ভারতে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা দুটি গুরুত্বপূর্ণ সংগঠনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট বন্ধ করার জন্য দিল্লি পুলিশের নামে পাঠানো নির্দেশ ভুয়া ছিল বলে জানিয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স। শুক্রবার দিল্লি হাইকোর্টে প্রতিষ্ঠানটির আইনজীবী এ তথ্য জানান। এক্সের অভ্যন্তরীণ তদন্তে নির্দেশগুলো জাল বলে প্রমাণিত হয়েছে।
যে দুটি সংগঠনের অ্যাকাউন্ট বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, সেগুলো হলো ইন্টারনেট ফ্রিডম ফাউন্ডেশন (আইএফএফ) এবং সফটওয়্যার ফ্রিডম ল সেন্টার ইন্ডিয়া (এসএফএলসি)। সংগঠন দুটি ভারতে ইন্টারনেটের স্বাধীনতা, ডিজিটাল অধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করে।
এক্সের কাছে পাঠানো নির্দেশগুলোতে দাবি করা হয়েছিল, সংগঠন দুটি হিন্দু জাতীয়তাবাদী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) মানহানি করেছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) আদর্শিক উৎস হিসেবে পরিচিত এই সংগঠন।
দিল্লি পুলিশের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার নামে এক্সের অনলাইন অভিযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে নির্দেশগুলো পাঠানো হয়েছিল। তবে তদন্তে দেখা গেছে, কেউ দিল্লি পুলিশের পরিচয় ব্যবহার করে এসব নির্দেশ পাঠিয়েছিল।
দিল্লি হাইকোর্টে এক্সের আইনজীবী বলেন, ‘দেখা গেছে, কেউ একজন প্রতারকের পরিচয় নিয়ে দিল্লি পুলিশের কর্মকর্তা সেজে এসব নির্দেশ পাঠিয়েছেন।’ বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার আগে এক্স নির্দেশগুলো সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর কাছে পাঠিয়েছিল। তবে দিল্লি পুলিশ এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
তিন ঘণ্টার মধ্যে অ্যাকাউন্ট বন্ধের নির্দেশ
জাল নির্দেশগুলোতে ভারতের এমন কিছু বিধির উল্লেখ ছিল, যেগুলোর আওতায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোকে নির্দিষ্ট অপসারণের নোটিশ পাওয়ার তিন ঘণ্টার মধ্যে ব্যবস্থা নিতে হয়।
এই নির্দেশের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আদালতের দ্বারস্থ হয় আইএফএফ। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এবং ভারতের প্রধান বিরোধী দলও নির্দেশগুলোর বৈধতা নিয়ে আপত্তি তোলে।
আইএফএফের আবেদনে বলা হয়, গত সপ্তাহে সংগঠন দুটি আরএসএসের পক্ষ থেকে পাঠানো হয়েছে বলে দাবি করা কিছু আইনি নোটিশও পেয়েছিল। এসব নোটিশে সরকারি কনটেন্ট ব্লক করার নির্দেশের সমালোচনা ও সেগুলো নথিভুক্ত করা বন্ধ করার দাবি জানানো হয়।
ভারতে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ
ভারতে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা অধিকারকর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছেন, দেশটির কঠোর অনলাইন কনটেন্ট অপসারণবিধি ভিন্নমত দমনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
অন্যদিকে ভারত সরকারের বক্তব্য, এসব নির্দেশের উদ্দেশ্য বেআইনি ও বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ করা, বৈধ মতপ্রকাশের স্বাধীনতা খর্ব করা নয়।
বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ ভারতে ১১০ কোটির বেশি ইন্টারনেট গ্রাহক রয়েছে। দেশটির ডিজিটাল পরিসরে কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ, সরকারি নির্দেশের স্বচ্ছতা এবং নাগরিকদের মতপ্রকাশের অধিকার নিয়ে বিতর্কও ক্রমাগত বাড়ছে।
এই ঘটনায় পুলিশের পরিচয় ব্যবহার করে ভুয়া নির্দেশ পাঠানোর বিষয়টি সামনে এলেও, সরকারি কনটেন্ট অপসারণের ক্ষমতা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোর দায়িত্ব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।












