ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ তিন দফা দাবিতে আশুলিয়ায় পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন চতুর্থ দিনেও থামেনি। মঙ্গলবার সকাল থেকে শিল্পাঞ্চলের নিশ্চিন্তপুর ও নরসিংহপুর এলাকায় দফায় দফায় শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, পাল্টাপাল্টি ধাওয়া এবং সড়ক অবরোধের চেষ্টা হয়েছে। শ্রমিকেরা সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেছেন। তাঁদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়েছে। শ্রমিক অসন্তোষের কারণে বেলা ১২টা পর্যন্ত ৭০টি পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে অথবা শ্রমিকেরা কারখানা থেকে বের হয়ে গেছেন।
মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণা দেওয়ার পরও শ্রমিকদের আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। নতুন বেতনকাঠামো দ্রুত ঘোষণা ও বাস্তবায়নের দাবিতে মঙ্গলবার সকালে কারখানায় হাজিরা দেওয়ার পর কাজে যোগ না দিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন শ্রমিকেরা।
নিশ্চিন্তপুর-নরসিংহপুরে সংঘর্ষ
শ্রমিক, শিল্প পুলিশ ও শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সকালে বিভিন্ন কারখানায় শ্রমিকেরা যথাসময়ে উপস্থিত হন। পরে কাজ বন্ধ রেখে দাবির পক্ষে বিক্ষোভ শুরু করেন। কয়েকটি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হলে শ্রমিকেরা বাইরে বেরিয়ে আসেন।
অনন্ত গার্মেন্টস, ডেকো গার্মেন্টস, নিউ এইজ, আল-মুসলিম, সাদিয়া ফ্যাশন, নীট এশিয়া, হা-মীম গ্রুপ ও শারমিন গ্রুপের কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়। এরপর শ্রমিকেরা আবদুল্লাহপুর-বাইপাইল সড়কে জড়ো হয়ে অবরোধের চেষ্টা করেন।
এ সময় পুলিশ বাধা দিলে শ্রমিকেরা পুলিশের দিকে এগিয়ে যান। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া শুরু হয়। পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়লে শ্রমিকেরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন।
শিল্প পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, সকাল ৮টার পর থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত নিশ্চিন্তপুর থেকে নরসিংহপুর পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। ইউনিক এলাকায় শ্রমিকেরা আবদুল্লাহপুর-বাইপাইল সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন।
দ্রুত নতুন বেতনকাঠামো ঘোষণার দাবি
আন্দোলনরত এক পোশাকশ্রমিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, শুধু মজুরি বোর্ড গঠন করলেই হবে না, এর বাস্তবায়নও প্রয়োজন। দ্রুত নতুন বেতনকাঠামো ঘোষণা করতে হবে।
শ্রমিকদের তিন দফা দাবির মধ্যে ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ অন্যতম। মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণা এলেও নতুন বেতনকাঠামো ঘোষণা ও বাস্তবায়নের দাবিতে তাঁরা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।
বেলা ১২টা পর্যন্ত ৭০ কারখানায় ছুটি
আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, শ্রমিক অসন্তোষের কারণে মঙ্গলবার বেলা ১২টা পর্যন্ত ৭০টি কারখানায় ছুটি দেওয়া হয়েছে অথবা শ্রমিকেরা কারখানা থেকে বের হয়ে গেছেন। বিভিন্ন স্থানে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনাও ঘটছে।
আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চলে টানা চতুর্থ দিনের মতো চলা এই আন্দোলনে কারখানার উৎপাদন ও সড়কের পরিস্থিতি অস্থির হয়ে উঠেছে। শ্রমিকদের দাবি বাস্তবায়নের বিষয়ে এখনো সমাধান না আসায় বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে।
আশুলিয়ায় পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনে মঙ্গলবারও সংঘর্ষ হয়েছে। শ্রমিক অসন্তোষের কারণে বেলা ১২টা পর্যন্ত ৭০টি পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়।












