চীনে তৈরি টেসলার বৈদ্যুতিক গাড়ি বিক্রি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১০ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। চায়না প্যাসেঞ্জার কার অ্যাসোসিয়েশনের মঙ্গলবার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের অক্টোবরে সাংহাই কারখানায় তৈরি টেসলার ৬৭ হাজার ৮২৯টি গাড়ি বিক্রি ও রপ্তানি হয়েছে।
টেসলার মডেল থ্রি ও মডেল ওয়াই গাড়ি মিলিয়ে এই হিসাব করা হয়েছে। এর মধ্যে চীনের অভ্যন্তরীণ বাজারে বিক্রির পাশাপাশি ইউরোপ, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল এবং কানাডায় রপ্তানি করা গাড়িও রয়েছে।
অক্টোবরে বিক্রির বার্ষিক প্রবৃদ্ধি সেপ্টেম্বরে ৫ শতাংশের তুলনায় বেড়েছে। এ নিয়ে টানা ১২ মাস চীনে তৈরি টেসলার গাড়ির বার্ষিক বিক্রিতে প্রবৃদ্ধি ধরে রাখল প্রতিষ্ঠানটি।
তবে মাসভিত্তিক হিসাবে চিত্রটি ভিন্ন। সেপ্টেম্বরে তুলনায় অক্টোবরে টেসলার চীন-নির্মিত গাড়ির বিক্রি ২৮ দশমিক ৯ শতাংশ কমেছে।
চীনের বাইরে ইউরোপের কয়েকটি বাজারেও অক্টোবরে টেসলার নতুন গাড়ির নিবন্ধন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর মাধ্যমে অঞ্চলটিতে প্রতিষ্ঠানটির বিক্রির পুনরুদ্ধারের ধারা অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে, দক্ষিণ কোরিয়ার আমদানি করা গাড়ির বাজারেও টেসলা উল্লেখযোগ্য অবস্থান তৈরি করেছে। চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে সাংহাই কারখানায় তৈরি টেসলার গাড়ি রপ্তানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশের গন্তব্য ছিল দক্ষিণ কোরিয়া।
অন্যদিকে, টেসলা সম্প্রতি তাদের বার্ষিক মূলধনি ব্যয়ের পূর্বাভাস প্রায় ২০ শতাংশ কমিয়েছে। তৃতীয় প্রান্তিকে ইতিবাচক অবাধ নগদ প্রবাহের তথ্যও বিনিয়োগকারীদের নজর কেড়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রোবোটিকস খাতে প্রত্যাশার তুলনায় কম ব্যয় হওয়াও এর একটি কারণ।
এ ছাড়া ইলন মাস্কের মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের সঙ্গে টেসলার সম্ভাব্য একীভূতকরণ নিয়েও আলোচনা চলছে। তবে এমন উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন—দুই দেশেই নিয়ন্ত্রক সংস্থার কঠোর পর্যালোচনার মুখে পড়তে পারে। জাতীয় নিরাপত্তা, তথ্যের আদান-প্রদান এবং প্রযুক্তি হস্তান্তর নিয়ে উদ্বেগ এ ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে উঠতে পারে।












