সোমালিয়ার উপকূলে জলদস্যুদের দখলে থাকা একটি ইরানি মাছ ধরার জাহাজ উদ্ধার করেছে ভারতের নৌবাহিনী। ৪৮ ঘণ্টার বিশেষ অভিযানে ভারতীয় নৌবাহিনীর মেরিন কমান্ডোরা প্যারাশুটের মাধ্যমে সমুদ্র এলাকায় নেমে জাহাজটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেন। এ সময় জাহাজে থাকা ২০ জন নাবিককে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। অভিযানে কেউ হতাহত হননি।
উদ্ধার করা জাহাজটির নাম ‘আজিনি’। গত মাসের শুরুর দিকে সশস্ত্র জলদস্যুদের একটি দল জাহাজটি ছিনতাই করে। এরপর জাহাজটিকে ব্যবহার করে ওই অঞ্চলের আন্তর্জাতিক নৌপথে আরও জলদস্যু হামলা চালানো হতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়।
ভারতীয় নৌবাহিনীর বিবৃতি অনুযায়ী, জাহাজটি উদ্ধারে একটি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করা হয়। পাশাপাশি আকাশপথে নজরদারির জন্য ব্যবহার করা হয় একটি সামুদ্রিক পর্যবেক্ষণ বিমান। দীর্ঘ সময় নজরদারি চালিয়ে জাহাজটির অবস্থান শনাক্ত করা হয় এবং এর গতিবিধি অনুসরণ করা হয়।
জলদস্যুদের পালানোর সুযোগ বন্ধ করতে যুদ্ধজাহাজ ও নজরদারি বিমান সমন্বিতভাবে কাজ করে। জাহাজটির চলাচল সীমিত করতে এমন কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়, যাতে সরাসরি প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার না করেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
এরপর ভারতীয় বিমানবাহিনীর সি-১৭ পরিবহন বিমান থেকে বিশেষ কৌশলে প্যারাশুটের মাধ্যমে মেরিন কমান্ডোদের নামানো হয়। তাঁরা জাহাজে উঠে সেটির নিয়ন্ত্রণ নেন, জলদস্যুদের হুমকি নিষ্ক্রিয় করেন এবং ২০ জন নাবিককে উদ্ধার করেন। উদ্ধার হওয়া নাবিকদের অধিকাংশই ইরানের নাগরিক।
ভারতীয় নৌবাহিনী জানিয়েছে, এই অভিযান জটিল সামুদ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাদের প্রস্তুতি এবং বিভিন্ন বাহিনীর মধ্যে সমন্বয়ের সক্ষমতার প্রমাণ। ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা সহযোগিতা ও জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবেও অভিযানটিকে তুলে ধরেছে তারা।
এদিকে, নয়াদিল্লিতে অবস্থিত ইরানের দূতাবাস এক বিবৃতিতে ভারত সরকার, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে। ২০ জন ইরানি নাবিককে উদ্ধারে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর পেশাদারত্ব, সাহসিকতা ও সমন্বিত ভূমিকার প্রশংসা করেছে দূতাবাস।
বিবৃতিতে বলা হয়, এই মানবিক অভিযান দুই দেশের বন্ধুত্ব, সংহতি ও সহযোগিতার সম্পর্কের প্রতিফলন। সীমান্তের বাইরে মানুষের জীবন রক্ষায় ভারতের ভূমিকারও প্রশংসা করে ইরান।
জলদস্যু দমনে ভারতের আগের অভিযান
জলদস্যুদের বিরুদ্ধে ভারতীয় নৌবাহিনীর এটি প্রথম অভিযান নয়। চলতি বছরের জুলাইয়ে এডেন উপসাগরে ‘আইএনএস ত্রিকান্ড’ নামের একটি যুদ্ধজাহাজ বাণিজ্যিক জাহাজ ‘এমভি গোল্ডেন আর্সেনাল’-এর ওপর জলদস্যুদের হামলার চেষ্টা প্রতিহত করে।
সেন্ট ভিনসেন্ট অ্যান্ড দ্য গ্রেনাডাইনসের পতাকাবাহী ওই বাল্ক ক্যারিয়ারটিতে ২১ জন নাবিক ছিলেন। ইয়েমেনের এডেন বন্দর থেকে যাত্রার সময় জিবুতির উত্তর-পূর্বে প্রায় ৩০০ নটিক্যাল মাইল দূরে জাহাজটি জলদস্যুদের হামলার মুখে পড়ে।
এর আগে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৪ সালের শুরুর দিক পর্যন্ত ‘অপারেশন সংকল্প’-এর আওতায় ভারতীয় নৌবাহিনী জলদস্যুতা-সংক্রান্ত একাধিক ঘটনায় হস্তক্ষেপ করে। এসব অভিযানের মাধ্যমে ভারত মহাসাগর ও আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক নৌপথের নিরাপত্তায় নিজেদের সক্রিয় ভূমিকা তুলে ধরেছে দেশটি।












