ভারতের ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের (এনএসই) দ্বিতীয় প্রান্তিকের মুনাফা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৩ শতাংশ বেড়েছে। গত সেপ্টেম্বরে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর এটিই প্রতিষ্ঠানটির প্রথম আর্থিক প্রতিবেদন। মঙ্গলবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, নগদ বাজারে লেনদেনের পরিমাণ বাড়ায় মুনাফায় এই প্রবৃদ্ধি হয়েছে। তবে আগের প্রান্তিকের তুলনায় আয় ও মুনাফা দুটিই কমেছে।
৩০ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়া তিন মাসে এনএসইর সমন্বিত মুনাফা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৫৭৮ কোটি রুপি। আগের বছরের একই সময়ে এই অঙ্ক ছিল ২ হাজার ৯৮ কোটি রুপি। একই সময়ে পরিচালন আয় ৩ হাজার ৬৭৭ কোটি রুপি থেকে বেড়ে ৪ হাজার ৬৭ কোটি রুপিতে পৌঁছেছে।
তবে চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকের তুলনায় পরিস্থিতি ভিন্ন। জুনে শেষ হওয়া প্রান্তিকের তুলনায় দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রতিষ্ঠানটির আয় প্রায় ১১ শতাংশ এবং মুনাফা ১৭ শতাংশের বেশি কমেছে।
নতুন লেনদেনব্যবস্থায় চাপ
আয় কমার পেছনে ভারতের শেয়ারবাজারে চালু হওয়া নতুন লেনদেনব্যবস্থার প্রভাব রয়েছে। গত আগস্টে বাজার বন্ধ হওয়ার আগে শেয়ারের চূড়ান্ত দাম নির্ধারণের জন্য ক্লোজিং অকশন সেশন (সিএএস) চালু করে এনএসই।
দিনের শেষ পর্যায়ের এই বিশেষ লেনদেনব্যবস্থায় শেয়ারের দামে ওঠানামা বেড়েছে। ফলে স্বল্প সময়ের মধ্যে শেয়ার কেনাবেচা করা এবং অপশন লেনদেনে অংশ নেওয়া বিনিয়োগকারীরা সতর্ক হয়েছেন। অনেকেই লেনদেনের পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছেন।
এর প্রভাব পড়েছে অপশন বাজারে। অপশন চুক্তি কেনার জন্য বিনিয়োগকারীদের দেওয়া প্রিমিয়ামের ভিত্তিতে হিসাব করা দৈনিক গড় লেনদেনের পরিমাণ ২৫ শতাংশ কমেছে।
অন্যদিকে নগদ শেয়ারবাজারে দৈনিক গড় লেনদেন আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৪ শতাংশ বেড়েছে। কিন্তু জুন প্রান্তিকের তুলনায় তা ১৩ শতাংশ কমেছে।
বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান জেফরিজের হিসাব অনুযায়ী, আগস্টে নতুন ক্লোজিং অকশন সেশন চালুর পর ভারতের অপশন বাজারে দৈনিক গড় লেনদেনের পরিমাণ মাসিক ভিত্তিতে ২০ শতাংশ কমেছিল। একই সময়ে এনএসইতে নগদ শেয়ারের দৈনিক গড় লেনদেনের পরিমাণও ০.৬ শতাংশ কমে যায়।
তালিকাভুক্তিতে এক দশকের অপেক্ষার অবসান
এনএসইর শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তি ভারতের আর্থিক খাতের অন্যতম আলোচিত ঘটনা। প্রায় এক দশকের অপেক্ষার পর গত সেপ্টেম্বরে প্রতিষ্ঠানটি শেয়ারবাজারে আসে। তালিকাভুক্তির সময় প্রতিষ্ঠানটির বাজারমূল্য দাঁড়ায় প্রায় ৪ হাজার ৭০০ কোটি ডলার।
ভারতের নগদ শেয়ার ও ডেরিভেটিভস বাজারে এনএসইর প্রভাবশালী অবস্থান রয়েছে। দেশটির খুচরা বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং শেয়ারবাজারের বিস্তারের কারণে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসা সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
তবে নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে বিরোধও অতীতে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক হিসাবে প্রভাব ফেলেছে। গত বছরের একই প্রান্তিকে সহপ্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ার বিক্রি করে ১ হাজার ২০১ কোটি রুপি মুনাফা দেখিয়েছিল এনএসই। একই সময়ে কো-লোকেশন ও ডার্ক ফাইবার-সংক্রান্ত নিয়ন্ত্রক বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য ১ হাজার ২৯৭ কোটি রুপি সংরক্ষণ করেছিল প্রতিষ্ঠানটি।
ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির প্রত্যাশা
বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান জেফরিজের ধারণা, এনএসইর ওপর নিয়ন্ত্রক চাপের সবচেয়ে কঠিন সময় সম্ভবত পেরিয়ে গেছে। প্রতিষ্ঠানটি ২০২৭ থেকে ২০২৯ অর্থবছর পর্যন্ত এনএসইর বার্ষিক আয় ১৫ শতাংশ হারে বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে।
তাদের মতে, অপশন বাজারে এনএসইর অবস্থান স্থিতিশীল হওয়া, নগদ শেয়ারের লেনদেন বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিনির্ভর সেবা থেকে আয় বাড়ার কারণে এই প্রবৃদ্ধি আসতে পারে।
এদিকে জেপি মরগান ও মরগ্যান স্ট্যানলি এনএসইর শেয়ারের বিষয়ে ইতিবাচক মূল্যায়ন দিয়েছে। প্রতিষ্ঠান দুটি ভারতের বাজারে এনএসইর শক্তিশালী অবস্থান এবং খুচরা বিনিয়োগকারীদের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণকে সম্ভাবনার প্রধান কারণ হিসেবে দেখেছে।
ভারতের শেয়ারবাজারে এনএসইর আধিপত্য এবং বিনিয়োগকারীদের সংখ্যা বৃদ্ধি প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করছে। তবে নতুন লেনদেনব্যবস্থার প্রভাবে সাম্প্রতিক প্রান্তিকে আয় ও মুনাফা কমে যাওয়ায় বাজারের পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাওয়ানোই এখন প্রতিষ্ঠানটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।












