পাকিস্তান প্রথমবারের মতো নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ‘ফাজ’ (Fa’az)-এর সফল উড্ডয়ন পরীক্ষা চালিয়েছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দেশটির সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা আইএসপিআর এ তথ্য জানিয়েছে। এই পরীক্ষাকে পাকিস্তানের সামরিক ও বিমান প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আইএসপিআরের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ফাজ ক্ষেপণাস্ত্রটিতে আধুনিক টার্মিনাল গাইডেন্স ব্যবস্থা রয়েছে। এর মাধ্যমে দূরপাল্লা থেকে শত্রুপক্ষের আকাশযান বা অন্যান্য নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা সম্ভব। ক্ষেপণাস্ত্রটির সফল পরীক্ষা পাকিস্তান বিমানবাহিনীর অভিযান পরিচালনার সক্ষমতা ও কৌশলগত নমনীয়তা বাড়াবে বলে দাবি করেছে সামরিক বাহিনী।
পরীক্ষার সময় ক্ষেপণাস্ত্রটির উন্নয়নকাজে যুক্ত জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা, বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীরা উপস্থিত ছিলেন। আইএসপিআর জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি, প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং তিন বাহিনীর প্রধানেরা এই সাফল্যের জন্য সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীদের অভিনন্দন জানিয়েছেন।
জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান থেকে পরীক্ষা
প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, পাকিস্তানের জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান থেকে ফাজ ক্ষেপণাস্ত্রটি নিক্ষেপ করা হচ্ছে। তবে ক্ষেপণাস্ত্রটির সুনির্দিষ্ট পাল্লা, গতি, লক্ষ্যবস্তু শনাক্তকরণ প্রযুক্তি কিংবা পরিচালনাগত সক্ষমতা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভিও এই পরীক্ষাকে দেশের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, দেশটির বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীরা আবারও এমন একটি সাফল্য অর্জন করেছেন, যা জাতির জন্য গর্বের।
এক মাসে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা
ফাজের পরীক্ষা এমন সময়ে হলো, যখন গত মাসেও পাকিস্তান দুটি ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছিল।
১৩ অক্টোবর দেশটি ফাতাহ-২ ইআর নামের বর্ধিত পাল্লার হাইপারসনিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা করে। এর আগে ফাতাহ-৪ স্থলভিত্তিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের বর্ধিত সংস্করণের পরীক্ষাও চালানো হয়।
পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর দাবি, ফাতাহ-২ ইআর উন্নত নেভিগেশন ও অ্যাভিওনিকস প্রযুক্তিতে সজ্জিত। এর গতিপথ পরিবর্তন এবং কৌশলগতভাবে চলাচলের সক্ষমতা শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে এড়িয়ে নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সহায়তা করে।
অন্যদিকে, ফাতাহ-৪ ইআর ক্ষেপণাস্ত্রটিতে উন্নত অ্যাভিওনিকস ও নেভিগেশন ব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে দূরবর্তী লক্ষ্যবস্তুতে অধিক নির্ভুলতা ও কার্যকারিতার সঙ্গে আঘাত হানার সক্ষমতা বাড়ানোর কথা জানিয়েছে পাকিস্তান।
পরপর এসব পরীক্ষার মধ্য দিয়ে নিজস্ব প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ও ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে পাকিস্তান। বিশেষ করে ফাজের সফল পরীক্ষা দেশটির বিমানবাহিনীর আকাশযুদ্ধের সক্ষমতায় নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। তবে ক্ষেপণাস্ত্রটির প্রকৃত কার্যকারিতা ও যুদ্ধক্ষেত্রে সক্ষমতা নির্ধারণে আরও প্রযুক্তিগত তথ্য এবং স্বাধীন মূল্যায়ন প্রয়োজন।












