এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের দিনে রাজধানীর মিষ্টির দোকানগুলোতে এবার দেখা যায়নি চেনা উৎসবের আমেজ। পাসের হার কমে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস ছিল তুলনামূলক কম। তার প্রভাব পড়েছে মিষ্টি বিক্রিতেও। অন্যান্য বছরের মতো ক্রেতাদের ভিড় না থাকায় প্রত্যাশিত বিক্রি হয়নি বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তবে আগামী এক-দুই দিনে বিক্রি বাড়তে পারে বলে আশা করছেন তাঁরা।
শনিবার ফল প্রকাশের পর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার মিষ্টির দোকান ঘুরে দেখা যায়, কিছু শিক্ষার্থী ও অভিভাবক মিষ্টি কিনতে এলেও দোকানগুলোতে ক্রেতাদের চাপ ছিল কম। সকাল থেকে কয়েক দফা বৃষ্টিও ক্রেতাদের উপস্থিতি কমিয়ে দিয়েছে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।
বাড়তি প্রস্তুতি, কিন্তু বিক্রি প্রত্যাশামতো নয়
বিজয়নগরের মুসলিম সুইটসের ক্যাশিয়ার রফিকুল ইসলাম জানান, এবার পাসের হার কম হওয়ায় মিষ্টি বিক্রি নিয়ে আগে থেকেই কিছুটা শঙ্কা ছিল। তারপরও ফল প্রকাশের দিনকে সামনে রেখে তাঁরা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি মিষ্টি তৈরি করেছিলেন। কিন্তু সেই অনুপাতে বিক্রি হয়নি।
তাঁর ভাষ্য, সার্বিকভাবে বিক্রি কিছুটা বেড়েছে। তবে যে পরিমাণ বিক্রির প্রত্যাশা ছিল, তা পূরণ হয়নি।
মালিবাগের বনফুল সুইটসেও ক্রেতাদের উপস্থিতি ছিল অন্যান্য বছরের তুলনায় কম। দোকানটির ব্যবস্থাপক জানান, ফল প্রকাশের পর সাধারণত মিষ্টির দোকানগুলোতে যে ভিড় তৈরি হয়, এবার তেমন চিত্র দেখা যায়নি। ফলে বিক্রিও কম হয়েছে।
ভালো ফলের আনন্দে মিষ্টি কিনছেন কেউ কেউ
তবে ফল ভালো হওয়ায় পরিবারের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে মিষ্টি কিনতে এসেছেন কয়েকজন অভিভাবক। তাঁদের একজন রফিকুল ইসলাম। মেয়ের ভালো ফলের আনন্দে পরিবারের সদস্যদের জন্য মিষ্টি কিনতে এসেছেন তিনি।
রফিকুল বলেন, মেয়ের ফল ভালো হয়েছে, তাই সবাই মিলে মিষ্টি কিনতে এসেছেন। তবে অনেক শিক্ষার্থীর ফল প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়নি। এ কারণে হয়তো আগের মতো মিষ্টি কেনার উৎসাহ দেখা যাচ্ছে না।
আগের মতো বিক্রি হয় না ফল প্রকাশের দিনে
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় প্রাণ গ্রুপের মিষ্টির ব্র্যান্ড মিঠাইয়ের বিক্রয়কেন্দ্র রয়েছে। মালিবাগের আবুল হোটেল এলাকার একটি বিক্রয়কেন্দ্রের ইনচার্জ আব্দুল কাদের জানান, পরীক্ষার ফল উপলক্ষে মিষ্টি বিক্রি আগামীকাল ও পরশু পর্যন্ত চলতে পারে। তাই সামনের দুই দিনে বিক্রি বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ব্যবসায়ীদের হিসাবে, সাত-আট বছর আগেও এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের দিনে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় তিন থেকে চার গুণ বেশি মিষ্টি বিক্রি হতো। করোনার পর সেই বিক্রি কমে প্রায় দ্বিগুণে নেমে এসেছে। দীর্ঘদিনের প্রচলন অনুযায়ী ফল প্রকাশের দিন মিষ্টি কেনার ধুম পড়লেও এবার প্রথম দিনেই সেই চেনা দৃশ্য দেখা যায়নি।
ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, ছুটির দিন শেষে অফিস-আদালত খুললে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে মিষ্টি কেনার প্রবণতা বাড়তে পারে। ফল উদ্যাপন পরবর্তী এক-দুই দিনও চলতে পারে। এতে প্রথম দিনের বিক্রির ঘাটতি কিছুটা পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে বলে তাঁদের প্রত্যাশা।
এইচএসসি ফল প্রকাশের দিনে রাজধানীতে মিষ্টির দোকানে ক্রেতাদের ভিড় কম ছিল। পাসের হার কম ও বৃষ্টির কারণে বিক্রিও হয়েছে প্রত্যাশার চেয়ে কম।












