ওমান উপকূলে ভারতীয় পতাকাবাহী একটি পণ্যবাহী জাহাজে হামলায় এক ভারতীয় নাবিক নিহত হয়েছেন। জাহাজটিতে থাকা অন্য ১৩ জন ভারতীয় নাবিককে জীবিত উদ্ধার করেছে ওমানের কোস্টগার্ড। সোমবার এ হামলার ঘটনা ঘটে। পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতের মধ্যে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলায় ভারতীয় নাগরিক নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে অন্তত ২৩ জনে।
ভারতের জাহাজ চলাচলবিষয়ক মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল জানান, ভারতীয় পতাকাবাহী এমএসভি আল জুসুফি নামের জাহাজটি ওমান উপকূলের কাছ দিয়ে চলাচলের সময় একটি অজ্ঞাত আকাশযান বা আকাশ থেকে নিক্ষিপ্ত বস্তুর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জাহাজটিতে মোট ১৪ জন ভারতীয় নাবিক ছিলেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় মন্ত্রী জানান, হামলার পর ১৩ জন নাবিক নিরাপদে জাহাজ থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। পরে তাঁদের উদ্ধার করে ওমানের কোস্টগার্ড। তবে আহত এক নাবিক চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। নিহত নাবিকের নাম গন্ধার নাহিম আজিজ। তিনি ভারতের গুজরাটের বাসিন্দা।
নিহত ভারতীয় নাবিকের সংখ্যা বেড়ে ২৩
পশ্চিম এশিয়ায় ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাংকারে হামলায় ভারতীয় নাগরিকদের প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। সোমবারের হামলার আগে এসব ঘটনায় অন্তত ২২ জন ভারতীয় নিহত হওয়ার তথ্য জানিয়েছিল ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। নতুন করে একজনের মৃত্যুতে মোট প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে অন্তত ২৩ জনে।
উদ্ধার হওয়া ১৩ নাবিকের সহায়তা নিশ্চিত করতে ওমানে ভারতীয় দূতাবাস স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। একই সঙ্গে জীবিত নাবিকদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা এবং নিহত নাবিকের মরদেহ দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বন্ধের আহ্বান ভারতের
মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ হামলার নিন্দা জানিয়ে পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা দ্রুত কমানোর আহ্বান জানিয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ওই অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর ধারাবাহিক হামলার ঘটনা গভীর উদ্বেগজনক। সংঘাত বন্ধে চলমান আলোচনা দ্রুত শেষ করে কূটনৈতিক সমাধানে পৌঁছানো প্রয়োজন, যাতে অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরে আসে।
একই সঙ্গে বাণিজ্যিক জাহাজ ও বেসামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলা বন্ধের দাবি জানিয়েছে নয়াদিল্লি। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ওই অঞ্চলের নৌপথে অবাধ ও নির্বিঘ্ন চলাচল এবং বাণিজ্য নিশ্চিত করার ওপরও জোর দিয়েছে দেশটি।
হরমুজ প্রণালিতে আগেও হামলার ঘটনা
চলমান সংঘাতের মধ্যে ভারতীয় নাবিক থাকা একাধিক জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে। গত ৩০ অক্টোবর ২৭ জন ভারতীয় নাবিক নিয়ে চলাচলকারী পানামার পতাকাবাহী একটি তেলবাহী ট্যাংকার হরমুজ প্রণালিতে লিমপেট মাইনের হামলার শিকার হয়। এতে জাহাজটির ইঞ্জিনকক্ষে আগুন ধরে যায়। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
এর আগে ১১ অক্টোবর হরমুজ প্রণালিতে ভারতীয় নাবিক থাকা আরও দুটি জাহাজে হামলা হয়। ওমানের সোহারের কাছে ড্রোন হামলার শিকার হয় নিকারাগুয়ার পতাকাবাহী ট্যাংকার এমটি পেট্রো ডলফিন। ওই ঘটনায় দুই ভারতীয় নাবিক নিখোঁজ হন। একই দিনে মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের পতাকাবাহী এমটি ভালথেরা নামের আরেকটি জাহাজ অজ্ঞাত একটি ক্ষেপণাস্ত্র বা বস্তুর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জাহাজটিতে ১১ জন ভারতীয় নাবিক ছিলেন।
এর আগে মে মাসে অজ্ঞাত আকাশপথের হামলায় ওমানের জলসীমায় ভারতীয় মালিকানাধীন একটি জাহাজ ডুবে যায়। ওই ঘটনারও নিন্দা জানিয়েছিল ভারত।
ওমান উপকূল ও হরমুজ প্রণালিতে ধারাবাহিক এসব হামলায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক নৌপরিবহন এবং নাবিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।












