয় নিশ্চিত হয়। পাশাপাশি নওগাঁ সদর উপজেলার একজনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়।
এর আগে গত ২৭ আগস্ট আত্রাইয়ের নিহত ১১ জনের মধ্যে সাতজনের মরদেহ দেশে এসেছিল। এবার ডিএনএ পরীক্ষায় পরিচয় নিশ্চিত হওয়া সাতজনের মরদেহ দেশে ফেরার মধ্য দিয়ে অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাংলাদেশিদের মরদেহ দেশে আনার আরেকটি ধাপ সম্পন্ন হলো।












