ভারতের বিরোধী জোট ইন্ডিয়া (INDIA) ব্লকের ১ নভেম্বরের সমাবেশে অংশ না নেওয়ায় দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে যুব কংগ্রেসের ২১৫ জন পদধারীকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। দেশটির আটটি রাজ্যে এসব নেতার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছে ভারতীয় যুব কংগ্রেস (আইওয়াইসি)।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে নির্বাচনী তালিকা সংশোধনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে ওই সমাবেশের আয়োজন করেছিল কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ইন্ডিয়া। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিরোধীদের অন্যতম বড় রাজনৈতিক সমাবেশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এটি।
দলীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, সমাবেশে নেতাদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করেছিল যুব কংগ্রেস। অ্যাপের মাধ্যমে অবস্থান, সময়সূচি ও সমাবেশসংক্রান্ত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি দিল্লির মিন্টো রোডে সমাবেশের জমায়েতস্থলে বারকোড স্ক্যানারের সাহায্যে উপস্থিতি যাচাই করা হয়।
যুব কংগ্রেসের জাতীয়, রাজ্য ও জেলা পর্যায়ের সব পদধারীকে সমাবেশ এবং এর আগে আয়োজিত মিছিলে অংশ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু যারা অ্যাপে নিবন্ধন করেননি কিংবা নির্দেশনা অনুসরণ করেননি, তাদের কয়েকজনের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কংগ্রেসের এক নেতা।
৩ নভেম্বর বহিষ্কারের আদেশ জারি করা হয়। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে। যুব কংগ্রেস নেতৃত্ব অনুপস্থিতিকে সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গ হিসেবে বিবেচনা করেছে।
রাজ্যভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি বহিষ্কার করা হয়েছে মধ্যপ্রদেশে, ৬০ জনকে। গুজরাটে ৪৯, ঝাড়খণ্ডে ৩২, পশ্চিমবঙ্গে ২৬, তেলেঙ্গানায় ১৪, হিমাচল প্রদেশে ১৩, উত্তর প্রদেশের মধ্যাঞ্চলে ১১ এবং হরিয়ানায় ১০ জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
মধ্যপ্রদেশ যুব কংগ্রেস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক আদেশে জানিয়েছে, ‘ভোট চুরি সমাবেশে’ অনুপস্থিতির কারণে সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে জাতীয় নেতৃত্বের নির্দেশ অনুসারে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
গুজরাটে বহিষ্কৃতদের মধ্যে আহমেদাবাদ, আমরেলি, আনন্দ, আরাবল্লি, বানাসকাঁঠা, গান্ধীনগর, জুনাগড়, মেহসানা, পাটান ও পঞ্চমহলের জেলা সভাপতিরাও রয়েছেন।
সমাবেশের আগে দিল্লির কেন্দ্রীয় এলাকায় এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে মিছিল করেন ইন্ডিয়া জোটের নেতাকর্মীরা। পরে সমাবেশে বক্তব্য দেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে লক্ষ্য করে বলেন, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। দেশকে সঠিক পথে ফেরাতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণ করা প্রথম পদক্ষেপ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সমাবেশ শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বার্তায় রাহুল গান্ধী বলেন, বিপুল মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করে গণতন্ত্র ও সত্যের জয় হবে।
গত এক মাসে নির্বাচনসংক্রান্ত অভিযোগকে কেন্দ্র করে ভারতে বিভিন্ন স্থানে হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভ করেছেন। এ সময় দিল্লিতে মেট্রো চলাচল বন্ধ, ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন এবং নিষেধাজ্ঞা জারির মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়। অক্টোবরে প্রায় ৪০ হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করে রাজধানীকে কার্যত নিরাপত্তাবেষ্টনীতে পরিণত করা হয়েছিল। বিক্ষোভকারীদের টেনেহিঁচড়ে সরানো, মারধর ও আটক করার ঘটনাও বিতর্ক সৃষ্টি করে।












