বাংলাদেশে চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে প্রবাসী আয় ১৩ শতাংশ বেড়েছে। জুলাই-অক্টোবরে প্রবাসী আয় দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৪৬ কোটি ৫০ লাখ ডলারের বেশি। গত অর্থবছরের একই সময়ে এসেছিল প্রায় ১ হাজার ১৪ কোটি ৯০ লাখ ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এক বছরের ব্যবধানে বাড়তি এসেছে প্রায় ১৩১ কোটি ৬০ লাখ ডলার। বিদেশে থাকা বাংলাদেশিদের পাঠানো এই অর্থ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার অন্যতম বড় উৎস।
শুধু অক্টোবর মাসেই প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন প্রায় ২৮৭ কোটি ৪০ লাখ ডলার। এক বছর আগে অক্টোবরে এই অঙ্ক ছিল প্রায় ২৫৬ কোটি ৪০ লাখ ডলার। অর্থাৎ মাসওয়ারি হিসাবে প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে প্রায় ১২ শতাংশে। মাসের শেষ তিন দিনে, মানে ২৯ থেকে ৩১ অক্টোবর, এসেছে আরও প্রায় ২১ কোটি ৮০ লাখ ডলার। সব মিলিয়ে চার মাসের হিসাব বেশ স্বস্তিদায়ক। উপসাগরীয় দেশ, ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রসহ নানা জায়গায় কাজ করা মানুষের পরিশ্রম এর পেছনে কাজ করছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকগুলো থেকে এই তথ্য নিয়মিত সংগ্রহ করে। তাই মাসের মাঝখানেও আংশিক চিত্র পাওয়া যায়, যা নীতিনির্ধারকদের সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে।
তবে একটি বিষয় নজর কাড়ছে। জুন মাস থেকে টানা পাঁচ মাস প্রবাসী আয় মাসে ৩০০ কোটি ডলারের নিচে রয়েছে। অথচ ডিসেম্বর থেকে মে পর্যন্ত প্রতি মাসেই এই সীমা ছাড়িয়েছিল। ফলে প্রবৃদ্ধি ভালো হলেও মাসিক অঙ্কে আগের গতি আপাতত দেখা যাচ্ছে না। মধ্যপ্রাচ্যের অনিশ্চয়তা চলতে থাকলে সেখানকার কর্মীদের আয় ও কাজে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তার ছাপ প্রবাসী আয়েও পড়তে পারে। তাই আগামী কয়েক মাসের সংখ্যাগুলো খুব মনোযোগ দিয়ে দেখা হবে। জুলাই-অক্টোবরে প্রবাসী আয়ের বৃদ্ধি ভালো হলেও দীর্ঘমেয়াদি গতি বোঝা যাবে সামনের মাসগুলোর হিসাব হাতে এলে।
যাঁরা বিদেশে কাজ করেন, তাঁদের জন্য এই হিসাবের একটি বাস্তব দিক আছে। ব্যাংকিং চ্যানেলে পাঠানো অর্থই সরকারি হিসাবে ধরা পড়ে। তাই বৈধ পথে টাকা পাঠালে একদিকে অর্থ নিরাপদ থাকে। অন্যদিকে দেশের রিজার্ভ ও ডলারের বিনিময় হারেও তার ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। হুন্ডির মতো অবৈধ পথে পাঠানো অর্থ এই হিসাবের বাইরে থেকে যায়। ফলে সেই অর্থ দেশের অর্থনীতির কাজে লাগে না, আর পাঠানো মানুষটিও ঝুঁকিতে থাকেন। পরিবারের হাতে টাকা পৌঁছাবে কি না, সেই নিশ্চয়তাও বৈধ পথেই বেশি।
সামনের মাসগুলোতে এই ধারা কেমন থাকে, তা অনেকটাই নির্ভর করবে প্রবাসীদের কর্মসংস্থানের পরিস্থিতির ওপর। আমদানি ব্যয় মেটাতে এবং বিনিময় হার স্থির রাখতে প্রবাসী আয়ের ভূমিকা বড়। গ্রামাঞ্চলের বহু পরিবারের সংসারও চলে এই অর্থে। সন্তানের পড়াশোনা, চিকিৎসা আর ঘরবাড়ির খরচের বড় একটি অংশ আসে বিদেশ থেকে পাঠানো টাকা থেকেই। তাই জুলাই-অক্টোবরে প্রবাসী আয়ের এই বৃদ্ধি দেশের অর্থনীতির পাশাপাশি অসংখ্য ঘরের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহের হিসাব এলে চিত্রটি আরও স্পষ্ট হবে। তখনই বোঝা যাবে, চার মাসের এই ভালো গতি আগামী মাসেও ধরে রাখা যাচ্ছে কি না।












