২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনায় আবার শুরু হয়েছে ইলিশ ধরা। নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার প্রথম দিনেই চাঁদপুরের বড় স্টেশন মাছঘাটে বিক্রির জন্য এসেছে প্রায় এক হাজার টন ইলিশ। তবে বাজারে আসা মাছের বড় অংশের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এর প্রায় ৭০ শতাংশই ছোট, নরম ও পচা বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও মৎস্য বণিক সমিতির প্রতিনিধি।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে চাঁদপুর বড় স্টেশন মাছঘাটে এসব ইলিশ বিক্রির জন্য নামানো হয়। ট্রাক ও মাছ ধরার ট্রলারে করে ভোলা এবং নোয়াখালীর হাতিয়া থেকে মাছগুলো আনা হয়েছে। মাছ বহনকারী লোকজন জানান, ভোর থেকেই এসব মাছ ঘাটে পৌঁছাতে শুরু করে।
চার-পাঁচ দিন আগে ধরা মাছও এসেছে বাজারে
ব্যবসায়ী ও জেলেদের ভাষ্য অনুযায়ী, বাজারে আসা অনেক ইলিশ চার থেকে পাঁচ দিন আগে ধরা হয়েছিল। নিষেধাজ্ঞা চলায় তখন সেগুলো বিক্রি করা সম্ভব হয়নি। পরে ট্রলারে অথবা নিরাপদ স্থানে মাটিচাপা দিয়ে রাখা হয়। নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর সেগুলো চাঁদপুরের মাছঘাটে নিয়ে আসা হয়েছে।
এসব ইলিশের সংরক্ষণব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। চাঁদপুর মৎস্য বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শবে বরাত জানান, প্রথম দিনে ঘাটে আসা ইলিশের মাত্র ৩০ শতাংশ চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনার। বাকি ৭০ শতাংশ এসেছে নোয়াখালীর হাতিয়া ও ভোলা থেকে। নরম ইলিশের একটি অংশ নিষেধাজ্ঞার সময় ধরা হয়েছিল এবং তখন কোনোভাবে মজুত করে রাখা হয়। তাঁর ভাষ্য, নিষেধাজ্ঞার সময় বরফের সরবরাহ থাকে না।
এসব ইলিশ প্রতিমণ ১৫ হাজার থেকে ১৬ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। সে হিসাবে প্রতি কেজির দাম পড়েছে প্রায় ৩৭৫ থেকে ৪০০ টাকা।
আকার ও উৎসভেদে ইলিশের দাম
প্রথম দিনে বাজারে আসা ইলিশের দাম আকার ও উৎসভেদে আলাদা ছিল। চাঁদপুর মাছঘাটের ব্যবসায়ী আকবর হোসেন জানান, পদ্মা-মেঘনায় ধরা এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হয়েছে কেজিপ্রতি ২ হাজার ৪০০ টাকায়। ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের দাম ছিল কেজিপ্রতি ২ হাজার টাকা।
অন্যদিকে, সাগরের ইলিশ বিক্রি হয়েছে কেজিপ্রতি ১ হাজার ৫০০ টাকায়। ছোট আকারের, অর্থাৎ ৪০০ থেকে ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের দাম ছিল কেজিপ্রতি ৬০০ টাকা।
প্রথম দিনের মাছ পেয়ে খুশি জেলেরা
বাজারে পুরোনো ও নিম্নমানের ইলিশের উপস্থিতি থাকলেও নিষেধাজ্ঞা শেষে নদীতে নেমে প্রথম দিন ভালো মাছ পেয়েছেন অনেক জেলে। এতে তাঁদের মধ্যে স্বস্তি দেখা গেছে।
লিটন তপাদার নামে এক জেলে জানান, রাত থেকে ভোর পর্যন্ত নদীতে জাল ফেলে তিনি ১২ হাজার টাকার ইলিশ পেয়েছেন। তাঁর মতে, অন্য সময়ের তুলনায় প্রথম দিনে কিছুটা বেশি মাছ ধরা পড়েছে। এভাবে মাছ পাওয়া অব্যাহত থাকলে কয়েক দিনের মধ্যেই ঋণ পরিশোধ করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তিনি।
আরেক জেলে আবুল কালাম সাতজনের একটি দল নিয়ে মধ্যরাতে মেঘনা নদীতে মাছ ধরতে যান। তাঁদের জালে ধরা ইলিশ বিক্রি হয়েছে ১৫ হাজার টাকায়।
নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার প্রথম দিনেই বড় পরিমাণ ইলিশ বাজারে এলেও এর বড় অংশের মান নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একই সময়ে পদ্মা-মেঘনায় নতুন করে মাছ পাওয়া শুরু হওয়ায় জেলেদের মধ্যে আয়ের আশা ফিরেছে।
নিষেধাজ্ঞা শেষে চাঁদপুরের মাছঘাটে প্রথম দিনেই এসেছে প্রায় এক হাজার টন ইলিশ। তবে এর প্রায় ৭০ শতাংশ ছোট, নরম ও পচা। বাজারে ইলিশের দাম আকার ও উৎসভেদে কেজিপ্রতি ৩৭৫ থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকা।












