নিম্নতম মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান নিয়োগের মাত্র তিন দিনের মাথায় পরিবর্তন এনেছে সরকার। নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিসের সদস্য সৈয়দ আজাদ সুবহানী। তিনি এত দিন পিরোজপুরের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
বুধবার (৪ নভেম্বর) আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ নিয়োগ ও বদলির আদেশ দেওয়া হয়।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শক্রমে বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিসের দুই কর্মকর্তাকে তাঁদের বর্তমান কর্মস্থল থেকে বদলি করে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁদের পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নতুন পদে দায়িত্ব পালনের কথা বলা হয়েছে।
শেখ আশফাকুর রহমানের নতুন দায়িত্ব
নিম্নতম মজুরি বোর্ডের বর্তমান চেয়ারম্যান শেখ আশফাকুর রহমানকে বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের পরিচালক (প্রশিক্ষণ) পদে বদলি করা হয়েছে। তিনি জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
অন্যদিকে, পিরোজপুরের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সৈয়দ আজাদ সুবহানীকে তাঁর স্থলাভিষিক্ত করে নিম্নতম মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বদলি হওয়া দুই কর্মকর্তাকে অবিলম্বে বর্তমান পদের দায়িত্বভার অর্পণ করে নতুন কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে আইন ও বিচার বিভাগের উপসচিব (প্রশাসন-১) ইসমেত জিহান প্রজ্ঞাপনটিতে স্বাক্ষর করেন। জনস্বার্থে এ আদেশ জারি করা হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।
১ নভেম্বর গঠিত হয়েছিল নতুন মজুরি বোর্ড
এর আগে গত ১ নভেম্বর নিম্নতম মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে শেখ আশফাকুর রহমানকে নিয়োগ দিয়ে ছয় সদস্যের নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছিল।
সেদিন সচিবালয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বোর্ড গঠনের ঘোষণা দেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। পরে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপনও জারি করা হয়।
কিন্তু বোর্ড গঠনের মাত্র তিন দিনের মাথায় চেয়ারম্যান পদে পরিবর্তন আনা হলো। নতুন আদেশের ফলে শেখ আশফাকুর রহমানের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন সৈয়দ আজাদ সুবহানী। একই সঙ্গে শেখ আশফাকুর রহমানকে বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের পরিচালক (প্রশিক্ষণ) হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
নিম্নতম মজুরি বোর্ডের নেতৃত্বে এই পরিবর্তন আইন ও বিচার বিভাগের নতুন প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে কার্যকর করা হয়েছে।












