বাংলাদেশ ব্যাংক ১ নভেম্বর থেকে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিকে টাকা পাঠানোর সেবা চালু করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র শাহরিয়ার সিদ্দিকের পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে। এখন কারও মোবাইল নম্বর বা অ্যাকাউন্ট নম্বর লিখতে হবে না। প্রাপকের বাংলা কিউআর কোড স্ক্যান করেই টাকা পাঠানো যাবে। বাংলা কিউআরে টাকা পাঠানো সাধারণ মানুষের কাছে একটি বড় সুবিধা হয়ে আসতে পারে।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী পদ্ধতিটি সহজ। প্রেরক প্রথমে প্রাপকের বাংলা কিউআর কোড স্ক্যান করবেন। এরপর পর্দায় দেখানো তথ্য মিলিয়ে নেবেন। সবশেষে লেনদেন সম্পন্ন করবেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, এতে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তির লেনদেন আরও দ্রুত, নিরাপদ ও সুবিধাজনক হবে। নগদ টাকার ওপর নির্ভরতা কমবে এবং ডিজিটাল লেনদেন বাড়বে বলেও আশা করা হচ্ছে। লেনদেনকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করাও এর লক্ষ্য।
সেবাটি চালুর পরিকল্পনা আগস্টেই জানিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। তখন ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেছিলেন, প্রত্যেক ব্যক্তি নিজের একটি বাংলা কিউআর কোড পাবেন। সেই কোড স্ক্যান করে অন্যরা সরাসরি টাকা পাঠাতে পারবেন। লেনদেন হবে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও মোবাইল আর্থিক সেবা অ্যাকাউন্টের মধ্যে। অর্থাৎ ব্যাংক থেকে ব্যাংকে, মোবাইল আর্থিক সেবা থেকে মোবাইল আর্থিক সেবায়, আবার ব্যাংক থেকে মোবাইল আর্থিক সেবায় এবং উল্টো দিকেও টাকা যাবে।
সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে এর ব্যবহার অনেক হতে পারে। বন্ধুদের মধ্যে খাবারের বিল ভাগাভাগি করা যাবে। পরিবারের সদস্যকে ছোট অঙ্কের টাকা পাঠানো যাবে। বাসাভাড়া বা টিউশন ফির মতো মাসিক খরচও দেওয়া যাবে। এখন এসব কাজে অনেকে নগদ টাকা বা নম্বর লিখে পাঠানোর পদ্ধতি ব্যবহার করেন। বাংলা কিউআরে টাকা পাঠানো এই কাজ আরও সহজ করবে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আশা করছে।
এই পদ্ধতির একটি বড় সুবিধা ভুল অ্যাকাউন্টে টাকা চলে যাওয়ার ঝুঁকি কমানো। বর্তমানে সেন্ড মানি করতে গিয়ে একটি সংখ্যা ভুল টাইপ করলে টাকা অন্য কারও কাছে চলে যেতে পারে। আরিফ হোসেন খানের ভাষ্য, কিউআর পদ্ধতিতে প্রেরককে প্রাপকের নাম বা অন্য তথ্য আবার লিখতে হয় না। ফলে ভুল টাইপের সুযোগ থাকে না। তিনি তখন আরও জানান, সেবার অ্যাপ তৈরি হয়ে গেছে এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।
এতদিন বাংলা কিউআর মূলত ক্রেতার কাছ থেকে দোকানির কাছে মূল্য পরিশোধে ব্যবহার হয়েছে। এ পদ্ধতি বাধ্যতামূলক এবং সব মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা এখন এটি ব্যবহার করছে। আগস্টে ব্যাংকের মুখপাত্র জানান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কর আদায়ে বাংলা কিউআর ব্যবহারের বিষয়ে সরকারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তাঁর ভাষায়, এ ধরনের সেবা চালুর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ব্যবহারকারীদের জন্য কিছু সতর্কতাও জরুরি। টাকা পাঠানোর আগে পর্দায় দেখানো নাম ও তথ্য ভালো করে মিলিয়ে নিন। অচেনা কারও দেওয়া কোড না ভেবে স্ক্যান করবেন না। তবে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তির লেনদেনের সীমা কত, কোনো ফি লাগবে কি না এবং কোন কোন ব্যাংক ও সেবাদাতা শুরু থেকেই যুক্ত থাকছে, সে তথ্য এখনো প্রকাশিত হয়নি। বাংলা কিউআরে টাকা পাঠানোর আগে এসব বিষয় নিজ নিজ ব্যাংক বা মোবাইল আর্থিক সেবার অ্যাপে যাচাই করে নেওয়াই ভালো।












