আরব উপসাগরে চলাচলের সময় কাতারের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি)বাহী একটি ট্যাংকারে অজ্ঞাত বস্তু আঘাত করেছে। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সন্ধ্যার এ ঘটনায় জাহাজের কোনো নাবিক আহত হননি এবং সমুদ্রে তেল বা অন্য কোনো দূষণ ছড়ানোর খবরও পাওয়া যায়নি।
কাতার গ্যাস ট্রান্সপোর্ট কোম্পানি নাকিলাত জানিয়েছে, তাদের পরিচালিত ‘আল মায়েদা’ নামের জাহাজটি উপসাগর অতিক্রম করার সময় অজ্ঞাত বস্তুগুলোর আঘাতের শিকার হয়। ঘটনার পর জাহাজটি নিরাপদ অবস্থায় রয়েছে এবং স্বাভাবিকভাবে চলাচলের সক্ষমতা বজায় রেখেছে। তবে আঘাতের প্রভাব কতটা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণে নাকিলাত
কাতার স্টক এক্সচেঞ্জে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে নাকিলাত জানায়, জাহাজ ও নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। আঞ্চলিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও সমন্বয় করছে প্রতিষ্ঠানটি। পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে তারা।
কাতার নিউজ এজেন্সির (কিউএনএ) প্রতিবেদনেও নাকিলাতের এই বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। তবে জাহাজটিতে কী ধরনের বস্তু আঘাত করেছে, কোথা থেকে এসেছে কিংবা ঘটনার পেছনে কারা রয়েছে—তা এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
হরমুজ প্রণালিতে বাড়ছে নিরাপত্তা উদ্বেগ
ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন আরব উপসাগর ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে সামুদ্রিক উত্তেজনা বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়ার পর থেকে এ অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে নিরাপত্তাঝুঁকি বেড়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে ইরান। দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের জন্য জাহাজগুলোকে তাদের অনুমতি নিতে হবে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ আরোপ করেছে।
কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়াচ্ছে কাতার
সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে কাতার। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা পুনরায় শুরু করার উদ্যোগ জোরদার করেছে দেশটি।
উপসাগরে এলএনজিবাহী জাহাজে আঘাতের ঘটনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই অঞ্চলে সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। তবে আল মায়েদার নাবিকদের নিরাপত্তা, জাহাজটির সচল থাকা এবং পরিবেশগত ক্ষতি না হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে নাকিলাত।












