ধর্মীয় বিদ্বেষ ও বৈষম্য থেকে নাগরিকদের সুরক্ষা দেওয়া রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। যুক্তরাজ্যে মুসলিমদের প্রতি বৈরিতা মোকাবিলায় সরকারের নতুন উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা তাই অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তবে এ ধরনের উদ্যোগের সংজ্ঞা ও প্রয়োগ অস্পষ্ট হলে তা নতুন সমস্যাও তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে কোনো ধর্মের অনুসারীদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক আচরণ এবং সেই ধর্মের বিশ্বাস, মতবাদ কিংবা রাজনৈতিক প্রভাবের সমালোচনার মধ্যে পার্থক্য বজায় রাখা জরুরি। এই সীমারেখা স্পষ্ট না হলে সংখ্যালঘুদের সুরক্ষার উদ্যোগ মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত করার আশঙ্কা তৈরি করতে পারে।
গত সপ্তাহে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী মুসলিম প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। আলোচনার বিষয় ছিল মুসলিমদের প্রতি বৈরিতা মোকাবিলায় সরকারের পরিকল্পনা এবং এ কাজে একজন বিশেষ প্রতিনিধি নিয়োগ। উদ্যোগটি সামাজিক সম্প্রীতি ও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার প্রশ্নের সঙ্গে যুক্ত। তবে এর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও উপেক্ষা করা যায় না।
লেবার পার্টি সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ভোটারগোষ্ঠীর সমর্থন হারিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে তরুণ, শহুরে, বিশ্ববিদ্যালয়শিক্ষিত ও প্রগতিশীল ভোটারদের একটি অংশ, যাদের কেউ কেউ গ্রিন পার্টির দিকে ঝুঁকেছেন। পাশাপাশি ঐতিহ্যগতভাবে লেবারের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত আসনগুলোর মুসলিম ভোটারদের মধ্যেও দলটির প্রতি সমর্থন কমেছে। তাঁদের কেউ কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সমর্থন করছেন। এই ভোটারদের কাছে ফেরানোর চেষ্টা লেবারের রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হয়ে উঠেছে।
এ পরিস্থিতিতে পররাষ্ট্রনীতি ও অভ্যন্তরীণ রাজনীতির সম্পর্কও নতুন গুরুত্ব পেয়েছে। ইসরায়েল-ফিলিস্তিন প্রশ্নে সরকারের অবস্থান এবং যুক্তরাজ্যের মুসলিম জনগোষ্ঠীর উদ্বেগ—দুটিই এখন দলীয় রাজনীতির আলোচনায় পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত।
ফিলিস্তিন প্রশ্নে লেবারের অবস্থান
গাজা যুদ্ধের পর ইসরায়েলের সামরিক অভিযান ও নীতির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সমালোচনা বেড়েছে। বয়কট, বিনিয়োগ প্রত্যাহার ও নিষেধাজ্ঞার দাবিও জোরালো হয়েছে। লেবারের প্রগতিশীল ও মুসলিম সমর্থকদের একটি অংশ সরকারের কাছে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান দাবি করছেন। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সম্ভাবনা নিয়েও হতাশ; আবার কেউ ইসরায়েল রাষ্ট্রের অস্তিত্বকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেন।

৭ অক্টোবরের হামলার পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার প্রকাশ্যে ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে তাঁর সরকারের অবস্থানে পরিবর্তন আসে। ইসরায়েলে কিছু অস্ত্র রপ্তানির লাইসেন্স স্থগিত করা হয়, কয়েকজন ইসরায়েলি মন্ত্রী ও বসতি স্থাপনকারীর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয় এবং ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। পরবর্তী সরকার পশ্চিম তীরের ইসরায়েলি বসতি থেকে পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা এবং অস্ত্র রপ্তানিতে আরও বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।
ইসরায়েল সরকারের নীতির সমালোচনা এবং ইহুদিবিদ্বেষ এক বিষয় নয়। একইভাবে ফিলিস্তিনিদের অধিকার সমর্থন করাও কোনো জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বিদ্বেষের সমার্থক নয়। গণতান্ত্রিক আলোচনায় এই পার্থক্য বজায় রাখা জরুরি। সরকারের পররাষ্ট্রনীতি জনমতের প্রভাবে পরিবর্তিত হতে পারে, তবে তা যেন কেবল কোনো নির্দিষ্ট ভোটারগোষ্ঠীকে সন্তুষ্ট করার কৌশলে সীমাবদ্ধ না থাকে। সিদ্ধান্তের ভিত্তি হওয়া উচিত নীতি, আইন ও জাতীয় স্বার্থ।
বৈরিতার সংজ্ঞা নিয়ে প্রশ্ন
যুক্তরাজ্যে ধর্মীয় বৈষম্য এবং ধর্মের ভিত্তিতে মানুষের বিরুদ্ধে ঘৃণা উসকে দেওয়ার বিরুদ্ধে আগে থেকেই আইন রয়েছে। তবে সরকারের নতুন উদ্যোগের সমর্থকদের একাংশ মনে করেন, মুসলিমদের প্রতি বৈরিতা মোকাবিলায় আরও বিস্তৃত সংজ্ঞা ও বিশেষ ব্যবস্থা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে সরকার একটি কমিশন গঠন করেছিল। কমিশন মুসলিমদের প্রতি বৈরিতা মোকাবিলায় আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক নয়, এমন একটি সংজ্ঞার সুপারিশ করেছে। পাশাপাশি একজন বিশেষ প্রতিনিধি নিয়োগের প্রস্তাবও এসেছে। উদ্দেশ্য হলো, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে মুসলিমদের প্রতি বৈরিতা শনাক্ত ও মোকাবিলার ক্ষেত্রে একটি অভিন্ন কাঠামো তৈরি করা।
এ ধরনের কাঠামোর পক্ষে যুক্তি রয়েছে। মুসলিম পরিচয়ের কারণে কাউকে হয়রানি, হুমকি বা বৈষম্যের শিকার হতে হলে রাষ্ট্রের কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। বিদ্যমান আইন থাকা সত্ত্বেও কোনো জনগোষ্ঠী যদি বাস্তবে পর্যাপ্ত সুরক্ষা না পায়, তাহলে নীতিগত পর্যালোচনার প্রয়োজন হতে পারে।
তবে সংজ্ঞাটি কতটা বিস্তৃত হবে এবং বাস্তবে কীভাবে প্রয়োগ করা হবে, তা স্পষ্ট না হলে উদ্বেগ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। সমালোচকদের আশঙ্কা, এর অপপ্রয়োগে ইসলামপন্থী উগ্রবাদের সমালোচনা, ধর্মীয় মতবাদ নিয়ে প্রশ্ন কিংবা মুসলিমদের সঙ্গে অপরাধী চক্রের সম্পর্ক নিয়ে তথ্যভিত্তিক আলোচনা—এসবকেও বৈরিতা হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে। এমন আশঙ্কা দূর করতে সংজ্ঞায় স্পষ্ট করতে হবে, ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে ব্যক্তির প্রতি বিদ্বেষমূলক আচরণ এবং ধর্ম বা মতাদর্শের সমালোচনা এক নয়।
কমিশনের কাছে কারা কী ধরনের তথ্য ও মতামত জমা দিয়েছিল, তা নিয়েও স্বচ্ছতার প্রশ্ন উঠেছে। সরকার প্রথমে জানিয়েছিল, জমা দেওয়া বক্তব্যগুলো মুছে ফেলা হয়েছে। পরে জানানো হয়, মূল তথ্যভান্ডার সরকারি দপ্তরের কম্পিউটারে সংরক্ষিত রয়েছে। পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশে সরকারের অনীহা কমিশনের কাজের স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন বাড়িয়েছে। নীতিনির্ধারণের ভিত্তি জনসমক্ষে স্পষ্ট না হলে নতুন সংজ্ঞার প্রতি আস্থা তৈরি করা কঠিন।
নির্বাচনী হিসাব ও সামাজিক বিভাজন

লেবারের নির্বাচনী কৌশল কিছুটা সফল হচ্ছে বলে জনমত জরিপের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। অ্যান্ডি বার্নহ্যাম প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সময় ইউগভের জরিপে দলটির সমর্থন ছিল ১৮ শতাংশ; সাম্প্রতিক জরিপে তা বেড়ে ২৭ শতাংশ হয়েছে। মোর ইন কমনের জরিপেও প্রগতিশীল ভোটারদের মধ্যে লেবারের সমর্থন বাড়ার ইঙ্গিত রয়েছে। তবে এসব জরিপের ফলকে নির্দিষ্ট ভোটারগোষ্ঠীর স্থায়ী রাজনৈতিক অবস্থান হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।
মুসলিম ভোটারদের সমর্থন ফিরে পাওয়াও লেবারের জন্য সহজ হবে না। গত সাধারণ নির্বাচনে গাজা ইস্যুতে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জয় দলটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা ছিল। আগামী নির্বাচনে বার্মিংহাম, ব্র্যাডফোর্ড, ল্যাঙ্কাশায়ারের কিছু এলাকা এবং লন্ডনে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা আরও সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করতে পারেন।
লেবার দাবি করতে পারে, তারা মুসলিম ভোটারদের উদ্বেগ শুনেছে এবং রিফর্ম পার্টিকে ঠেকাতে তাঁদের মূল দলে ফিরে আসা উচিত। অন্যদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বলতে পারেন, লেবার যথেষ্ট পরিবর্তন আনেনি এবং সংসদে তাঁদের উপস্থিতি বাড়লে সরকারের ওপর চাপ বজায় রাখা সম্ভব হবে। এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা গণতান্ত্রিক রাজনীতির স্বাভাবিক অংশ। কিন্তু ভোটের হিসাব যদি ক্রমে ধর্মীয় ও জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে সাজানো হয়, তাহলে তার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে ভাবতে হবে।
গত নির্বাচনে কিছু এলাকায় জাতিগত পরিচয়ের সঙ্গে রাজনৈতিক সমর্থনের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হয়েছে। হারো ইস্টে কনজারভেটিভ প্রার্থী বব ব্ল্যাকম্যান ৫৩ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হন। ভারতীয় বংশোদ্ভূত ভোটারদের সমর্থন তাঁর জয়ের পেছনে ভূমিকা রেখেছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে। লেস্টার ইস্টেও একই জনগোষ্ঠীর মধ্যে দলটি ভালো ফল করে আসনটি জিতেছিল।
তবে এসব ফলকে কোনো একটি জাতিগোষ্ঠীর একক রাজনৈতিক পছন্দের প্রমাণ হিসেবে দেখা উচিত নয়। ভোটারদের সিদ্ধান্তে অর্থনীতি, অভিবাসন, স্থানীয় সমস্যা, দলীয় নেতৃত্ব ও প্রার্থীর গ্রহণযোগ্যতাসহ নানা বিষয় কাজ করে। একইভাবে মুসলিম ভোটারদের অবস্থানও একরকম নয়। তাঁদের সবাইকে একটি রাজনৈতিক অবস্থানের মধ্যে ফেলা যেমন ভুল, তেমনি ভারতীয় বংশোদ্ভূত ভোটারদেরও একক রাজনৈতিক গোষ্ঠী হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক নয়।
রাজনৈতিক দলগুলো যদি এমন ধারণা তৈরি করে যে লেবার ও গ্রিন পার্টি পাকিস্তান ও ফিলিস্তিনের পক্ষে, আর কনজারভেটিভ ও রিফর্ম পার্টি ভারত ও ইসরায়েলের পক্ষে, তাহলে ব্রিটিশ রাজনীতিতে সাম্প্রদায়িক বিভাজন আরও জোরালো হতে পারে। এ ধরনের সরলীকরণ বাস্তব রাজনৈতিক মতপার্থক্যকে আড়াল করে এবং নাগরিকদের জাতীয় পরিচয়ের বদলে ধর্মীয় বা জাতিগত পরিচয়ে বিচার করার প্রবণতা বাড়ায়। যুক্তরাজ্যের বহুজাতিক ও বহুধর্মীয় সমাজে দলগুলোর দায়িত্ব হওয়া উচিত সব জনগোষ্ঠীর নাগরিক অধিকার ও স্বার্থকে সমান গুরুত্ব দেওয়া।
মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সীমা কোথায়?
সরকার জানিয়েছে, বিভিন্ন খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রস্তাবিত সংজ্ঞা গ্রহণে উৎসাহিত করা হবে এবং নিজ নিজ ক্ষেত্রে এর প্রয়োগ বিবেচনা করতে বলা হবে। কিন্তু এই নির্দেশনা বাস্তবে কীভাবে কার্যকর হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পুলিশ, স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয়, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় সরকার, দাতব্য সংস্থা, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান—প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের কাজের ধরন আলাদা। একই সংজ্ঞা প্রয়োগের ক্ষেত্রে তাদের সিদ্ধান্তও ভিন্ন হতে পারে।

দক্ষিণ ওয়েলস পুলিশের একটি নির্দেশনায় কর্মকর্তাদের ইসলামের সমালোচনা বৈধ সীমা অতিক্রম করে মুসলিমদের প্রতি বৈরিতায় পরিণত হলে তা নথিভুক্ত করতে বলা হয়েছিল। প্রতিবাদের পর নির্দেশনাটি প্রত্যাহার করা হয়। ঘটনাটি দেখিয়েছে, বৈরিতা ও বৈধ সমালোচনার সীমা স্পষ্ট না হলে প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোও দ্বিধায় পড়তে পারে।
ধর্মীয় বিদ্বেষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে ইসলামসহ যেকোনো ধর্মের বিশ্বাস, মতবাদ ও সামাজিক প্রভাব নিয়ে যুক্তিসংগত সমালোচনার অধিকারও রক্ষা করতে হবে। কোনো বক্তব্যের ভাষা, উদ্দেশ্য ও প্রেক্ষাপট বিবেচনা না করে শুধু তার বিষয়বস্তুর ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিলে ভুল হওয়ার ঝুঁকি থাকে। কোনো ধর্মের অনুসারীকে হুমকি দেওয়া বা বৈষম্যের শিকার করা এবং ধর্মীয় মতবাদের সমালোচনা করা এক ধরনের আচরণ নয়।
প্রস্তাবের সমর্থকেরা যুক্তি দিতে পারেন, জাতিগত বা ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক অপরাধের ক্ষেত্রে আদালতও বৈরিতার ধারণা ব্যবহার করে। কিন্তু আদালতের ভূমিকা এবং প্রশাসনিক সংজ্ঞার প্রয়োগ এক নয়। আদালত প্রমাণ, বক্তব্যের প্রেক্ষাপট ও আইনি মানদণ্ড বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত দেয়। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে অস্পষ্ট নির্দেশনার ভিত্তিতে বৈধ সমালোচনা ও বিদ্বেষের সীমা নির্ধারণের দায়িত্ব দিলে অনিশ্চয়তা বাড়তে পারে।
তাই নতুন কোনো সংজ্ঞা বা বিশেষ প্রতিনিধি নিয়োগের আগে কয়েকটি বিষয় নিশ্চিত করা প্রয়োজন: বৈরিতার সংজ্ঞা হতে হবে নির্দিষ্ট ও সীমিত; ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে হয়রানি ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দিতে হবে; ধর্ম, মতাদর্শ ও রাজনৈতিক নীতির বৈধ সমালোচনার অধিকার অক্ষুণ্ন রাখতে হবে; এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, প্রমাণ ও আপিলের সুযোগ থাকতে হবে।
মুসলিমদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা—দুটিই গণতান্ত্রিক সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। একটিকে রক্ষা করতে গিয়ে অন্যটিকে দুর্বল করার প্রয়োজন নেই। যুক্তরাজ্য সরকারের সামনে চ্যালেঞ্জ হলো এমন একটি নীতি তৈরি করা, যা প্রকৃত বিদ্বেষের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেবে, কিন্তু ধর্মীয় বিতর্ক বা রাজনৈতিক সমালোচনাকে অযথা সীমিত করবে না। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোরও উচিত ভোটের স্বার্থে নাগরিকদের ধর্মীয় ও জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে বিভক্ত করার প্রবণতা এড়িয়ে চলা। সামাজিক সংহতি রক্ষার দায়িত্ব কেবল সরকারের নয়; তা রাজনৈতিক দল, প্রতিষ্ঠান ও নাগরিক সমাজেরও।












